ফের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ বাড়াল রাজ্য, তীব্র ক্ষোভ কর্মী মহলে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#কলকাতা: ফের বাড়ানো হল ষষ্ঠ বেতন কমিশন এর মেয়াদ। অর্থাৎ এ বছরের ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হল পে কমিশনের মেয়াদ। সোমবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ আরও বাড়ল। বিরোধী কর্মী ইউনিয়নগুলি তো বটেই, খোদ শাসক দলের ইউনিয়নও বেজায় ক্ষুব্ধ সরকারের এই সিদ্ধান্তে। পে কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকারের পদত্যাগও দাবি করেছেন শাসক দলের কর্মী ইউনিয়নের নেতারা।

২০১৫ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠিত হয়। তখন তার মেয়াদ ছিল ছ’মাস।  কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অভিরূপ সরকার। কিন্তু তার পর থেকে ছ’মাস পূর্ণ হওয়ার মাথায় এসে রিপোর্ট দিতে পারেনি কমিটি। তার জেরে দফায় দফায় বাড়তে বাড়তে প্রায় সাড়ে তিন বছরে এসে দাঁড়ায় এই কমিশনের মেয়াদ। শেষ বার যে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, তার সময়সীমা শেষের দিন ছিল সোমবার। তার আগেই আরও এক দফা মেয়াদ বাড়ায় তীব্র ক্ষোভ সরকারি কর্মচারী মহলে।

উল্লেখ্য, এ বার লোকসভা ভোটে, রাজ্যে ৪২টা কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯টা কেন্দ্রেই পোস্টাল ব্যালটের ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। মহার্ঘ ভাতা না বাড়ার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীদের নীরব প্রতিবাদ বলেই এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করেছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় শঙ্কর সিংহ বলেন, “সারা দেশের সব রাজ্য সরকার পে কমিশন- সহ ডিএ  আপডেট করে দিয়েছে। শুধু আমাদের রাজ্যেই সরকারি কর্মচারীরা দিনের পর দিন চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।” বিজয়বাবুর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেই তাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের দূরদূরান্তে বদলি করে দিচ্ছে। মঙ্গলবার টিফিনের বিরতিতে সব সরকারি দফতরে পে কমিশনের মেয়াদ ফের বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।  বিজেপির সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের বক্তব্য, ‘‘লোকসভা নির্বাচনে যে ভাবে পোস্টাল ব্যালটে সরকারি কর্মচারীরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, সেখান থেকে এরা কোনও শিক্ষাই নেয়নি। ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। খুব শীঘ্রই আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।’’ কংগ্রেসের সংগঠন কনফেডারেশনের তরফে সুবীর সাহা বলেন, ‘‘আমরা এটাই আশা করেছিলাম। কারণ, মানুষ ভুল করলে পর পর ভুল করতে থাকে। রাজ্যের ১০ লক্ষ সরকারি কর্মচারীই এ বার প্রতিবাদেনামবে। সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস— সব দলকে নিয়েই পথে নামতে হবে। সেখানে কোনও রাজনীতি থাকবে না। বেতন কমিশনের অফিস ঘেরাও করব। অভিরূপ সরকারের অফিস ঘেরাও করব আমরা। বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতেই হবে। আর কোনও উপায় নেই।’’

লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে ধারাবাহিক ভাবে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ পে কমিশন নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। পুরুলিয়ার জনসভায় এ-ও বলেন, “বাংলায় বিজেপি-র সরকার হলে, সবার আগে পে কমিশনের কাজ শেষ করবে।” বিজেপি সভাপতির কথায়, “ত্রিপুরায় সরকারে এসেই প্রথম বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ করেছে বিপ্লব দেবের সরকার।”

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest