সারদা মামলা: রাজীব কুমারের রক্ষাকবচ সরিয়ে নিল সুপ্রিম কোর্ট

#নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন রাজীব কুমার। গ্রেফতার না হওয়ার যে রক্ষাকবচ শীর্ষ আদালত তাঁকে দিয়েছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হল। ফলে এরপর প্রয়োজনে সিবিআই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে পারবে। শুক্রবার সকালে এই রায় দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট সেই রক্ষাকবচ সরিয়ে নিল আদালত।

আইনজ্ঞদের মতে, এর স্পষ্ট অর্থ হল,- সিবিআই চাইলে এ বার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পারে। প্রয়োজনে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরাও করতে পারে। তবে রাজীবও চাইলে সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত আদালতে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করতে পারেন বলে এ দিন রায় দানের সময় জানিয়েছেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।

উল্লেখ্য, সারদাকাণ্ডে প্রথমে আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের নেতৃত্বে সিট গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। সিবিআই তদন্তভার নেওয়ার আগে পর্যন্ত তদন্ত চালিয়েছে রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ, সিট যখন সারদাকাণ্ডে তদন্ত করছিল, তখন প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছেন রাজীব কুমার। সিবিআইয়ের তদন্তকারীর আধিকারিকদের সঙ্গেও সহযোগিতা করেননি তিনি। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে সিবিআই। বস্তুত, কলকাতায় যখন রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছিলেন তদন্তকারীরা, তখন রীতিমতো বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে থেকে সিবিআই আধিকারিকদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শেষপর্যন্ত শিলং-এ রাজীবকে সিবিআইয়ের জেরার মুখোমুখি হতে হয়।সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে রাজীব কুমারকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছে সিবিআই। আদালতে পালটা হলফনামা দিয়ে রাজীব কুমার বলেছেন, সিবিআই যা করছে, সবটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। গত ২ মে রায় ঘোষণার কথা থাকলেও, শেষপর্যন্ত রায়দান পিছিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-র ডিভিশন বেঞ্চ।

সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় নবান্ন তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ, এর আগে সিবিআইয়ের টিম গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজীব কুমারের বাসভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে বাধা দিয়েছিল রাজ্য পুলিশ। সিবিআই অফিসারদের হেনস্তাও করা হয়েছিল। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে গিয়েছিলেন রাজীব কুমারের বাড়িতে। রাজীবকে বিশ্বের অন্যতম সেরা অফিসার বলে তকমা দিয়ে, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলে মমতা ধর্মতলায় সত্যাগ্রহে বসে পড়েছিলেন।

কিন্তু আদালতের এই রায়ই বুঝিয়ে দিল, রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে যে সব তথ্য ও প্রমাণ আদালতে পেশ করেছিল সিবিআই, তাতে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিরা সন্তুষ্ট। কেন না, সিবিআই যখন রাজীব কুমারকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার জন্য আদালতে আর্জি জানিয়েছিল তখন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বারবার বলেছিলেন, কীসের ভিত্তিতে এই দাবি আপনারা করছেন? চিটফান্ড কাণ্ডে রাজীব কুমার যে তথ্য ও প্রমাণ লোপাট করেছিলেন সে ব্যাপারে অকাট্য ও সন্তোষজনক প্রমাণ আদালতে পেশ করুক সিবিআই। প্রধান বিচারপতির ওই নির্দেশের পরই সিবিআই মুখবন্ধ খামে রাজীবের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রমাণ পেশ করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। তা একবার নয়, বেশ কয়েকবার। এবং ওই খাম হাতে পেয়ে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ একদিন শুনানির সময় তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, আপনারা (সিবিআই) যে অভিযোগ করছেন তা গুরুতর, এর পর আদালতও চোখ বুজে থাকতে পারে না।

ফলে এ দিন রায় ঘোষণার পর ধরে নেওয়া যেতে পারে সিবিআইয়ের সেই বক্তব্য যুক্তিগ্রাহ্য ও সন্তোষজনক বলে মনে করেছে সুপ্রিম কোর্ট।