ইলিশ পাঠিয়েও মিলছেনা পেঁয়াজ, ‘ভঙ্গ অলিখিত সমঝোতা’, অভিমান ঢাকার

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

দু’দিন আগেই কয়েক ট্রাক ইলিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তীব্র সংকটে পড়ে গিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি। ইলিশ পাঠালেও পেঁয়াজ না পাওয়ায় অভিমান হয়েছে ঢাকার। নয়াদিল্লির দিকে এ নিয়ে ‘অলিখিত সমঝোতা ভঙ্গের’ অনুযোগের আঙুলও তুলেছে বাংলাদেশ।

রান্না পুজো ছিল বুধবার। রীতি অনুযায়ী রান্না পুজোয় এক টুকরো হলেও ইলিশ লাগে! বাজারে যখন ইলিশের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সেই সময়ে সোমবার গভীর রাতে কয়েক ট্রাক ইলিশ পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ঢোকে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু ভারতে ইলিশ দিলেও পেঁয়াজ পাচ্ছে না ঢাকা।

আরও পড়ুন: এ বার হাতঘড়িতেই লেনদেন সম্ভব! এসবিআইয়ের সঙ্গে জোট বেঁধে টাইটানের নতুন সম্ভার

গত বছরও ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল ভারত। তার পর থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এমনকী হাসিনার সরকারও দেশবাসীকে পরামর্শ দেয়, পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করার শিখতে পারলে ভাল! এবারও একই অবস্থা হতে পারে বাংলাদেশে। কারণ আবারও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। আর ঠিক যেদিন বাংলদেশ থেকে ভারতে ইলিশ এল, সেদিনই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেল।

সোমবার ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেডের তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের পেঁয়াজ রফতানি করা যাবে না। প্রসঙ্গত ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড হল কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের একটি শাখা। তারা মূলত আমদানি, রফতানি বিষয় দেখভাল করে।

প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে জরুরি পণ্য আমদানি-রফতানির বিষয়ে সবটা লিখিতপড়িত হয় না। পারস্পরিক বোঝাপড়া থেকেই এই প্রক্রিয়া চলে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার সরকারি ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর ইলিশ রফতানি করবে না। বাংলাদেশে যে ইলিশ পাওয়া যায় এবং তাদের যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা তাতে উদ্বৃত্ত থাকে না। ঢাকার বক্তব্য, এর পরেও ‘অলিখিত সমঝোতা’র শর্ত অনুযায়ী ভারতকে প্রতিবছর গড়ে দেড় হাজার টন ইলিশ পাঠায় তারা।

ভারত রপ্তানি করবে না জেনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে পেঁয়াজ মজুত করতে শুরু করেছে। তাছাড়া বাংলাদেশ জানিয়েছে, পাকিস্তান ও চিন তাঁদের পেঁয়াজ রপ্তানি করতে রাজি। ফলে ভারতের সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের দূরত্ব সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। আর এই সুযোগের ফায়দা নিচ্ছে চিন ও পাকিস্তান। যদিও গত বছর জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি ঘোষণা করেছিলেন, ভারত থেকে তাদের আর পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না। তাহলে এবারও ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় কেন বাংলাদেশকে বিপদে পড়ে হল, দেশবাসী হাসিনার সরকারের কাছে জবাব চাইছে।

এমনিতেই পড়শী নিয়ে ঝামেলায় রয়েছে নয়া দিল্লি। পাকিস্তান তো ছিলই। নয়া ঝামেলা চীন।তার থেকেও নয়া নেপাল। এই অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা একেবারেই উচিত হবে না বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। আর নয়া দিলি সেটা চাইছেও না। এই পরিস্থিতিতে চীন যে সব রকমের সুযোগ নিয়ে ভারতকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তা নয়া দিল্লির অজানা নয়।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রাম গ্রাহকদের তথ্য হাতানোর অভিযোগ এবার ফেসবুকের বিরুদ্ধে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest