ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ, উত্তর কোরিয়ায় ৫ শীর্ষ কূটনীতিককে গুলি করে মারল কিম

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#সোল: ভিয়েতনামের হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তথা স্বৈরাচারী শাসক কিম জঙ উনের। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ছিল বৈঠকের মূল অ্যাজেন্ডা। সেই শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যেতে দেশের শীর্ষ কূটনীতিককেই কোতল করে দিল কিম জঙ প্রশাসন। কারণ, তিনি নাকি দেশের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। একই সঙ্গে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হল উত্তর কোরিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের আরও চার কর্তাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্র চোসান ইলবো-তে বৃহস্পতিবার রাতে এই খবর প্রকাশ হয়েছে। তা জানাজানি হতেই হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে আমেরিকা তথা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দৌত্যের জন্য এ বছরের গোড়ায় কিম হোক চোল-কে নিয়োগ করেছিল পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার অভিজাত পরিবারের সন্তান কিম হোক বরাবরই কেরিয়ার ডিপ্লোম্যাট। এর আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসাবে স্পেনে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নীতির কারণে মাদ্রিদ তাঁকে বহিষ্কার করে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্যৌত্যের জন্য তাঁর উপরে ভরসা করেছিলেন কিম জঙ।

আমেরিকার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার আলোচনার গতি মন্দ ছিল না। তা ছাড়া উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আগ্রহও অসীম। কিন্তু কূটনীতিকরা মনে করেন, পরিবর্তে উত্তর কোরিয়া অনেক কিছু চেয়ে বসছিল। তাদের উপর যে সব নিষেধাজ্ঞা আমেরিকা আরোপ করে রেখেছিল, তা প্রত্যাহারের যেমন দাবি জানায় পিয়ংইয়ং, তেমনই আবার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে যে পদক্ষেপগুলি করার কথা বলছিল তাও ওয়াশিংটনের কাছে সন্তোষজনক ছিল না। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের শীর্ষ সম্মেলন ভেস্তে যায়।

Kim Hyok Chol

চোসান ইলবো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম হোক চোল-কে মারা হয়েছে মার্চ মাসে। মিরিম বিমানবন্দরে কিম হোক ও বিদেশ মন্ত্রকের চার শীর্ষ কর্তাকে এক সারিতে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তাঁদের। তবে বাকি অফিসারদের নাম এখনও জানা যায়নি। গোটা ঘটনাই চাপা দিয়ে রেখেছে পিয়ংইয়ং। ওই বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন আমেরিকার তরফে স্টিফেন বাইগান, উত্তর কোরিয়ার তরফে সেই একই দায়িত্ব ছিল চোলের। দৈনিকটি এও জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর শীর্ষ বৈঠকে যিনি দোভাষীর কাজ করেছিলেন, সেই শিন হ্যায়ে ইয়ং তাঁর ‘বক্তব্য সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারেননি’ বলে তাঁকে পাঠানো হয়েছে পিয়ংইয়ঙের কাছে একটি বন্দি শিবিরে। ওই বৈঠকে মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পায়োর সমতুল্য যিনি ছিলেন উত্তর কোরিয়ার দায়িত্বে, পিয়ংইয়ঙের কমিউনিস্ট পার্টির সেই প্রবীণ নেতা কিম ইয়ং চোলকে পাঠানো হয়েছে শ্রম শিবিরে। ফেব্রুয়ারিতে ওই বৈঠকের শেষে ‘তা হলে সমস্যা কিছুই মিটল না’ বলে টেবিল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।

এই ঘটনা নিয়ে গোটা বিশ্বের তামাম সংবাদমাধ্যম এখন ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সক্রিয় ওয়াশিংটনও। মার্কিন সংবাদপত্রগুলির এও বক্তব্য, গত দু মাস ধরে কিম হোক চোলের নাম পিয়ংইয়ং-এর কোনও সরকারি বিবৃতিতেও দেখা যাচ্ছিল না। তা থেকে অনেকেরই সন্দেহ বাড়ছিল। উত্তর কোরিয়াকে এর জবাব দিতেই হবে।

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest