Sadia Siddiqui, a student from Maldaha, came first in High Madrasa examination

সারিফা নয়, মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষায় ৭৯৭ নম্বর পেয়ে প্রথম সুজাপুরের সাদিয়া

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

মুর্শিদাবাদের সারিফা খাতুন নয়, মালদার সাদিয়া সিদ্দিকাই এবারে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছে মাদ্রাসা বোর্ডের দশম শ্রেনীর পরীক্ষায়। কারন সারিফার থেকে সাদিয়ার প্রাপ্ত নম্বর বেশি। তবে সেটা বড় কোনও ব্যবধান নয়, সারিফার থেকে মাত্র ২ নম্বর বেশি পেয়েছে সাদিয়া।

গতকালই জানা গিয়েছিল, রাজ্যের মাদ্রাসা স্কুলগুলির মধ্যে প্রথম হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মুনিরিয়া গার্লস হাই মাদ্রাসার ছাত্রী সারিফা খাতুন। দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় ৮০০-র মধ্যে তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৯৫। কিন্তু এদিন জানা গিয়েছে, মালদা জেলার সুজাপুর এলাকার নয়মৌজা সুরভানিয়া হাই মাদ্রাসার ছাত্রী সাদিয়া সিদ্দিকা ৭৯৭ নম্বর পেয়ে বাংলায় প্রথম হয়েছে।

মালদা জেলার সদর মহকুমার সুজাপুর এলাকার দেরদুহাজী পাড়ায় বাড়ি সিদ্দিকার। তার বাবা রুহুল ইসলাম স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে সাদিয়ায় বড়। সাদিয়া বাংলাতে পেয়েছে পাক্কা ১০০ নম্বর, ইংরেজিতে পেয়েছে ৯৯, অঙ্কে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ১০০, জীবন বিজ্ঞানেও ১০০।  ভুগোল আর ইতিহাসেও তাঁর প্রাপ্ত নমর ৯৯। ইসলাম পরিচয়ে সে পেয়েছে ১০০।

একত্রিশ বছর আগে মহম্মদ রুহুল ইসলাম মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম হয়েছিলেন। এ বারে সেই বোর্ডের একই পরীক্ষায় সব থেকে বেশি নম্বর পেল তাঁর মেয়ে সাদিয়া সিদ্দিকা। সেই একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মালদহের সুজাপুর নয়মৌজা সুবহানিয়া হাই মাদ্রাসার ছাত্রী সে। অন্য সময়ে বিরাট কোহালি থেকে ছোটা ভীম নিয়ে মজে থাকা কিশোরী মেয়েটি, খুনসুটি করে তার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু পড়ার সময়ে তার মতো মনোযোগী খুব কমই আছে, বলছেন তারই শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাই বরাবরই ভাল ফল করেছে সাদিয়া।

আরও পড়ুন: সমস্যা নেই স্নাতক স্তরে, UGC-র নির্দেশিকায় প্রশ্ন বাংলায় স্নাতকোত্তরে ভরতি নিয়ে

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আদিল হোসেন বলেন, ‘‘সাদিয়া বরাবরই ক্লাসে প্রথম হত। আমার বিশ্বাস, পরীক্ষা হলে রাজ্যের মেধা তালিকায় এমনই জায়গায় সাদিয়া থাকত।’’ বাবা সুজাপুরের বালুপুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অভাব অনটনে তিনি স্নাতক হওয়ার পরে পড়াশোনা ছেড়ে কাজের খোঁজে নেমেছিলেন। এত দিন বাবার কাছেই সব বিষয় পড়ত সাদিয়া, গৃহশিক্ষক ছিলেন শুধু ইংরেজিতে। মাদ্রাসার সামনে বিরাট চত্বরে দাঁড়িয়ে এ দিন বাবার মুখে হাসি ধরে না। সমানে ফোন আসছে মোবাইলে। তার মধ্যেই এক ফাঁকে জানিয়ে গেলেন, মেয়ে যত দূর পড়তে চায়, তিনি পড়াবেন। মেয়ে কী হতে চায়? সাদিয়া বলে, সে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ হতে চায়।

উল্লেখ্য, এবার হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৫২ হাজার ৭৬৪ জন। এদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৫০ এবং ছাত্রী সংখ্যা ৩৬ হাজার ৯১৪ জন। হাই মাদ্রাসায় পাশের হার এবার ১০০ শতাংশ। গতবার মোট পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৮৯৮। ছাত্র সংখ্যা ছিল ১৩৮২৫ এবং ছাত্রী ৩২০৭৩। পাশের হার ছিল ৮৬.১৫ শতাংশ। ছাত্রদের পাশের হার ছিল ৮৯.৭৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাশের হার ৮৪.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এবার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গেল।

পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে আলিম ও ফাজিল পরীক্ষার ফলাফলও। সেখানেও পাশের হার এবার ১০০ শতাংশ। আলিমে এবার মোট পরীক্ষা দেন ১২ হাজার ১৮৬ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪১১ এবং ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭৭৫ জন। অন্যদিকে ফাজিলে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৫ হাজার ৫৭৪ জন।

আরও পড়ুন: Kolkata Police Jobs: কলকাতা পুলিশে সাব ইনস্পেক্টর ও সার্জেন্ট নিয়োগ, রইল লিঙ্ক

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest