চিরসবুজ…চিরনতুন…শুভ জন্মদিন মেরিলিন মনরো, রইল কিছু অদেখা ছবি…

ওয়েব ডেস্ক: সৌন্দর্য আর যৌন আবেদনের এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন ক্ষণজন্মা অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো। হলিউডের বিউটি কুইন হিসেবে পরিচিত মেরিলিন ছিলেন একেধারে অভিনেত্রী, গায়িকা এবং মডেল। ৫০ এর দশকের সেক্স সিম্বল এই নায়িকা এখনও যৌন আবেদনময়ীদের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছেন এবং  আজও পৃথিবীর অসংখ্য সিনেমাপ্রেমী মানুষের কাছে তিনি আকাঙ্খিত এবং স্মরণীয়।

সারা বিশ্ব যার সৌন্দর্যে তোলপাড়, সেই মেরিলিন মনরোর প্রথম জীবন ছিল নানা দুঃখে কষ্টে পরিপূর্ণ। ১ জুন ১৯২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার মূল নাম ছিল নর্মা জেন মর্টেনসন। তার মায়ের নাম গ্লাডিস পার্ল বেকার। তিনি ছিলেন গ্লাডিসের তৃতীয় সন্তান। এছাড়া মনরোর এক বোন ছিল। ছোটবেলায় এতিমখানা ও বিভিন্ন পালক পরিবারের মধ্যে থেকে মনরো বড় হন।

01 1

নিজের ছোটবেলা সম্পর্কে এক সাক্ষাতকারে মনরো বলেছিলেন, আমার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন থেকে আমার অভিনয় করতে ভালো লাগতো। আমার আশাপাশের পরিবেশ আমার ভালো লাগতো না। আমার মনে হতো সবকিছুই কেমন যেন অস্বচ্ছ। সেজন্য আমি মনে মনে স্টেজ বানাতাম এবং অভিনয় করতাম। আমার কাছে মনে হতো, সেখানে আমি আমার মত করে সীমানা নির্ধারণ করতে পারি। যখন আমি সত্যি জানলাম, অভিনয় বলে আসলেই কিছু আছে, তখন আমি অনেক খুশি হই। আমার মনে হয়, এটাই সেটা যা আমি হতে চাই। আমার অনেক পালক পরিবার আমাকে প্রায়ই সিনেমা হলে নিয়ে যেতেন। বড় পর্দার সামনে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আমি বসে থাকতাম। আমার সত্যিই সেই পর্দাকে ভালো লাগতো।

১৯ জুন ১৯৪২, মাত্র ষোল বছর বয়সে মনরো প্রথমবারের মতো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন জিম ডগার্থির সঙ্গে। ১৯৪৫ সালে মনরো কারখানার চাকুরী ছেড়ে দিয়ে পুরোদমে আলোকচিত্রী কনোভার ও তার বন্ধুদের জন্য কাজ করতে থাকেন। একই বছর আগস্টে মনরো ব্লু বুক এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ছিপছিপে শরীর আর আভিজাত্যপূর্ণ চেহারার কারণে তিনি মিডিয়ায় বেশ নজর কাড়েন। মূলত তিনি ফ্যাশন ম্যাগাজিন, বিজ্ঞাপন ও ছেলেদের ফ্যাশন ম্যাগাজিনে কাজ করতেন। ১৯৪৬ সালের শুরু দিকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যধধানে তিনি ৩৩ টি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান পান। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পাজিয়েন্ট, লাফ, ইউএস ক্যামেরা, পিক ইত্যাদি।

02 1

১৯৪৬ সালটি মনরোর জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়। এসময় তিনি তার চুলকে আকর্ষণীয় করতে কোঁকড়া চুলকে স্ট্রেইট করেন এবং স্বর্ণকেশী হন। মেরিলিন মনরো নাম নিয়ে চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হন। ১৯৪৭ সালে ‘টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্স স্টুডিও’র সাথে চুক্তিবদ্ধ হন মনরো এবং দুটি ছবিতে তাকে প্রথমবারের মত দেখা যায়, যদিও তা খুবই অল্প সময়ের জন্য। এরপর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি আর। পরবর্তীতে কলম্বিয়া পিকচারসের সাথে কাজ করেন। কিন্তু তারাও খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি।

১৯৫০ সালে ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ফক্স স্টুডিও থেকে পুনরায় ডাক পান। তারপরের গল্প এক উজ্জ্বল ইতিহাস। লক্ষ মানুষের স্বপ্নের নায়িকা হয়ে ওঠেন তিনি। ফক্স স্টুডিওর সাথে আরও সাত বছরের চুক্তিতে আবদ্ধ হন।

03 1

জন হাস্টন পরিচালিত ‘দ্য এসপল্ট জঙ্গল’ (১৯৫০) এ একটি ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন মনরো। ১৯৫৩ সালে তিনি ‘টেকনিকালার’, ‘ফিল্ম নয়ার’ ও ‘নায়াগ্রা’তে অভিনয় করেন। এসব ছবিতে মনরোকে মূলত এক যৌন আবেদনময়ী হিসেবে দেখানো হয়। তবে ‘নায়াগ্রা’তে অভিনয় করে মনরো ব্যাপক সাড়া ফেলেন। সারাহ চার্চওয়েল নামে এক বিশ্লেষক বলেন, ‘নায়াগ্রাতে’ মনরোর চরিত্রটি ছিল যৌনতায় পরিপূর্ণ। এই ছবিতে বেশির ভাগ দৃশ্যে মনরো পাতলা কাগজের শিট অথবা টাওয়েল পরিধেয় অবস্থায় যা তখনকার দর্শকদের মনে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে। 

‘নায়াগ্রা’ মুক্তি পাওয়ার পর তখনকার নারী ক্লাবে ছবিটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে মনরোকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যদিও ছবিটি দর্শক জনপ্রিয়তা পায় এবং বক্স অফিসে ৬ মিলিয়ন আয় করে। এরই মধ্যে মনরো তার খোলামেলা পোশাক নিয়ে বেশ নিন্দিত হন। একই বছর ‘ফটোপ্লে অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তাকে সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। যদিও এই অনুষ্ঠানে তার পোশাক নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল।

05 1

স্যাটায়ারধর্মী মিউজিক্যাল ছবি ‘জেন্টলম্যান প্রেফার ব্লন্ডস’ (১৯৫৩) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথমবারের মত সাড়া ফেলেন এবং সাফল্যের সিঁড়িতে পা রাখেন। এই ছবির মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো তার অভিনয় দ্বারা সব শ্রেণীর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। বক্স অফিসে এই ছবির আয় ছিল ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন যা তার প্রোডাকশন খরচের দ্বিগুণ। প্রথমবার মনরোকে নিয়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে। ১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মনরো প্রথমবারের মত টিভিতে অভিনয় করা শুরু করেন, ‘বেনি শো’ নামে ঐ টিভি সিরিজে তিনি একজন ফ্যান্টাসি নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন।

আরও পড়ুন: স্টেশনে শুয়ে থাকা মৃত মায়ের শিশুর দায়িত্ব নিলেন শাহরুখ খান,বললেন ‘মা হারানোর কষ্ট আমি জানি’

একই বছর নভেম্বরে মুক্তি পায় মনরোর তৃতীয় ছবি ‘হাউ টু মেরি এ মিলনিয়ার’, যেখানে তিনি একজন মডেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিতে তার চরিত্রটি ছিল কীভাবে মেয়েরা কৌশলে কোটিপতিদের বিয়ে করে। ছবিটি মনরোকে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দেয়, বক্স অফিসে এই ছবির আয় ছিল ৮ মিলিয়ন ডলার! একই বছর ডিসেম্বরে ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা করেন এই তারকা।

04 1

১৯৫৪ সালে শুরু হয়  ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ এই ছবির শ্যুটিং। এর জন্য ম্যানহাটনের একটি সাবওয়েতে অপেক্ষা করছিলেন মনরো। এসময় বাতাসে তার সেই বিখ্যাত সাদা স্কার্ট উড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি রেকর্ড করা হয়। সেই দৃশ্য স্টেশনে অপেক্ষা করা প্রায় ২০০০ যাত্রী উপভোগ করেছিলেন। ১৯৫৭ সালে মুক্তি পায় তার এই বিখ্যাত ছবি ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’৷

১৯৫৬ সালের মার্চ মাসে মনরো অনুষ্ঠানিভাবে নিজের নাম বদলিয়ে মেরিলিন মনরো করেন। সেই বছর ২৯ জুন তিনি আর্থার মিলানের সাথে তৃতীয়বারের মতো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। 

06 1

১৯৫৬ সালে তিনি ড্রামা সিনেমা ‘বাস স্টপ’ এ অভিনয় করেন। এই নাটকের মাধ্যমে তিনি তার গ্ল্যামার অবয়ব থেকে বেরিয়ে আসেন। এই ছবির পরিচালক নোলান যিনি মনরোর অভিনয় নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত ছিলেন তিনি তার মত বদলান। এসময় নোলান মনরোকে চার্লি চাপলিন’ এর সাথে তুলনা করেন যিনি একই সাথে কমেডি আর ট্র্যাজেডির সম্মিলন ঘটিয়েছেন। এই ছবিটি বক্স অফিসে প্রায় সাড়ে ৪ মিলিয়ন আয় করে।

একই বছর আগস্ট মাসে মনরোর প্রোডাকশন হাউস থেকে প্রথমবারের মত প্রযোজনা করা হয় ছবি-‘দ্য প্রিন্স এন্ড দ্য শোগার্ল’। এ ছবিটি করার সময় মনরো অনেক বেশ ড্রাগ আসক্ত হয়ে পড়েন এবং শিডিউলে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। আমেরিকায় ছবিটি নিয়ে মিশ্র মন্তব্য এলেও ইউরোপে ছবিটি বেশ প্রসার লাভ করে। এই চলচ্চিত্রের জন্য মনরো বাফটা অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পান। তাছাড়া ইতালি ও ফ্রান্সে দুইটি পুরস্কার লাভ করেন। 

এরপর বেশ কিছুদিন মনরো পারিবারিক জীবন অতিবাহিত করেন। জানা যায়, এসময় তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন কিন্তু গর্ভকালীন জটিলয়তায় তিনি আর সন্তান প্রসব করতে পারেননি।

07 1

১৯৫৯ সালে তিনি আবার চলচ্চিত্রে আসেন ‘সাম লাইক ইট হট’ ছবির মধ্য দিয়ে। স্যাটায়ার ধর্মী এ চলচ্চিত্রে মনরো একজন গায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চান। এই ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ‘গোল্ডেন গ্লোব’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

১৯৬১ সালে মনরোর সর্বশেষ ছবি ‘দ্য মিসফিট’ মুক্তি পায়। এটি ছিল অ্যাডভেঞ্চার ও ড্রামা ভিত্তিক ছবি। ছবিটি বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।

28831410 8357309 In the auctioned snaps which were estimated at 7 000 the star ap m 54 1590490366620

১৯৬২ সালে একটি ক্যালেন্ডারে তার নগ্ন ছবি প্রকাশিত হয়৷ স্বাভাবিকভাবেই এটা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে৷ সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কিছু পরিনি তা ঠিক নয়, তবে একটি রেডিও তো ধরেছিলাম আমি ৷ ১৯৬২ সালের মে মাসে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির জন্মদিনে আমন্ত্রিত হন এবং  সেখানে গান গেয়ে তার বিখ্যাত পারফরম্যান্সটি দেন যা আজও স্মরণীয়।

49 Nude Pictures Of Marilyn Monroe Which Will Make You Succumb To Her

মৃত্যু:

১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট মাত্র ৩৬ বছর বয়সী মেরিলিন মনরোর মৃতদেহ লস অ্যাঞ্জেলসে তার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। অনেকেই মনে করেন, মেরিলিনকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ড্রাগ ওভারডোজকে উল্লেখ করা হয়। মেরিলিন মনরোকে সমাধিস্থ করা হয় তার সেই ঐতিহাসিকটি পোশাকটি পরিয়ে, যা সামলাতে তিনি ম্যানহাটন স্টেশনে হিমশিম খেয়েছিলেন। এই বছর নায়িকার জন্ম শতবার্ষিকী।

আরও পড়ুন: কানামাছি খেলা শেষ…ইরফানের পাশেই চিরঘুমে ওয়াজিদ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভাই সাজিদ

Gmail 3