‘গুজরাত দাঙ্গার পর মোদীকে দল থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন বাজপেয়ী, আটকেছিলেন আডবাণী’

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#ভোপাল: ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গুজরাতের গোধরায় সবরমতী এক্সপ্রেসে আগুন দিয়ে ৫৯ জন করসেবককে হত্য করা হয়। তার পরে গুজরাতের নানা প্রান্তে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। তখন গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দাঙ্গা থামাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য মোদীকে বরখাস্ত করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। তাঁকে সেবার বাঁচিয়েছিলেন তৎকালীন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী। তিনি নাকি হুমকি দিয়েছিলেন, মোদীকে বরখাস্ত করলে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন। প্রাক্তন বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা শুক্রবার এমনই দাবি করেন।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বোমাটি ফাটান এক সময় দেশের অর্থ মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রক সামলানো যশবন্ত। তাঁর কথায়, ‘‘গুজরাতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মোদীকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাজপেয়ী। মোদী নিজে থেকে না সরলে গুজরাত সরকারকে বরখাস্ত করা হবে, এমনটাই ছিল তাঁর পরিকল্পনা।’’ বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছেন যশবন্ত। ২০০২ সালে সেই সময় গোয়াতে চলছিল বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। যশবন্ত বলেছেন, সেই বৈঠকে মোদীকে সরানোর কথা জানাতেই বেঁকে বসেন আডবাণী। মোদীকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরালে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে পাল্টা হুমকি দেন। এর পর বাজপেয়ীর সামনে আর কিছুই করার ছিল না। আডবাণীর চাপেই তিনি মোদীকে বরখাস্ত করার রাস্তা থেকে সরে আসেন, এমনটাই দাবি করেছেন যশবন্ত।

মোদী যেভাবে রাজীব গান্ধীর সমালোচনা করছেন, তাও প্রধানমন্ত্রী পদের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয় বলে যশবন্ত মনে করেন। তাঁর মতে, ভোটের মুখে সরকারের পাঁচ বছরের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। এখন দেশের ইতিহাস নিয়ে আলোচনার সময় নয়।

পাকিস্তান প্রসঙ্গ তুলে এনে তাকে লোকসভার মূল বিষয় করে তোলাকেও তীব্র সমালোচনা করেছেন যশবন্ত সিনহা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমরা পাকিস্তানের সমতুল্য দেশ? মোদী ভারত আর পাকিস্তানকে হাইফেনের এদিক ওদিকে বসিয়েছে। কই চিনকে নিয়ে তো কোনও আলোচনা হয় না? কেন হয়না? কারণ পাকিস্তানের প্রসঙ্গ তুললে দেশের মানুষের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাবে, চিনকে নিয়ে তেমন পাবে না”।

মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য নিয়ে কারচুপি করারও অভিযোগ করেন যশবন্ত। তিনি বলেন, আগের ইউপিএ জমানায় মোট জাতীয় উৎপাদনের হার এখনকার এনডিএ জমানার চেয়ে বেশি ছিল। তাঁর মতে, এর পরে যে সরকার তৈরি হবে, সে পাবে একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি। রাজনৈতিক বিতর্কের মান নামিয়ে আনার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন যশবন্ত। তাঁর কথায়, সবাই আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী সংযত ভাষা ব্যবহার করবেন। দুঃখের বিষয়, তেমনটা ঘটছে না।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest