অশনি সঙ্কেত! মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুকে এগিয়ে বিজেপি, বেহাল দশা অনুব্রতরও

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

নিউজ কর্নার ওয়েব ডেস্ক: লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা হতেই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। লোকসভার নিরিখে বিধানসভা-ভিত্তিক ফল পর্যালোচনার পাশাপাশি সমানে চলছে পুরসভা অথবা ওয়ার্ডওয়াড়ি বিশ্লেষণও। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে, বীরভূম তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ওয়ার্ডেও তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে বিজেপির থেকে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, বোলপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি অনুব্রতর। সেখানকার কাউন্সিলার তৃণমূলের শিবনাথ রায়। কিন্তু সেই ওয়ার্ডেই এ বার লোকসভায় তৃণমূল ভোট পেয়েছে মাত্র ১৬০০টির মতো। অন্য দিকে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ২১৬১টি ভোট। স্বাভাবিক ভাবেই ওই ওয়ার্ডটিতে তৃণমূলের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। একই অবস্থা কলকাতা পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডেও। ওই ওয়ার্ডেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তৃণমূলের রতন মালাকার। এ বারের লোকসভা ভোটে কয়েকশো ভোটে ওই ওয়ার্ডেও তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন সাংসদ সুব্রত বকসির ওয়ার্ডেও বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই বিধানসভা আসনে তৃণমূল পেয়েছে ৬১ হাজার ১৩৭টি ভোট। সেখানে বিজেপি পেয়েছে ৫৭ হাজার ৯৬৯টি ভোট। অর্থাৎ, নিজের কেন্দ্রেও কোনও রকমে তিন হাজার ১৬৮ ভোটের নামমাত্র ব্যবধানে এগিয়ে তৃণমূলনেত্রী।

অন্য দিকে বিধানসভাগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব কেন্দ্র ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে ছ’টিতেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। কলকাতা উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হলেও তাঁর কেন্দ্রের অন্তর্গত পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার, বিধায়ক স্মিতা বকসি প্রায় চার হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী মাত্র তিন বছরে ওলটপালট হয়ে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচন তো বটেই, ২০১৬ সালের শেষ বিধানসভা নির্বাচনেও গোটা রাজ্যে নিজের নিরঙ্কুশ একাধিপত্য বজায় রেখেছিল তৃণমূল। সেই নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১১টি আসনে জিতে বিরোধীদের প্রায় সাইনবোর্ডে পরিণত করে দ্বিতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন বছর আগের সেই বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৪টি আসন। বামফ্রন্টের ঝুলিতে ছিল ৩২টি আসন। আর গোটা রাজ্যে বিজেপির জুটেছিল সাকুল্যে তিনটি আসন।

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের হিসেবে অবশ্য রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পাহাড় থেকে জঙ্গল, সর্বত্রই ধস নেমেছে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে। তিন বছরের মধ্যে ২১১টি থেকে কমে ১৬৪ হয়ে গিয়েছে তাদের আসনসংখ্যা। অর্থাৎ আসন কমল ৪৭টি। অন্য দিকে তিনটি আসন থেকে বেড়ে এই মুহূর্তে রাজ্যের ১২০টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। শোচনীয় অবস্থা কংগ্রেসেরও। ৪৪ থেকে কমে তারা এগিয়ে এখন মাত্র দশটি আসনে। অন্য দিকে তিন বছর আগে রাজ্য বিধানসভায় ৩২টি আসনে জিতে কোনও রকমে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখলেও সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে রাজ্যের একটি আসনেও এগিয়ে নেই বামফ্রন্ট। এই মুহূর্তে বিধানসভা ভোট হলে এবং লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড বজায়  থাকলে রাজ্য বিধানসভায় কোনও চেয়ারই বরাদ্দ থাকবে না বামেদের জন্য।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest