যুদ্ধজাহাজে শ্বশুরবাড়ির লোকদের নিয়ে ছুটি কাটাতেন রাজীব গান্ধী, ফের আক্রমণ মোদীর

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#নয়াদিল্লি: পাঁচ দফা নির্বাচন শেষ। এখনও বাকি দু’‌দফা। কিন্তু তাতেই যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমালোচনা সত্ত্বেও বারংবার প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে চলেছেন তিনি। কয়েকদিন আগেই রাহুলকে আক্রমণ করতে গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘‌প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জীবন শেষ হয়েছিল ১ নম্বর দুর্নীতিপরায়ন হিসেবে।’ আর এবারও একইভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের রাস্তায় হাঁটলেন।

দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাজীবকে নিয়ে কংগ্রেসকে বিঁধতে বিঁধতে মোদী তুলে আনেন রাহুল গান্ধীর অভিযোগের কথা। বললেন, ‘‘নামদার আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, সেনাকে আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি করে ফেলেছি। কিন্তু আমি আজ জানাচ্ছি, আসলে কে সেনাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি করেছেন?’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রী শোনালেন, ‘‘রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সমুদ্র নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইএনএস-বিরাট যুদ্ধজাহাজে গোটা পরিবার নিয়ে একটি নির্জন দ্বীপে দশ দিনের ছুটি কাটাতে যান। নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকেদেরও। যুদ্ধজাহাজকে ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করেন তাঁরা! আমার প্রশ্ন হল, বিদেশিদের যুদ্ধজাহাজ তুলে কি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সমঝোতা করা হয়নি। এটা কি দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে ঝুঁকি নেওয়া নয়?’’ মোদী বলেন, ভারতীয় সেনার বিমানেও ইটালি থেকে আসা বিদেশিদের ছুটিতে নিয়ে যান। তাঁদের দেখভালের জন্য সেনার বিশেষ হেলিকপ্টারও মোতায়েন ছিল। আর শুধু রাজীব নন, নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকেই এই পারিবারিক ছুটি কাটানোর চল রয়েছে।

রামলীলায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা তখনও শেষ হয়নি, রাজীবের সপরিবার ছুটি কাটানো নিয়ে পত্র-পত্রিকায় ছাপা খবরও জানাতে শুরু করল বিজেপি। বিজেপি জানাল, ১৯৮৭ সালে লক্ষদ্বীপের বাঙ্গারাম দ্বীপে দশ দিনের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন রাজীব। সনিয়া, রাহুল, প্রিয়ঙ্কা-সহ ছিলেন সনিয়া মা, বোন, জামাইবাবুও। ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন ও তাঁদের ছেলে-মেয়েরাও। আর ছিলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন সিংহের ভাই ও তাঁর স্ত্রী। যে অর্জুনের আমলে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৫০ সালে জওহরলাল নেহরুও ‘আইএনএস দিল্লি’-তে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার সময়ে পরিবারকে নিয়ে যান। সেই জাহাজের ডেকে ছোট্ট রাজীব ও সঞ্জয়ের ছবিও পোস্ট করে বিজেপি।

মোদী ও বিজেপির এই আচমকা নতুন আক্রমণের জবাবে কংগ্রেস বলছে, আসলে পাঁচ বছরে নিজের যাবতীয় ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই আবোল-তাবোল বকছেন প্রধানমন্ত্রী। দলের নেতা পবন খেরা বলেন, ‘‘ভোট হচ্ছে ২০১৯ সালে। কেন প্রধানমন্ত্রী বার বার প্রয়াত রাজীব গান্ধীর কথা তুলছেন? কেন নেহরু-ইন্দিরাকে টেনে আনছেন? কোন আসনে ভোটে লড়ছেন তাঁরা? দরকার হলে নিজের গুরু নাথুরাম গডসের নামে ভোট লড়ুন না মোদী! দলের ইস্তাহার আর সরকারের কাজ নিয়ে ভোটে লড়ুন। হার নিশ্চিত বুঝে মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা।’’ প্রিয়ঙ্কাও বলেন, ‘‘নোটবন্দি, জিএসটি, মেয়েদের নিরাপত্তা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে দিল্লির মেয়ে হিসেবে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি। অপ্রাসঙ্গিক বিষয় তুলে নজর ঘোরাবেন না।’’

এর আগে রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করার পর দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মোদী। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষরা প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৭ জন অধ্যাপক লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে নরেন্দ্র মোদীর প্রবল সমালোচনা করেন। নিজের রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে তীব্র প্রতিবাদ জানান উত্তরপ্রদেশের আমেঠির এক যুবক। এমনকী কর্নাটকের এক বিজেপি নেতাও মোদীর এই মন্তব্যের সমালোচনা করেন। কিন্তু, তারপরেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছেন না তিনি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest