করোনার বিপদ এড়িয়ে কীভাবে দুর্গা পুজোর আনন্দে মাতবেন? গাইডলাইন প্রকাশ রাজ্যের

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কড়া নিয়ম মেনে আয়োজন করতে হবে দুর্গাপুজোর। পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠকে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার প্রকাশিত হল তার প্রশাসনিক নির্দেশিকা। ১১ দফা নির্দেশিকায় প্যান্ডাল তৈরি থেকে বিসর্জনের বিধিনিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, কী কী করতে হবে আর কী করা যাবে না।

  • প্যান্ডেল খোলামেলা করেত হবে৷ চারপাশ খোলা রাখতেই হবে৷ চারপাশ ঘেরা থাকলে মণ্ডপের ছাদ খোলা রাখতে হবে যাতে হাওয়া চলাচল করতে পারে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা কমে৷
  • প্যান্ডেলে ঢোকা এবং বেরনোর রাস্তা আলাদা করতে হবে৷ প্যান্ডেলের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দর্শনার্থীদের দাঁড়ানোর জায়গা চিহ্নত করে দিতে হবে৷ প্যান্ডেলের মধ্য বা মণ্ডপ চত্বরে কোথাও ভিড় করা চলবে না৷
  • দর্শনার্থীদের এবং মণ্ডপ চত্বরে থাকা প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক৷ কেউ মাস্ক পরে না এলে পুজো মণ্ডপে প্রবেশের আগেই তাঁদের মাস্ক দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে পুজোর উদ্যোক্তাদের৷
  • একই ভাবে স্যানিটাইজারের ব্যবহারও বাধ্যতামূলক৷ প্যান্ডেল প্রবেশে বেশ কিছুটা আগে দর্শনার্থীদের স্যানিটাইজার দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে৷
  • ভিড় সামলাতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে বেশি সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে৷ এদের জন্য মাস্ক, স্যানিটাইজার, ফেস শিল্ড দিতে হবে৷
  • অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ এবং সিঁদুরখেলার আয়োজন এমন ভাবে করতে হবে যাতে একসঙ্গে বেশি মানুষ জড়ো না হন৷ ছোট ছোট দলে ছোট ছোট দলে ভাগ করে অঞ্জলির আয়োজন করতে হবে৷ প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুরখেলার ক্ষেত্রেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷

আরও পড়ুন: রাজ্যের মুখ্যসচিব হচ্ছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন

  • অঞ্জলির ফুল – বেলপাতা নিয়ে যেতে হবে বাড়ি থেকে। মণ্ডপ থেকে তা বিলি করা চলবে না। পুরোহিতকে আঞ্জলির মন্ত্র লাউড স্পিকারে পড়তে হবে। যাতে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তরাও তা শুনতে পান।
  • পুজো প্যান্ডেল চত্বরে বা কাছাকাছি কোথাও কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না৷
  • পুজো কমিটি সাউন্ড সিস্টেমে করোনা বিধি সম্পর্কে লাগাতার প্রচার চালাতে হবে।
  • শারদ সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব কম সংখ্যক বিচারক নিয়ে পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়া সারতে হবে৷ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মণ্ডপ, প্রতিমা দেখে পুরস্কার দেওয়ার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে৷ একান্তই মণ্ডপে গিয়ে পুরস্কার দিলে একসঙ্গে বিচারকদের সর্বোচ্চ দু’টি গাড়ি একটি প্যান্ডেলে যেতে পারবে৷ পুরস্কার দেওয়ার জন্য সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত বিচারকদের মণ্ডপে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷
  • মণ্ডপে ভিড় এড়াতে বৈদ্যুতিন এবং সামাজিক মাধ্যমগুলির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের এবং পুলিশকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ কোনও ভাবেই যাতে প্যান্ডেলে এবং রাস্তায় ভিড় না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যও পুলিশ, পুজো উদ্যোক্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
  • পুজোর উদ্বোধন এবং বিসর্জন অনুষ্ঠান যথাসম্ভব জাঁকজমক এড়িয়ে করার কথা বলা হয়েছে৷ সম্ভব হলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধন অনুষ্ঠান সারতে বলা হয়েছে৷
  • পাশাপাশি বিসর্জনের ক্ষেত্রেও খুব কম সংখ্যক মানুষ যেতে পারবেন৷ পুজো কমিটিগুলিকে যে সময় বেঁধে দেওয়া হবে, তার মধ্যে গিয়ে নির্দিষ্ট ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে৷
  • বিসর্জন দিতে যাওয়ার সময় প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বা কোথাও থামা চলবে না৷ বিসর্জনের ঘাটগুলিকেও স্যানিটাইজ করা হবে৷ মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি৷
  • শারীরিক সংস্পর্শ এড়াতে অনলাইনেই পুজোর অনুমতি দেওয়া হবে৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই অনলাইনে পুজোর অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করবে৷
  • ভিড় কমাতে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই যাতে দর্শনার্থীদের ঠাকুর দেখার ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়, সেই মতো পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকে৷ গাইডলাইন অনুযায়ী সম্ভব হলে তৃতীয়া থেকেই মণ্ডপ দর্শকদের জন্য খুলে দিতে হবে৷
  • করোনা অতিমারির কথা মাথায় রেখে এবার দুর্গা পুজোর কোনও কার্নিভাল হবে না৷ একই ভাবে কোনও পুজো মণ্ডপ চত্বরে মেলা বা ওই ধরনের কোনও আয়োজন করা যাবে না৷

এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া, বিদ্যুতের মাশুলে ৫০ শতাংশ ছাড়, দমকল, পুরসভা, পঞ্চায়েতের কর মকুবের কথাও গাইডলাইনে বলা হয়েছে৷

আরও পড়ুন: জালে পেল্লাই ভোলা ভেটকি, বিক্রি তিন লাখ টাকায়, রাতারাতি বড়লোক বৃদ্ধা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest