নথিতে একাধিক অসঙ্গতি, গুরুত্ব না দিয়ে অঞ্জু ঘোষকে এদেশের নাগরিক প্রমাণে মরিয়া বিজেপি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#কলকাতা: বিজেপির নতুন সদস্য অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক। সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল অঞ্জু ঘোষের বাংলাদেশ সফরের একটি ভিডিয়ো। ওই ভিডিয়োয় অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, এখান থেকে নিঃশ্বাস নিয়েছিলাম। এটা তো আমার দেশ। কিন্তু বিজেপি নাগরিকত্ব বিতর্ক চাপা দিতে একটি অঞ্জুর জন্ম শংসাপত্র পেশ করেছে। ওই শংসাপত্র অনুযায়ী, অভিনেত্রীর জন্ম হয়েছে কলকাতায়। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি তথ্য জালিয়াতি করে এদেশের নাগরিক হয়েছেন অঞ্জু ঘোষ?

বুধবার ‘বেদের মেয়ে জোৎস্না’ ছবির অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর যোগদানের পরই অভিনেত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে উঠতে শুরু করে প্রশ্ন। এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নও এড়িয়ে যান অঞ্জু ঘোষ। তৃণমূল কংগ্রেসও দাবি করে, অঞ্জু ঘোষ বাংলাদেশের নাগরিক। এমনকি উইকিপিডিয়াতেও জ্বলজ্বল করছে, অঞ্জু বাংলাদেশি অভিনেত্রী। বিতর্কের মুখে বৃহস্পতির অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যাবতীয় নথি পেশ করে বিজেপি। প্রকাশ করা হয়, তাঁর প্যান কার্ড, জন্মের শংসাপত্র ও আধার কার্ড। ০০৬৬০৮৫ নম্বরের শংসাপত্র অনুযায়ী, অঞ্জু ঘোষের জন্ম হয়েছে কলকাতার ইস্ট এন্ড নার্সিংহোমে। জন্ম তারিখ-১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬। অঞ্জু ঘোষের জন্মের শংসাপত্রের সঙ্গে আবার প্যান কার্ডের তথ্যে ধরা পড়েছে অমিল। প্যান কার্ডে জন্ম তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭। বিজেপির দেওয়া আধার কার্ডের প্রত্যয়িত নকলে জন্ম তারিখ অস্পষ্ট।

anju 0

প্রশ্ন উঠছে, ১৯৬৬ সালে যাঁর জন্ম, তাঁর জন্মের শংসাপত্র ২০০৩ সালে দেওয়া হল কেন? এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশের একাধিক খবরের কাগজের সাক্ষাৎকারে দেখা যাচ্ছে অঞ্জু বাংলাদেশকেই তাঁর ‘মাতৃভূমি’ বলে দাবি করছেন। এমনকি, একটি সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকের ভুল শুধরে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আমার জন্ম কিন্তু চট্টগ্রামে নয়, ফরিদপুরে। তবে বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে।’’ তা হলে সত্য কী? জন্মের শংসাপত্র, না কি তাঁর দেওয়া সাক্ষাৎকারের বয়ান।

e6acea39 0564 458a a5dc 4cfd31685cc8

এ ছাড়াও কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, অনলাইনে অঞ্জুর জন্মের শংসাপত্রের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে কর্পোরেশনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলছে না। একই নামে দু’টি রেজিস্ট্রেশনও পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ।অঞ্জুর যে পাসপোর্ট দেখানো হয়েছে, সেটির মেয়াদ শুরুর তারিখ ২০১৮ সালে। যে অভিনেত্রী দীর্ঘদিন বাংলাদেশ এবং ভারতে অভিনয় করেছেন, তাঁর পাসপোর্ট ২০১৮ সালের হয় কী করে? বিজেপির দাবি, এটি তাঁর শেষ জারি হওয়া পাসপোর্ট। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে তাঁর প্রথম পাসপোর্টের তথ্য কোথায়? যদি তিনি নাগরিকত্ব বদলে থাকেন, তা হলে কলকাতার জন্মের শংসাপত্র আসে কোথা থেকে? বিজেপি তাঁর যে ভোটার কার্ড দাখিল করেছে, সেটি ইস্যুর তারিখ ২০০২ সাল। অঞ্জু যদি ভারতেরই নাগরিক হবেন, তা হলে ভোটার কার্ড পেতে এত সময় লাগল কেন? তাঁর যে প্যান কার্ড দেওয়া হয়েছে, সেখানে আবার জন্ম সাল ১৯৬৭। প্রশ্ন উঠছে, এক এক জায়গায় তাঁর এক এক রকম জন্মের তারিখ কেন? বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, অঞ্জু ঘোষ ভারতের নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনের সূত্রও জানিয়েছে, বাংলাদেশি নায়িকার ভারতীয় নাগরিকত্বের বিষয়ে তাঁদের কিছু জানা নেই।

7796d303 a2b7 4e57 859e c58a0557caff

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) কর্তৃক আয়োজিত সেই সাংবাদিক সম্মেলনে দীর্ঘ ২২ বছর পর অভিনেত্রীকে ঢাকায় দেখা গিয়েছিল৷ ঢাকার সেই সাংবাদিক সম্মেলনে অঞ্জু ঘোষ খোলাখুলি জানিয়েছিলেন- “আমাকে যে এতদিন পর মনে রেখেছেন আমার অবাক লাগছে। আজকে যে আমি মাতৃভূমিতে পাড়া দিতে পেরেছি কোন উদ্দেশ্য নয়, কোন ছবি করতে আসা বা শিল্পীরা কেমন আছে তা দেখতেও নয়, আমার কাছে একটা তীর্থে পাড়া দেয়ার মতো উপলব্ধি হচ্ছে।” মাতৃভূমিতে ফেরার আবেগ তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়েছিল বারে বারে৷ অঞ্জু ঘোষ সম্পর্কে আগেই বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে লেখা হয়েছে- তাঁর আসল নাম অঞ্জলি ঘোষ৷ জন্ম ফরিদপুরে৷ চট্টগ্রামে গিয়ে মঞ্চ সফল অভিনেত্রী হিসেবে সুপরিচিত হন তিনি৷ পরে চলচ্চিত্রে নামেন৷ আশির দশকে একের পর এক বাংলাদেশি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি৷ তবে সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ সর্বকালীন লাভদায়ক ছবি হিসেবে নজির তৈরি করেছে৷

লোকসভা নির্বাচনের সময় বাংলাদেশি অভিনেতা ফিরদৌস ও গাজি নুরকে নিয়ে প্রচারের অভিযোগ ওঠে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে৷ এই বিতর্কে বিজেপির যুক্তি ছিল ভিনদেশিদের দিয়ে কী করে ভারতে রাজনৈতিক প্রচার সম্ভব ? বিতর্কের জেরে তড়িঘড়ি দুই অভিনেতাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ এবার অঞ্জু ঘোষের মতো অভিনেত্রীকে দলে টানায় তৃণমূল কংগ্রেসও বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে বিঁধতে শুরু করেছে৷ তৃণমূলের এক নেতার মন্তব্য, বিজেপি করতে গেলে জালিয়াতির গুণ থাকা আবশ্যক। অঞ্জুও তাই একেবারে উপযুক্ত দলে নাম লিখিয়েছেন। দলের প্রধানমন্ত্রী থেকে মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েই রয়েছে প্রশ্ন। রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কটাক্ষ, ‘‘দেশের মানুষ আর বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। তাই ও পার বাংলা থেকে ওদের লোক নিয়ে আসতে হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।’’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘পঞ্চাশ-ষাটের দশকে যাঁরা জন্মেছেন, তাঁদের অনেকেই সে সময় জন্মের শংসাপত্র পাননি। পরে নির্দিষ্ট নথি দেখিয়ে তাঁরা তা পুরসভা থেকে তা নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। এটা নিয়ে বিতর্ক করার অর্থ হয় না।’’ দিলীপবাবুর দাবি, উনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অভিনয় করেছেন। পরে দেশে ফিরে ভোটার কার্ড নিয়েছেন। এটাও অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়।

 

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest