শান্তি ফেরাতে আলোচনায় বসতে চাই, মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফোনে বার্তা ইমরানের

#নয়াদিল্লি: লোকসভা ভোটের ফলাফল বেরনোর দিন টুইট করেছিলেন। রবিবার টেলিফোন করে ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বললেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চান ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে এ দিন এই খবর দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য মোদীও ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রীকে।

বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সরকারি লাইনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইমরানকে মনে করিয়ে দিয়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইটা সবার আগে লড়তে হবে দারিদ্র দূরীকরণের জন্য। এই অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য যে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা আর হিংসা বন্ধ করাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি পাক প্রধানমন্ত্রীকে সেই কথাও বলছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।’’ পরে পাক বিদেশমন্ত্রকও জানায়, মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, পুলওয়ামায় জঙ্গিহানার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। পাকিস্তানকে দেওয়া বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদা কেড়ে নেয় ভারত। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এর পর পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের সবচেয়ে বড় জঙ্গিঘাঁটিতে এয়ার স্ট্রাইক করে ভারতীয় বায়ুসেনা। তার পর সীমান্তে পাকিস্তান তত্পরতা শুরু করে। আকাশপথে ভারতকে আক্রমণের চেষ্টা করে।সেই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কখনও নরমে, কখনও গরমে ভারতকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন । কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের কাছে সেই সময় থেকে ক্রমশ কোণঠাসা হয়েছে পাকিস্তান। জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আন্তর্জাতিক জঙ্গি বলেও ঘোষণা করেছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতে ফের মোদী সরকার ক্ষমতায় আসায় চাপ বেড়েছে পাকিস্তানের উপর। কারণ, সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কড়া হতে পারে মোদী সরকার। তাই নতুন করে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন ইমরান খান।