‘আদালতের বাইরের ঘটনা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে না’, সিবিআই-কে বলল সুপ্রিম কোর্ট

জোড়া বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলে, “আমরা মনে করি না যে জেলার বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া এতটা দুর্বল যে এভাবে প্রভাবিত করা যায়। আমরা চাই না বিচার প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করতে।”
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

নারদ মামলা পশ্চিমবঙ্গের কোনও আদালতে চলুক তা চায়নি সিবিআই। মামলাটি যাতে অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করা যায় সেই চেষ্টায় রবিবার মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শুরু হলে প্রতি পদক্ষেপেই কার্যত ধাক্কা খেতে হয় কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে। সিবিআই-এর তরফে বারবার করে দাবি করা হতে থাকে, মামলাটি অন্য রাজ্যে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। সেই আবেদনে কার্যত সাড়াই দেয়নি আদালত। উল্টে আদালতকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উড়িয়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘বিচার ব্যবস্থা এতটা দুর্বল নয়।’

আরও পড়ুন : CBI প্রধান পদে কেন্দ্রের পছন্দের ২ প্রার্থীকে বাদ দিলেন প্রধান বিচারপতি!

বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে নারদ মামলার শুনানি চলছে। তা সত্ত্বেও ‘ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার’ কায়দায় সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছে সিবিআই। সেই মামলায় আজ শীর্ষ আদালত চার অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার জুজু দেখাতেই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সিবিআই। যদিও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গত ১৭ মে নিজাম প্যালেসের বাইরের ঘটনাপ্রবাহের কথা উল্লেখ করে মামলাটি অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার কম চেষ্টা করেনি কেন্দ্র। সিবিআই দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা এবং ২-৩ হাজার মানুষের জমায়েত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ক্রমাগত সেই প্রচেষ্টা চালানো হয়।

কিন্তু হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলা নিয়ে শীর্ষ আদালতে আপিল করার বিষয়টি খুব একটা ভালভাবে নেননি সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের দুই বিচারপতি। তাঁরা কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হাইকোর্টও তো সাংবিধানিক আদালত। আবেদনের ব্যাপকতা ছাড়া তা হলে পার্থক্যটা কোথায়?” জবাবে তুষার মেহতা বলেন, “আপনারা মামলাটি স্থানান্তরিত করতে পারেন। এমনটা বলছি না যে আমি হাইকোর্টকে বিশ্বাস করি না। কিন্তু মামলাটি সরানো উচিত কারণ ওই সরকারকে (রাজ্য) বিশ্বাস করা যায় না।” পালটা সুপ্রিম কোর্ট বলে, “আমরা মামলাটি সরিয়ে নিলে তা হাইকোর্টকে নিরুৎসাহিত করবে।”

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে সিবিআই-এর গ্রেফতারির পর নিম্ন আদালতে জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন চার অভিযুক্ত। কিন্তু সিবিআই-এর যুক্তি ছিল, সেদিন যে ধরনের ঘটনা ঘটেছিল তার জেরে প্রভাবিত হয়ে এই অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে আদালত। বিশেষ সিবিআই আদালত চত্বরে রাজ্যের আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিও রায়কে প্রভাবিত করতে পারে, এমন দাবিও তোলা হয়েছিল। সেই দাবিও এ দিন পত্রপাট খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের বাইরের ঘটনা কখনই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে না বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি শরণ ও বিচারপতি গাভাই। জোড়া বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলে, “আমরা মনে করি না যে জেলার বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া এতটা দুর্বল যে এভাবে প্রভাবিত করা যায়। আমরা চাই না বিচার প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করতে।”

আরও পড়ুন : সরকারি নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে,নিষেধাজ্ঞা জারির আগে জানাল Facebook

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest