সুপ্রিম রায়ে ‘এলবিডব্লিউ’ বিজেপি, কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব সেই ফিরহাদের হাতেই

কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় মমতা সরকারের। তাদের নিয়োগ করা বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরই আপাতত কলকাতা পুরসভার কাজ চালিয়ে যাবে, বলল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি এম খানউইলকর, দিনেশ মাহেশ্বরী এবং সঞ্জীব খন্নাকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। এই নিয়োগকে বেআইনি বলে করা পিটিশনকে খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 

কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে গত ৭ মে। তার এক দিন আগে, ৬ মে, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতর কলকাতা পুরসভা আইন (১৯৮০)-এর ৬৩৪ নম্বর ধারাকে হাতিয়ার করে পুরসভার কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর গঠন করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

আরও পড়ুন: করোনার থাবা এবার নবান্নেও, আক্রান্ত ২ গাড়িচালক! স্যানিটাইজ করা হচ্ছে গোটা বিল্ডিং

এদিন রাজ্য সরকারের উকিল অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন যে নির্বাচন কমিশন করোনার জেরে ভোট গ্রহণ করতে পারেনি। তারা সেটা চিঠি লিখে পাঠায়। সেই পরিস্থিতিতে যাতে পুরসভার কাজ বন্ধ না হয় তাই প্রশাসক নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। এই পরিপ্রক্ষিতে কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ দেন তিনি। 

মনু সিঙ্ঘভির দেওয়া যুক্তি মেনে নেয় শীর্ষ আদালত যে পুর পরিষেবা চালাতে হলে প্রশাসক বোর্ডের প্রয়োজন। এ কারণেই পিটিশন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। এই মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টেও। যেখানে আগামী শুনানির তারিখ ২০ জুলাই। ততদিন অবধি ফিরহাদ হাকিমরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। 

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রমণের জন্য একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনও পুরভোট করাতে অপারগ। সে কারণেই নাগরিক পরিষেবা প্রদান করার জন্য, পরবর্তী নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত ওই প্রশাসকদের বোর্ড পুরসভার কাজ চালাবে। বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেই বোর্ডের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। মেয়র পারিষদদের সদস্য করা হয় ওই বোর্ডে।

ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ে হওয়া এই মামলার শুনানির সঙ্গে যুক্ত এক আইনজীবীদের এক জন  বলেন, ‘‘শীর্ষ আদালতে এ দিন বিচারপতিরা এই ব্যাতিক্রমী সময়ে নাগরিকরা যাতে পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেন। এবং সেই পুর  পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই  প্রশাসকদের বোর্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা কার্যত স্বীকার করে নেন। তাই আবেদনকারীর মামলা খারিজ করে দেন তাঁরা।”

ফলে মামলা ফের ফিরে এল কলকাতা হাইকোর্টে। এর আগে ৭ মে শরদকুমার সিংহ রিট পিটিশন ফাইল করলে সেই মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাসে। তিনি বোর্ডকে তদারককারী বা কেয়ারটেকার হিসাবে পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।

আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার থেকেই রাস্তায় পুরোদমে বেসরকারি বাস! আপাতত থাকছে পুরনো ভাড়াই

Gmail