সঙ্কটে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার, আস্থাভোট চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি বিজেপির

#ভোপাল: বুথ ফেরত সমীক্ষায় আশাব্যঞ্জক হল হওয়ার ইঙ্গিত পেয়েই যেন হঠাৎ করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বিজেপি। এ বার মধ্যপ্রদেশ সরকারকে ফেলে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা। অবিলম্বে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় আস্থা ভোটের ডাক দেওয়া হোক, রাজ্যপালের কাছে এমনই দাবি করেছে বিরোধী বিজেপি।

মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা গোপাল ভার্গব এএনআইকে বলেন, ‘‘অনেকগুলো বিষয় নিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছি আমরা। এরা (মধ্যপ্রদেশ সরকার) যেগুলোর সমাধান করতে পারছে না। আমি ঘোড়া কেনাবেচায় বিশ্বাস করি না কিন্তু আমি মনে করি এদের সময় শেষ হয়ে এসেছে এবং এদের খুব তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে হবে। আমরা রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন অবিলম্বে তিনি যাতে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার বিশেষ একটি অধিবেশনের ডাক দেন। আমরা বেশ কিছু ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করব, যার মধ্যে অন্যতম কৃষি ঋণ মকুব এবং সরকারের শক্তি।’’

মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার গড়লেও, কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির প্রাপ্ত আসনের ফারাক খুব বেশি ছিল না। একক ভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠতাও পায়নি কংগ্রেস। ২৩০টি আসনের মধ্যে ১১৪টি পেয়েছিল। আর বিজেপি পেয়েছিল ১০৯টি। তাই কমলনাথ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থেকে জল্পনা চলছিল, বিজেপি খুব তাড়াতাড়ি বিধানসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণ করে সরকার ফেলে দিতে পারে। কিন্তু লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণে এতদিন তোড়জোড় করতে দেখা যায়নি বিজেপি নেতাদের। বরং ভিতরে ভিতরে তাঁরা এর জন্য লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা।

এরকম যে কিছু হতে পারে, মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের পর তার আভাসও পাওয়া গিয়েছিল বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় মন্তব্যে। সে সময় সংবাদমাধ্যমকে কৈলাস বলেছিলেন, ‘‘লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরনোর পর কমলনাথের সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, ফল বেরনোর পর ২২ দিনও কমলনাথ মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না।’’ নির্বাচন পর্ব মিটে যাওয়ার পর দিনই সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যস্ত হওয়ার মধ্যে আরও একটি বিষয় লুকিয়ে রয়েছে, মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা। রবিবার লোকসভা নির্বাচন মিটে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণা। তার আগে বুথফেরত সমীক্ষা দেশজুড়ে এনডিএ-র ব্যাপক আসন পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। যা বিজেপির আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় বিধানসভায় যদি বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে সফল হয়, তবে বুথফেরত সমীক্ষার ফল সেই জয়কেও যথার্থতা দেবে বলে একাংশের ধারণা।