ইরফানহীন এক বছর! ফিরে দেখা এই ব্যতিক্রমী অভিনেতার জীবন…

সাড়ে দিন দশকের লম্বা কেরিয়ারে ৮৭ ছবিতে অভিনয় করেছেন ইরফান খান। জীবদ্দশায় বহু স্বীকৃতি বহু সম্মান পেয়েছেন। মৃত্যুর পরেও তা থেমে থাকেনি।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

ইরফান খান মানেই কঠিন চরিত্রও সাবলীলভাবে পর্দায় ফুটে উঠা, ইরফান খান মানে কখনও ‘মকবুল’ আবার কখনও ‘পান সিং তোমার’ হয়ে উঠা। কোনও বাঁধা ধরা গণ্ডিতে আটকে রাখা যায়নি তাঁকে। বলিউড পেরিয়ে সূদূর হলিউডেও নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। ইরফান খান প্রকৃতঅর্থেই এক ব্যক্তিক্রমী অভিনেতা। আজ প্রয়াত অভিনেতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

হিরোসুলভ লুক ছিল না কিন্তু অভিনেতা কী জিনিস তা ইরফান খান বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর সাড়ে তিন দশক লম্বা কেরিয়ারে। ঠিক এবছর আগে আজকের দিনেই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে এই অসম্ভব প্রতিভাশালী অভিনেতার জীবন থমকে গিয়েছে, তবে ইরফান আজও তাঁর অনুরাগীদের হৃদয়জুজড়ে রয়েছেন।

১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি জন্মেছিলেন সাহাবজাদে ইরফান আলি খান। রাজস্থানের জয়পুরে জন্ম অভিনেতার। ছোটবেলায় অভিনয় নয় ক্রিকেট খেলাই ছিল ইরফানের প্রথম ভালোবাসা।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Irrfan (@irrfan)

১৯৮৪ সালে ন্যাশান্যাল স্কুল অফ ড্রামায় সুযোগ পান ইরফান খান। এই ঘটনাই পুরোদস্তুর পাল্টে দিয়েছিল ইরফানের জীবন।

আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে মুম্বইতে এসে টেলিভিশনে অভিনয় কেরিয়ার শুরু করেন ইরফান। চাণক্য, ভারত এক খোঁজ, সারা জাহান হামার’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন ইরফান। নিয়মিত থিয়েটারেও কাজ করছেন।

ইরফানের কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালক মীরা নায়ার। ১৯৮৮ সালে এই হলিউড পরিচালকের সালাম বম্বে ছবিতে অভিনয় করেন ইরফান। অস্কার মনোনীত এই ছবির সঙ্গেই রূপোলি সফর শুরু অভিনেতার। অন্যধারার ছবির পরিচিত নাম হয়ে উঠেন ইরফান খান।

নয়ের দশকেও মেনস্ট্রিম বলিউড ছবি থেকে দূরেই ছিলেন ইরফান খান। ২০০৩ সালে বিশাল ভরদ্বাজের মকবুল ছবিতে অভিনয় করে সংবাদ শিরোনামে আসেন ইরফান। শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথের ভারতীয় অ্যাডাপশন এই ছবি।

২০০৪ সালে প্রথমবার মেনস্ট্রিম ছবিতে লিড রোলে অভিনয় করেন ইরফান। ছবির নাম ছিল ‘রোগ’ (Rog)। এই বছরই হাসিল ছবিতে অভিনয়ের জন্য খলনায়ক হিসাবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান ইরফান খান।

অনুরাগ বসুর ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ (Life in a Metro) ছবিতে ইরফানের অভিনয় সাড়া ফেলেছিল। কঙ্কনার সঙ্গে ইরফানের কেমিস্ট্রি নজরে আসে সকলের। ২০০৭ সালে মুক্তি পায় এই ছবি।

এরপর বলিউডের পাশাপাশি সমানতালে হলিউড ছবিতেও অভিনয় শুরু করেন ইরফান। ২০০৮ সালে অস্কার জয়ী ছবি স্লামডগ মিলিয়নিয়ারে অভিনয় করেন ইরফান খান।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Irrfan (@irrfan)

‘লাইফ অফ পাই’,’জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য আমেজিং স্পাইডারম্যান’, ‘ইনফার্নো’র মতো হলিউড ছবিতে অভিনয় করেছেন ইরফান খান।

আরও পড়ুন: ‘মানুষের কাজ করতে আসা’ বিজেপি-তৃণমূল তারকা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ফাঁস, হইচই নেটমাধ্যমে

২০১১ সালে ভারত সরকারের তরফে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়।

২ বছর পর মুক্তি পায় ইরফানের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি লাঞ্চ বক্স। এই ছবি কান চলচ্চিত্র উত্সবে পুরস্কৃত হয়। ছিনিয়ে নেয় বাফটা মনোনয়ন।

২০১৭ সালে মুক্তি পায় ইরফান খান অভিনীত হিন্দি মিডিয়াম এবং করিব করিব সিঙ্গল। হিন্দি মিডিয়াম ছবির সঙ্গে ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন ইরফান খান।

২০১৫ সালে সুজিত সরকারে পিকু ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ও দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন নেন ইরফান। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রাখেন ইরফান

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরফান খানের নিউরো এন্ডোক্রিন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসে, এরপর দীর্ঘ সময় লন্ডনে চিকিত্সা চলেছে ইরফান খানের।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Irrfan (@irrfan)

২০১৯ সালের এপ্রিলে ভারতে ফিরেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা।নিয়মিত চিকিত্সার মধ্যেই ছিলেন ইরফান খান, তবে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের জগতেও কামব্যাক করেন তিনি। ইরফানের শেষ ছবি ছিল ‘আংরেজি মিডিয়াম’, যা মুক্তি পেয়েছিল ২০২০-র মার্চে। অর্থাত্ ইরফানের মৃত্যুর একমাস আগে।

ইরফান রেখে গিয়েছে তাঁর স্ত্রী সুতপা শিকদার ও দুই পুত্র- বাবিল আর আয়ানকে। বাবার পথে হেঁটে শীঘ্রই অভিনয়ের দুনিয়ায় পা রাখছেন বাবিল। তাঁর প্রথম ছবি, নেটফ্লিক্সের আসন্ন ছবি ‘কালা’।

সাড়ে দিন দশকের লম্বা কেরিয়ারে ৮৭ ছবিতে অভিনয় করেছেন ইরফান খান। জীবদ্দশায় বহু স্বীকৃতি বহু সম্মান পেয়েছেন। মৃত্যুর পরেও তা থেমে থাকেনি। গত রবিবারই অস্কারের মঞ্চে শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হয়েছে ইরফান খানকে। চলতি বছর ফিল্মফেয়ারের মঞ্চেও সেরা অভিনেতার(মরণোত্তর) সম্মান গিয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এইভাবেই আজীবন লক্ষ লক্ষ গুণমুগ্ধ অনুরাগীর মনে বেঁচে থাকবেন এই শিল্পী।

আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত ‘রানীমা’, ভ্যাকসিন নিয়েও সংক্রামিত দিতিপ্রিয়ার বাবা-মা

 

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest