Which are some best romantic novels in Bengali?

Best Bengali Romantic Novels: বাংলা সাহিত্যে ১০ সেরা প্রেমের উপন্যাস (প্রথম পর্ব )

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

আপনি জিজ্ঞেস করেন যে বাংলা সাহিয়তের শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস কোনটি (Best Bengali Romantic Novels), তাহলে এক কথায় তার জবাব দেওয়া খুব মুশকিল। কারণ বাংলা প্রেমের গল্প এত বেশি লেখা হয়েছে আর প্রতিটি প্রেমের গল্পই নিজের মতো করে পাঠককে আকর্ষণ করে যে ‘সেরা বাংলা প্রেমের উপন্যাস’ বলে যেকোনোও একটি বা দুটি উপন্যাসকে (Bengali Novels) চিহ্নিত করা অসম্ভব। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহ, সুচিত্রা ভট্টাচার্য – অনেকেই ভালবাসার গল্প লিখেছেন। আমরা চেষ্টা করলাম বাংলা সাহিত্যের দশটি শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাসের সংকলন নথিবদ্ধ করার।

১. শেষের কবিতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় উপন্যাসটি, ভালাবাসা কিন্তু স্বইচ্ছায় বিচ্ছেদের কাহিনী শেষের কবিতা। শেষের পরেও যেমন কিছু কবিতা আমাদের অন্তরকে ভাবায় তেমনই দুটি চরিত্র হলো অমিত এবং লাবণ্য। জনপ্রিয় এই উপন্যাসে কবিতাগুলির ভাষাগত শৈলী অপূর্ব। অমিত লাবণ্যের প্রেম ধরা দিয়েও ধরা দেয়নি। উপন্যাসিকের আধুনিকতা, সৌন্দর্য চেতনার বহিঃপ্রকাশ উপন্যাসটির ছত্রে ছত্রে বিরাজমান।

২. মেমসাহেব

নিমাই ভট্টাচার্যের লেখা ‘মেম সাহেব’ একটি অনবদ্য প্রেমের উপন্যাস। উপন্যাসের নায়ক বাচ্চু, নায়িকা মেমসাহেব। বাচ্চুর মনে মেমসাহেবের প্রতি নিষ্ঠা, ভালোবাসা, মেমসাহেবকে হারিয়ে ফেলার কষ্ট, যন্ত্রনা ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে দোলা বৌদিকে লেখা চিঠির মধ্য দিয়ে।

৩. চোখের বালি

চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট উপন্যাস গুলির মধ্যে অন্যতম। উপন্যাসের বিনোদিনী চরিত্রের রূপান্তরের মধ্যে নানা পর্যায়ে দেখা গেছে। বিনোদিনীর মহেন্দ্র প্রতি আকর্ষণ, বিকর্ষণ বিহারীর প্রতি আত্মনিবেদন, আত্মসমর্পণ তার পূজায় বিনোদিনীর প্রেম পূর্ণতা লাভ করে।

৪. চন্দ্রশেখর

১৮৭৫ সালে প্রকাশিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোমান্সধর্মী উপন্যাস গুলির মধ্যে অন্যতম চন্দ্রশেখর প্রতাপ এবং শৈবলিনী বাল্য প্রনয়ের অভিসম্পাত কিভাবে তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে, শৈবলিনী এবং প্রতাপের ভালোবাসা, শৈবলিনীর প্রতি চন্দ্রশেখরে ভালোবাসা কর্তব্যপরায়নতা প্রভৃতি নিয়ে গড়ে উঠেছে অসামান্য এই প্রেমের উপন্যাসটি।

৫. পরিণীতা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পরিণীতা’ উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়। কলকাতার পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসটি অবলম্বনে হিন্দি, বাংলা, তামিল ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ললিতা এবং শেখর এর প্রেম, জটিলতা এবং প্রেম পূর্ণতা পাওয়া নিয়ে এই উপন্যাসটি রচিত।

আরও পড়ুন: World Book Day: আরও বেশি যত্নে থাকুক প্রিয় বইগুলো

৬. দেবদাস

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘দেবদাস’ বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়ধর্মী উপন্যাস। ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয় উপন্যাসটি। এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য দেবদাস পার্বতীর প্রেম, পারিবারিক কারনে তাদের বিচ্ছেদ, পার্বতীর ভুবন চৌধুরীর সহিত বিবাহ, দেবদাসের পার্বতীর বিরহে মদ্যপান, আসক্তি, শরীরের অবনতি, এর পর দেবদাস জীবনের অন্তিম মুহূর্তে পার্বতীর বাড়ির সামনে যায় এবং সেখানে দেবদাস এর মৃত্যু হয়।

দেবদাস এর মৃত্যুর খবর পেয়ে পার্বতী দেবদাস কে দেখতে ছুটে যায় কিন্তু তার বাড়ির লোকেরা তাকে চৌকাঠ অতিক্রম করতে দেয় না। সমাজের নিষ্ঠুরতায় কিভাবে সত্যিকারের ভালোবাসা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং উভয়ের জীবন বিবর্ণ হয়ে যায় এই উপন্যাসে প্রেমের সেই দিকটি উঠে এসেছে।

৭. শবনম

বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে মুগ্ধকর এক প্রেমের উপন্যাস সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’। মজনূন এবং শবনম এর প্রেম কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে। শবনম তুর্কী বংশোদ্ভূত আফগান ধনী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা, এবং মজনূন এক বাঙালি যুবক।

8. হলুদ বসন্ত

বুদ্ধদেব বসুর লেখা ‘হলুদ বসন্ত’ উপন্যাসে রোমান্টিকতার এক অনন্য রূপ প্রকাশিত। এই উপন্যাসের নায়ক ঋজু তার বন্ধুর বোন নয়না কে ভালোবাসে। তাদের অনুভূতি, অন্তর্দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসে প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যাসের বিখ্যাত একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হল –

” ভালোলাগা আর ভালোবাসার পার্থক্য টা কোথায়? ভালো লাগলে মানুষ সেই ভালো লাগাকে তার ইচ্ছাধীন করে রাখতে পারে, কিন্তু ভালবাসলে মানুষ নিজেই সেই ভালোবাসার ইচ্ছাধীন হয়ে থাকে। তার নিজের কোনো নিজস্ব সত্তা থাকে না। ভালোবাসা তাকে যা বলে পোষা পুষ্যির মতো সে তাই করে।”

৯. কবি

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক অনন্য উপন্যাস ‘কবি’। এক অন্য মাত্রার প্রেমের কাহিনী চিত্রিত হয়েছে এই উপন্যাসে। ডাকাত বংশের ছেলে নিতাই একজন কবিয়াল, বিবাহিত ঠাকুরঝির সাথে তার প্রণয় এবং সামাজিক পরিস্থিতির কারনে তাদের বিচ্ছেদ, ঠাকুরজিকে ছেড়ে গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার পর নিতাই এর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে বসন্তর। নিতাইএর জীবনে তার একটি স্থান গড়ে ওঠে। কিন্তু বসন্ত এবং ঠাকুরঝি দুজনেই মারা যায়। নিতাইয়ের ভালোবাসা রয়ে যায় অসম্পূর্ণ।

১০. তিথিডোর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বুদ্ধদেব বসুর লেখা ‘তিথিডোর’ একটি অসামান্য উপন্যাস, এবং তার লেখা উপন্যাস গুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠতর বলা যায়। মধ্যবিত্ত জীবনের প্রেম, দ্বন্দ্ব নিঃসঙ্গতার এক অসামান্য মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে বুদ্ধদেব বসুর ‘তিথিডোর’ উপন্যাসে। স্বাতীর এবং সত্যেনের নিঃসঙ্গতা, তাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ দুঃখ, একাকীত্ব প্রকৃতি ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে।

আরও পড়ুন: বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক Dan Brown -এর সেরা ৫ বই

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest