রহস্যে ভরপুর! আসছে সৃজিতের নয়া ওয়েব সিরিজ় ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’

The News Nest:  কিছু কিছু সাহিত্য থাকে, যা পড়লেই মনে হয় সিরিজ় তৈরির জন্য একেবারে আদর্শ। যেমন বাংলাদেশি লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ উপন্যাসটি। জনপ্রিয় এই উপন্যাসটি নিয়ে ওয়েব সিরিজ় করতে চলেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। হইচই প্ল্যাটফর্মে আসবে সিরিজ়টি।

প্রথমেই ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ উপন্যাসটি সম্পর্কে কিছু কথা বলা যাক। লেখক এখানে ছবির মতো সুন্দর এক মফস্বল শহর সুন্দরপুরের কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে রয়েছে অনেক রহস্য। সেসব রহস্য সম্পর্কে সুন্দরপুরের মানুষজন জানে খুব কমই। এ গ্রামেরই একটি রেস্তোরাঁর নাম ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’। রবীন্দ্রনাথ কি সত্যিই কখনো এখানে খেতে আসেননি, নাকি এসেছিলেন? আর কেনই বা রেস্তোরাঁর নাম রাখা হলো রবীন্দ্রনাথের নামে? সেসব আপনাকে হয় উপন্যাস পড়ে বা সৃজিতের সিরিজ দেখে জানতে হবে!

আরও পড়ুন: ঘোষণার পরও আটকে গেল লকডাউন পরবর্তী প্রথম বাংলা ছবির শুটিং

l53C9yZDSaDsiAWv Go Bangla Books

 

এই সুন্দরপুরের জমিদার বাড়িতেই থাকত উপন্যাসের সেই রহস্যময়ী নারী। নাম তার মুশকান জুবেরি। শুরুতে মুশকান ছিল ঢাকার এক হাসপাতালের ডাক্তার। তারপর বিশেষ এক কারণে সে ডাক্তারি ছেড়ে দেয়। ডাক্তারি ছেড়ে সুন্দরপুরে এসে এই রেস্তোরাঁটি চালানো শুরু করে। তার হাতের রান্না খেতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন মানুষ এসে ভিড় করত। খাবারগুলোর স্বাদ অসাধারণ। যে খায়, সে-ই মুগ্ধ হয়ে যায়, কারণ এত মজাদার খাবার এর আগে তারা কেউই কখনো খায়নি। মুশকান রান্নার সময় এক বিশেষ উপাদান মিশিয়ে দিত সব খাবারে। এ কারণেই খাবারগুলো খেতে এত ভালো হতো। কিন্তু সেই উপাদান সম্পর্কে সে ছাড়া রেস্তোরাঁর অন্য কেউই জানত না।

তারপর হঠাৎ একদিন এক আগন্তুক এসে হাজির হয় সুন্দরপুরে। তার নাম নুরে ছফা। তার গতিবিধি ছিল অস্পষ্ট আর রহস্যময়। সুুুন্দরপুুুরে এসে ছফা মুশকানের এই রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করে। এজন্য সে সাহায্য নেয় আতর আলী নামের একজনের। আতর আলী ছিল সুন্দরপুর থানার প্রাক্তন ইনফর্মার। তার কাছে গ্রামের সব ধরনের খবর থাকত। শুরুতে নুরে ছফা নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও শেষে সবাই জেনে যায়- সে আসলে সাংবাদিক নয়, বরং ডিবির একজন ইনভেস্টিগেটর। প্রধানমন্ত্রীর পিএস-এর অনুরোধে ছফা সুন্দরপুরে যায় একটি কেসের তদন্তের কাজে।

ছফা সেখানে যাওয়ার পর অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে। অনেকদিন পর সে অবশ্য রহস্য অনেকটাই উদঘাটন করতে পেরেছিল, এবং তখনই সে মুশকানকে ধরতে তার বাড়িতে চলে যায়। মুশকান তখন মোটামুটি সবকিছুই স্বীকার করে ছফার কাছে। কিন্তু শেষমেশ সে এক বিশেষ বুদ্ধি খাটিয়ে পালিয়ে যায় সুন্দরপুর থেকে। কী সেই রহস্য? কীভাবেই বা মুশকান পালিয়ে যায় সুন্দরপুর থেকে? আর রান্নায় কী বিশেষ উপাদান মেশাত সে? কেনই বা মুশকান ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছিল? সব রহস্যের উদ্ঘাটন হবে পর্দায়!

এই সিরিজ়ে দুই বাংলার অভিনেতারাই থাকবেন। মুখ্য ভূমিকায় আছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী পরীমনি, কাহিনির মুশকান জুবেরীর চরিত্রটা তিনিই করছেন। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী, মোশারফ করিম এবং টলিউডের অনির্বাণ ভট্টাচার্য। এর আগে মুশকান জুবেরীর চরিত্রর জন্য জয়া আহসানের নাম ভাবা হয়েছিল। উপন্যাসের লেখকের কাছ থেকে সৃজিত পরামর্শ চাইলে তিনিও জয়াকে নেওয়ার কথাই বলেন। তবে বিশেষ কারণে এই সিরিজ়ে জয়ার বদলে পরীমনিকে নেওয়া হবে ঠিক হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাতৃবিয়োগের পরদিনই শুটিংয়ে কাঞ্চন মল্লিক, অভিনেতাকে কুর্নিশ টলিপাড়ার