Shakuntala Devi review: আরো একবার অভিনয়ে ঝড় তুললেন বিদ্যা, কিন্তু খামতি রয়ে গেল গল্পে, দেখুন ভিডিও

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

একজন প্রথিতযশা গণিতজ্ঞ। বিশ্বের কাছে তিনি একজন জিনিয়াস। অবলীলায় কষে ফেলেন জটিল অঙ্কের ধাঁধা, কিউব রুটের সমাধান, ত্রিকোণমিতি কিম্বা জ্যামিতির সমস্ত রহস্য ভেদ করে ফেলেন চোখের পলক ফেলার আগেই। বিশ্বের কাছে তাঁর পরিচয় ছিল একটাই, ‘মানব-কম্পিউটার’। সেই শকুন্তলা দেবীর জনসমক্ষের ব্যক্তিত্ব অনেকেরই চেনা, তবে ব্যক্তিগত জীবনে কেমন ছিলেন তিনি, তা নিয়েই গল্পের বুনোট বেঁধেছেন পরিচালক অনু মেনন।

শকুন্তলা দেবীর জীবনের সময়ের গল্প বলতে গিয়ে শুরুতেই ডিসক্লেমার দিয়েছেন পরিচালক, “গল্পের বিষয়বস্তু বাস্তব জীবনের থেকে সংগৃহীত, তবে এটা কোনোভাবেই ব্যক্তিবিশেষের উপর ডকুমেন্টারি নয়।” শকুন্তলা দেবীর আত্মজা অনুপমা বন্দোপাধ্যায়ের গল্পের খুঁটিনাটি জুড়েছেন পরিচালক, তারপরেও এই ডিসক্লেমার? তাহলে কি পরিচালকের নিজের গল্প বলার উপরেই আস্থা নেই নাকি এটা ‘মৌলিক স্বাধীনতা’!

বিদ্যা বালান পর্দায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন বিখ্যাত চরিত্রকে। একজন গণিত জিনিয়াসই নন শকুন্তলা দেবী বাস্তব জীবনেও একজন স্বাধীনচেতা, দৃঢ় মানসিকতা সম্পন্ন ছিলেন। শৈশবেই তাঁর প্রতিভা টের পেয়ে বাবার হাত ধরে একের পর এক শো-এ হাজির হতেন তিনি। সেই কারণে স্বাভাবিক শৈশব উপভোগ করতে পারেননি। তবে ঠিক করে নিয়েছিলেন, জীবনে “বড়ি আউরত নয়, বড়ি আদমি” হবেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘আমি ডন, বয়ফ্রেন্ডকে কন্ট্রোলে রেখে টাকা উসুল করতে জানি’, ভাইরাল রিয়া চক্রবর্তীর ভিডিয়ো

শৈশবে যেমন স্বাভাবিকত্ব অর্জন করতে পারেননি। সেই বহমানতা রয়ে গিয়েছে বাকি জীবনেও। ইংল্যান্ড পর্বেই যেমন! অচেনা দেশে অন্য একসেন্টে, অদ্ভুত পোশাকে শিক্ষা-জীবন কাটিয়েছেন। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় এক পুরুষের সঙ্গে। তবে শকুন্তলা দেবী যেন বুঝতে পারেন, পুরুষ-সর্বস্ব দুনিয়ায় পুরুষের ছোঁয়াচ বাঁচিয়েই তিনি এগোতে পারবেন। একাই তিনি সুখী। এই একাকীত্বের দৃঢ়তাতেই শকুন্তলা দেবী যেন অনন্যা।

এরপর সাংসারিক জীবন। যীশু সেনগুপ্তের সঙ্গে আলাপ পরিণয় এবং স্ত্রী-জীবন। তারপর মাতৃত্ব। সাংসারিক জীবনের নাগপাশে বাঁধা পড়লেও তিনি ছিলেন স্বকীয়তায় ভরপুর। এরপর গল্প অনেকটা টার্ন নেয় মা-কন্যার টানাপোড়নের দিকে।

দেখুন রিভিউ ভিডিও…

সংখ্যায় তাঁর পরিচয়। সংখ্যায় বাঁচতেন তিনি। তার অভিভাবক যেন সংখ্যাই। সেই সংখ্যা তার জীবন জুড়েই। ছবিতে অল্প হলেও দেখানো হয়েছে রাজনৈতিক সত্ত্বাও। লোকসভায় মেদক আসনে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। এদেশে হোমোসেক্সসুয়ালিটির পথ প্রদর্শক ও বলা হয় তাঁকে। ৭০-এর দশকে যখন সমকামিতা নিয়ে ভাবাও বারণ, তখন তিনি লিখে ছিলেন এ ওয়ার্ল্ড অফ হোমোসেক্সসুয়াল। এই বিষয়টিও ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে সিনেমাতে।

কিন্তু সবটাই যেন ওপর ওপর। ২ ঘন্টা কিছু মিনিটের এই সিনেমা তে ঘটনার এতো বেশি ঘনঘটা যে কোন কিছুই সেভাবে ছাপ ফেলতে পারেনা দর্শক মনে। আর বলিউড বায়োপিকের চেনা ছক ভেঙে বেরোতেও পারেনা শকুন্তলা দেবী। গল্পের প্রথম অর্ধে উত্থান, মাঝখানে সমস্যা, যে সমস্যা অতি অবশই বাহ্যিক আর তারপর সব ঠিক হয়ে যাওয়া।

পর্দায় বিদ্যা বালানের সঙ্গে সহ অভিনেতা হিসাব সকলেই যথাযথ। শকুন্তলা দেবীর কন্যা হিসাবে সানিয়া মালহোত্রা, স্বামী হিসাবে যীশু সেনগুপ্ত, এবং অমিত সাধও নিজেদের চরিত্র ভালভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সিনেমাটাই আসলে বিদ্যা বালান শো। পোশাক-আষাক থেকে ম্যানারিজম- বিদ্যাই যেন বাস্তবের ‘বিদ্যা’দেবী।

আরও পড়ুন: আবারও টলিপাড়ায় করোনার হানা! ‘কৃষ্ণকলি’, ‘কনে বউ’-এর সেটে, আক্রান্ত ভিভান, নেহা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest