আজ ফোকাস-এ

নিম্নমানের সুতো দিয়ে ৩ বার সেলাই, এনআরএসে মৃত্যু দশদিনের শিশুর,আক্ৰান্ত আরও ২৩

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

কলকাতা: ফের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শিরোনামে এনআরএস হাসপাতাল । এবার অভিযোগ, নিম্নমানের সুতো দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয় শিশুর। তার ফলে কমপক্ষে তিনবার সুতো ছিঁড়ে যায়। পরিজনদের অস্ত্রোপচারের জন্য সুতোও কিনে দিতে বলা হয় বলেও অভিযোগ। আর এই সমস্ত ধকল সহ্য করতে না পেরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মাত্র দশ দিন বয়সের শিশুটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধেতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ১৭ তারিখে বসিরহাট হাসপাতালে জন্ম হয় মোর্তজা হোসেনের ছেলের। জন্মের পরই জানা যায় শিশুটির মূত্রনালিতে একটি ছোট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। বাদুরিয়ার মোর্তজা কলকাতার সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরের দিন মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার হয় হাসপাতালের সুতো দিয়ে। শনিবার সেই সেলাই কেটে যায় বলে জানতে পারে হোসেন পরিবার।

চিকিৎসকের থেকে জানতে চাইলে মোর্তজা জানতে পারেন সুতো নিম্ন মানের, সমস্যা সুতোয়, তাই ফের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন।  শনিবারই ফের অস্ত্রোপচার করা হয় শুধুমাত্র সেলাইয়ের জন্য। শনিবার থেকেই প্রেডিয়াট্রিকের সার্জারি বিভাগে ফের রাখা হয় সদ্যজাতকে। বুধবার ফের সুতোর জন্য সেলাই কেটে যায়। মোর্তজা কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ হয়ে নতুন সুতো কিনে নেনে। সেই সুতো দোকান থেকে কিনতে মাত্র খরচ হয় ১২৯ টাকা। সেই সুতো দিয়ে বুধবার ফের অস্ত্রোপচার হয়, অস্ত্রোপচার সফল হলেও সদ্যোজাতের শারিরীক অবস্থা খারাপ হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা ২৫ মিনিটে মারা যায় দশদিনের সদ্যজাত। মোর্তজা বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি করে হোসেন পরিবার।

পরিবারের অভিযোগ, কমদামি নিম্নমানের সুতো ব্যবহার করার কারণেই মৃত্যু হয়েছে একরত্তির। কেন একই ক্ষতস্থানে পরপর তিনবার সেলাই করলেন চিকিৎসকরা, উঠছে সেই প্রশ্ন। এছাড়াও কেন অস্ত্রোপচারের পর সেলাই করার সময় নিম্নমানের সুতো ব্যবহার করা হল, ইতিমধ্যে সেই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। সাধারণত, অস্ত্রোপচারের পর সেলাই করার জন্য প্রয়োজনীয় সুতো হাসপাতালেই মজুত থাকে। তা সত্ত্বেও কেন শিশুর পরিজনদের সুতো কিনে আনার কথা বলা হল, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র শিশুর প্রাণরক্ষার তাগিদেই সেলাইয়ের সুতো কিনে দিতে বলা হয়েছিল পরিজনদের। যে সংস্থা সুতো সরবরাহ করে, এই ঘটনার পর তাদের খোঁজ চালাচ্ছে এনআরএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুধু বাদুড়িয়ার সদ্যোজাত নয়, জানা গিয়েছে, এনআরএস-এ সুতো কাণ্ডের শিকার আরও অনেকেই। খেলতে খেলতে চোট পায় হুগলির বাসিন্দা ৮ বছরের শেখ শামিম। সেলাই করে বাড়ি নিয়ে যায় পরিবার। সেলাই কাটাও হয়ে যায়। সমস্যা শুরু হয় তারপর। সারা দেহে ছড়ায় সংক্রমণ।

এনআরএস-এ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে যাদবপুরের সদ্যোজাতও। অভিযোগ, সেখানেও বার বার নিজে থেকে খুলে যায় সেলাই। মলদ্বার না থাকায় অপারেশন হয় ১৩ দিনের সদ্যোজাতের। সেলাই খুলে যাওয়ায় বাইরে থেকে সুতো কিনে আনার পরামর্শ দেন ডাক্তার। সে সুতোর দাম নেয় হাজার টাকার ওপর। হাসপাতালেরই একটি সূত্র জানাচ্ছে, এনআরএস-এ যে সুতো ব্যবহার হয়, তা কেনা হয়েছিল মাত্র ৬০ টাকায়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest