করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়? জেনে নিন প্রতিরোধের বিস্তারিত উপায়

ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বে এখন সব থেকে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। চিন থেকে শুরু হওয়া এই ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের সর্বত্র। ভারতেও ধীরে ধীরে থাবা বসাচ্ছে এই মারণ ভাইরাস। ভারত ছাড়াও আরও ৬০টি দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ লক্ষ্য করা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই গোটা দেশে অন্তত ২৮ জন রোগী করোনা কামড়ে আক্রান্ত। আরও বহু রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে, করোনার প্রভাব যতটা ভয়াবহ, তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এর সম্পর্কে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই রোগ সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিলই নেই। এতে অকারণে বাড়ছে আতঙ্ক।

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্ক: কাবু দিল্লি-নয়ডা-লখনউ, ৪০ জন পড়ুয়া ভর্তি আইসোলেশন ওয়ার্ডে, ভাইরাস আক্রান্ত অভিভাবক

করোনা ভাইরাস কী?

করোনা ভাইরাস নামটি এসেছে এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয়েছে করোনা ভাইরাস।

এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখিতে প্রাথমিক অবস্থায় শ্বাসনালীর উপরের দিকে ও পরিপাকতন্ত্রের নালিতে সংক্রমণ ঘটায়।

যদিও অধিকাংশ করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে হালকা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ প্রকাশ পায়। এছাড়াও নানা ধরনের জটিলতাও দেখা দেয়।

প্রাথমিক লক্ষণ

করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলো অতি সাধারণ। এর প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- সর্দি কাশি, মাথাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা, জ্বর, বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কীভাবে ছড়ায়?

● শারীরিক ঘনিষ্ঠতা থেকে করমর্দনের মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে।

● রোগী কিংবা তার ব্যবহৃত জিনিস ধরার পর ভালো করে হাত ধুতে হবে। নাহয়, এই হাত চোখ, নাক, মুখে লাগলে এ রোগ ছড়াতে পারে।

● হাঁচি ও কাশির মাধ্যমেও এ রোগ ছড়াতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় 

সাধারণ কিছু নিয়ম মানার মাধ্যমে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব-

● রোগীর কাছ থেকে আসার পর খুব ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

● হাঁচি কাশি দেওয়ার সময় নাক মুখ ঢেকে রাখুন। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন।

● ডিম, গোশত খুব ভালো করে রান্না করুন।

● ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলুন।

● আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে অবস্থান করুন।

উপরে বলা প্রাথমিক লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে আর অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।