গোল্লায় নীতি, বাংলায় নেতা শিকারে ব্যস্ত বিজেপি, ‘মোদীত্ববাদীদের’ দাপটে কোনঠাসা ‘হিন্দুত্ববাদীরা’

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

সৈয়দ আলি মাসুদ

রাজনীতি চিরদিনই নীতিহীন গেম। কিন্তু তারপরও কিছু লোক বেইমানিটাও ইমানদারির সঙ্গে করতেন। এখন তাও শেষ। এটা নিউ ইন্ডিয়া। উন্নয়নে গুলি মারো! তার হ্যাপা অনেক। জোর দাও প্রচারে। কেবল প্রচার। খবরের মধ্যে চার আনা সত্যি থাকলেও আজকের দিনে তা বড় কথা। সাহস করে যে সব সাংবাদিক সেসব খবর পরিবেশন করেন, তিনি তারিফের যোগ্য।

হিন্দুত্বকে রাজনৈতিকভাবে সফল করতে শাহ ও মোদী যে প্রাণপাত করেছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে পুরোনোদের অভিমান হল, ‘আর কি কারও অবদান নেই ?’ সংবাদপত্র পুরনো হলে ঠোঙা হয়। কিন্তু বিজেপির বহু নেতা জন্মেই ঠোঙা। অন্তত তাদের দল তাদের সম্পর্কে তেমনটাই ভাবে। অরুণ শৌরি আগে কটাক্ষ করে বলতেন ‘আড়াই জনের সরকার’। কিন্তু অরুণ জেটলির প্রয়াণের পর এখন তা দু’জনে দাঁড়িয়েছে। শাহ ও মোদী।

শাহকে আগে রাখার কারণ হল, অনেকের দাবি সরকার বলতে সবটাই শাহ। তাঁর নির্দেশই আমলারা চলেন। ছক তিনিই বানান। মোদী আসলে পারফর্মার। ভাষণ দেওয়ার ক্ষমতা ভালো। ক্যামেরার সামনে এক্সপোজারটা ভালো। স্ক্রিপ্ট থাকলেই হয় না। পারফর্ম করতে হয়। অনেকের মতে মোদীর এই গুনটাকে আসলে কাজে লাগান অমিত শাহ।মোদী নিজেও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসেন। বরাবরই তিনি পোশাক-আশাকের ব্যাপারে কেতা-দুরস্ত। প্রধানমন্ত্রী হবার তাতে তিনি আরও জোর দেন।

622321 amit shah mukul roy

আরও পড়ুন:  ‘তৃণমূলে সবাই চোর হলে তোর বাবা কী?’, নাম না করে শুভেন্দুকে কল্যাণের জবাব

নেতারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বলেন। এটাকে আজকাল তারা দলের প্রতি নিজেদের পবিত্র দায়বদ্ধতা বলে প্রমাণ করতে চায়। জনগণ তাতে বিশেষ একটা গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এমন করে মিথ্যা বললে মানুষ সহজে ভুলতে পারে না। সে কারণেই ১৫ লক্ষ টাকার ব্যাপারটা মানুষ ভুলতে পারেনি।

নরেন্দ্র মোদীর অগ্রজ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মনে করতেন এত কথা বলা নিষ্প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর কাজ কেবল ভাষণ দেওয়া নয়। তাঁর এই ভদ্রলোক সুলভ আচরণ এদেশের বহু মানুষের পছন্দ হয়নি। তাই মোদী যখন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভাষণ শুরু করলেন, বহু লোক প্রশংসায় পঞ্চমুখ। পরে তারাই অনেক ঠোঁটে সাইলেন্সার লাগিয়ে গালি দেয়। মনমোহন সিং ভাষণে মিথ্যা বলেছেন, একথা তাঁর অতিবড় রাজনৈতিক শত্রুও বলতে পারবে না। ঠিক তেমনই মোদী বাবু ভাষণে আগাগোড়া সত্য পরিসংখ্যান দিয়েছেন, একথা তাঁর অতিবড় মিত্রও বলতে বলতে পারবে না।

তবে অর্ধসত্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ, গেরুয়া রঙা দেশাত্মবোধ, বিশেষ বিশেষ জায়গায় মাথা নিচু করে নিজের মহত্ব প্রচার ,সব মিলিয়ে মোদী এমন একটা প্রোডাক্ট দেশের মার্কেটে ছেড়েছেন, যা কাটছে ভালোই। অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। সব মিলিয়ে যে রাজনৌতিক সংস্কৃতি নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে সামনে এসেছে তাকে বলা যেতে পারে ‘মোদীত্ব’। যার চাপে পুরনো আরএসএসের লোকেদেরও হাল খারপ। আদবানি, জোশি কিংবা প্রবীণ তোগারিয়ারা এই মোদীত্বেই কোনঠাসা ।

801724 tmc arjun singh bjp

আরএসএস বহু দিন ধরে রয়েছে। এদের মধ্যে ধর্মীয় সংকীর্ণতা থাকে ভালোরকমই । তাকেই তারা দেশপ্রেম মনে করে। এরা হিন্দু রাষ্ট্রের কথা বলে। মুসলিমরা সংখ্যায় তাদের ছাড়িয়ে যাবে বলে আতংকিত হয়। মুসলিমদের এরা খাটো চোখে দেখে। এরা গীতা পাঠ করে বলে মনে হয় না। যারা সাভারকার , গোলওয়ালকার কিংবা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের বিদ্বেষ নির্দেশকে শিরধার্য মনে করে, তারা গীতা পাঠ করতে যাবেন কোন যুক্তিতে? কিন্তু এসবের পরেও বলতে হয় তারা কপট নয়। তারা অনেকেই বিদ্বেষকে ধর্ম জ্ঞান করে এসেছে। কিন্তু মিথ্যাচারের অনুশীলটা তাদের মধ্যে কম। রাজনীতিতে ‘সব চলে’ বলে যে দুর্নীতির অবাধ অনুপ্রেবশ তাকে আরএসএস আগে এমন করে অনুমোদন করেনি।

মোদীত্বে বিজেপির সবথেকে চোখে পড়ার মত জিনিস হল, ‘নীতি বলে কিছু হয় না’। সবটাই নীতিহীন। আদর্শহীন । যেকোনও উপায়ে ক্ষমতা দখলই মূল কথা। তাহলেই পুঁজির সঙ্গে থাকা যাবে। তাই সব দলের দুর্নীতিগ্রস্ত অথচ যার ভোট বাজারে দর রয়েছে তেমন নেতাদের কিনে নিচ্ছে বিজেপি। অন্য দলে থাকালীন যাদের সকল সন্ধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরক্ত করত, তারা বিজেপিতে গেলে সব মাফ। বিজেপির দরকার কুরসী। তাই দলের পুরোনো নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে, কোথাওবা গুরুত্ব কমিয়ে দিয়ে অন্য দলের লোকেদের ঢোকাচ্ছেন অমিত শাহ। বাংলার দিকে নজর করলে আরএসএসের সঙ্গে মোদিত্বের ফারাকটা নজরে আসবে।

ভাগ মুকুল ভাগ বলে একজনের স্লোগান খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। মনে আছে নিশ্চয়। তাঁর নাম ছিল সিদ্ধার্থনাথ সিং। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর নাতি তিনি। আজকাল সেই অর্থে অনেকটাই সাইডলাইনে। যোগী মন্ত্রিসভার মন্ত্রী। ব্যাস। মুকুল ভেগে যে পদ্মে বসবে তিনি বোঝেননি। কেবল দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন নেতা নয়, দুর্নীতির ফুটেজ আছে এমন নেতাতেও তাদের আপত্তি নেই। এমন নেতা শিকারে বাংলায় মাঝে মাঝেই আসছেন শাহ-নাড্ডারা। শুভেন্দু বলেছেন, তিনি সেই 2014 থেকে অমিত শাহদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। এর থেকে তাঁর রাজনৈতিক নৈতিকতার আঁচ করা কী খুব কঠিন? এমন নেতা শিকারের বেড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা। তাদের মৃগয়াক্ষেত্র এখন বাংলা।

সিবিআইয়ের হুড়কো থেকে পরিত্রাণ পেতে এই নেতারাও বিজেপিতে যাচ্ছেন। সবটাই  ‘গিভ এণ্ড টেক’ ব্যাপার। ভাবতে পারেন? অটল বিহারি বাজপেয়ী কোনওদিন বলছেন, ‘বিরোধী দলের ৪৫ জন নেতা আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন!’ অথচ একথা অবলীলায় বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রকাশ্যে। মিডিয়ার সামনে। লোকসভার ঠিক পরে। এরপরও মোদীর দল দাবি করে তারা সৎ। মিডিয়া মতান্তরে ‘মোদীয়া’ অমিতশাহের এই ‘চোরা নেতা শিকারকে’ চাণক্য নীতি বলে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এটা বহু সিনিয়র আরএসএস নেতার পছন্দ নয়। আসলে আরএসএস নেতারা হিন্দুত্ব দেখেছেন। কিন্তু হিন্দুত্বকে ক্যাশ করা এমন মোদীত্ব দেখেছেন কি?

আরও পড়ুন: যোগীরাজ্যে এবার ভুয়ো ‘লাভ জেহাদ’! মুসলিম যুবককে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা তরুণীর

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest