চিকিৎসায় বিশেষ সাড়া দিচ্ছেন না সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা ক্রমেই আরও খারাপের দিকে এগোচ্ছে। চিকিত্‍সায় সাড়া দিচ্ছেন না। গত ৬ অক্টোবর থেকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছেন সৌমিত্র। প্রথমে তাঁর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে ১৪ অক্টোবর করোনা নেগেটিভ হওয়ায় নন-কোভিড আইটিইউ-তে রাখা হয় সৌমিত্রকে।

সৌমিত্রর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল টিমের প্রধান অরিন্দম কর বলেন, ‘গত ৭২ ঘণ্টায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থার অবনতি হয়েছে। ঠিক কোন দিকে পরিস্থিতি এগোচ্ছে, এখনই তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা ওঁর শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্টগুলি খতিয়ে দেখছি। স্টেরয়েড দেওয়া সহ একাধিক চিকিত্‍সা করেও উনি চিকিত্‍সায় সাড়া দিচ্ছেন না। যদিও ওঁর অর্গ্যানগুলি ঠিকঠাক কাজ করছে। প্লেটলেট কাউন্ট কমে যাচ্ছে। রক্তে ইউরিয়া ও সোডিয়াম লেভেল বেড়ে গিয়েছে।’

আরও পড়ুন : হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরলেন কপিল দেব

তিনি আরও জানিয়েছেন, সৌমিত্রর ফুসফুস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। সেটাই ভাচ্ছে। প্লেটলেট কাউন্ট কমছে। কেন এরকম হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন ডাক্তাররা। আগামিকাল অর্থাত্‍ সোমবার কিছু কড়া সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘আমরা সেরা চেষ্টা করছি। তবে এই বয়সে এতগুলি অসুখে অনেক সময় সেরা চেষ্টাতেও ফল মেলে না।’

তাঁর স্নায়ুর সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। বয়স বেশি। তার ওপর কো-মর্বিডিটি। তাই বড় চ্যালেঞ্জ চিকিত্‍সকদের।গত ৬ অক্টোবর থেকে হাসপাতালে ভরতি আছেন ৮৫ বছরের অভিনেতা। মাঝে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। গত সপ্তাহে তাঁর করোনাভাইরাস রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। তবে তাঁর স্নায়বিক অবস্থা নিয়ে উত্‍কণ্ঠা ছিল। তারইমধ্যে আবারও উদ্বেগ বেড়েছে। অরিন্দমবাবু বলেন, ‘আমরা সবরকমভাবে চেষ্টা করছি। কিন্তু কখনও কখনও কারোর ক্ষেত্রে সেই চেষ্টা যথেষ্ট নয়। যিনি এই বয়সে রোগে ভুগছেন।’

আরও পড়ুন : ‘নো এন্ট্রি জোনে’ অঞ্জলি, আইনি চিঠি যাচ্ছে নুসরত – সৃজিতের কাছে