‘বিষ খাইয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে রিয়া-ই’, গ্রেফতারির দাবি সুশান্তের বাবার

এ বার বলিউডের অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের দাবি তুললেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা কেকে সিং। রিয়াই তাঁর ছেলের খুনি বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘আমার ছেলেকে বিষ খাইয়েছে রিয়া।’

সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “রিয়াই আমার ছেলেকে খুন করেছে বিষ খাইয়ে। একটা লম্বা সময় ধরে সুশান্তকে ও বিষ খাইয়ে গিয়েছে।” পাশপাশি এই ঘটনায় রিয়া এবং তাঁর সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন কেকেসিং। তাঁর এই দাবির কিছু সময় আগেই একই কথা শোনা যায় সুশান্তের দিদি শ্বেতা সিং কীর্তির গলায়। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে করা পোস্টে অপরাধীদের অবিলম্বে হেফাজতে নেওয়ার দাবি তোলেন তিনি। তিনি লিখেছিলেন, ‘যে মানুষগুলো ওই নৃশংসতম অপরাধ করেছে, তারা কী ভাবে মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে? আমার জবাব চাই। অবিলম্বে তাদের হেফাজতে নেওয়া উচিত। #ArrestCulpritsOfSSR।’

আরও পড়ুন: Breaking: আমাদের সন্তান আসছে! ভক্তদের চমকে দিয়ে ঘোষণা বিরুষ্কার

গত দু’দিন ধরেই রিয়া এবং মাদক চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগের কথা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল গোটা দেশ। নিষিদ্ধ মাদক সঙ্গে রাখা, সেবন করা এবং পাচারের মতো একগুচ্ছ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করেছে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল বুরো। রিয়া এবং এক মাদক পাচারকারী গৌরবের কথোপকথনও প্রকাশ্যে এসেছে। প্রকাশ্যে এসেছে রিয়া এবং তাঁর ট্যালেন্ট ম্যানেজার জয়া সাহার এক  ব্যক্তিগত কথোপকথন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জয়া রিয়াকে লিখছেন, “সুশান্তের চায়ে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে দাও”। কী মেশাতে বলেছিলেন তিনি? কেনই বা গৌরবের কাছ থেকে এমডি (এক শক্তিশালী মাদক)-র খোঁজ করেছিলেন রিয়া তা খতিয়ে দেখছে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল বুরো।

ইডি, সিবিআইয়ের পাশাপাশি এবার এই মামলায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোও যোগ দিয়েছে। তিন তিনটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামায় একপ্রকার সাঁড়াশি চাপের মুখে রিয়া এবং তাঁর পরিবার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডিআরডিও গেস্ট হাউজে নারকোটিক্স বিভাগ জেরা করছে সিদ্ধার্থ পিঠানি, নীরাজ সিং ও রজত মেওয়াতিকে। ডাকা হয়েছে সুশান্তের বাড়ির ওয়াচম্যানকেও। ওদিকে সিবিআই গেস্ট হাউজে হাজির রিয়ার ভাই শৌভিক চক্রবর্তীও। তাঁর কতটা যোগ ছিল মাদকচক্রের সঙ্গে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রিয়ার বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তীকে তলব করেছে ইডি। কিছু নথিপত্র ও রিয়ার লকারের চাবি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে তাঁকে। সান্তাক্রুজ পুলিশ স্টেশনে যান ইন্দ্রজিৎ। সিদ্ধার্থ পিঠানিকেও আবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে ইডি। পাশাপাশি নারকোটিক্স বিভাগের কর্তারা মাদক ব্যবসায়ী গৌরব এরিয়ার খোঁজে গোয়ায় গিয়েছেন। গৌরবের সঙ্গে রিয়ার চ্যাট প্রকাশ্যে আসার পরই রিয়ার মাদক চক্রের সঙ্গে যোগের কথা জানা যায়। তবে গৌরবের ফোন বন্ধ রয়েছে। তাই গোয়াতে তাঁর একাধিক রেস্তোরাঁ ও বাড়িতে হানা দিচ্ছে এনসিবি কর্তারা। পুনেতে গৌরবের বাড়িতে এনসিবির অন্য একটি টিম গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: বাথরুমে তোয়ালে পরে ‘মিরর সেলফি’! ইনস্টাগ্রামে উষ্ণতা ছড়ালেন মন্দানা করিমি