জাভা সমুদ্রে চিহ্নিত করা হল ইন্দোনেশিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে মানুষের দেহাংশ। তা থেকেই উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, বিমানের যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী দলের প্রধান বাগুস পুরুহিতো সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘দুটি জায়গায় সিগন্যাল মিলেছে। ওটা ব্ল্যাক বক্স হতে পারে।’
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রী জানান, শনিবার শ্রীবিজয়া এয়ার ফ্লাইট ১৮২ নিয়ে উড়ান নেওয়ার চার মিনিট পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪ জানিয়েছিল, ১০ হাজার ফুট উঁচুতে ওড়ার পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। শনিবারই মনে হয়েছিল, অতল সমুদ্রের বুকেই বুঝি বা হারিয়েছে সেটি। আশঙ্কাই বোধহয় সত্যি হচ্ছে। রবিবার সকালে জাভা সমুদ্র থেকে ভেসে এল দেহাংশ, পোশাকের টুকরো, ধাতব স্ক্র্যাপ। ইন্দোনেশিয়ার নৌসেনা ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলের খোঁজও পেয়েছে।
যদিও বিমানের সলিল সমাধির কথা এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তেমনটা যদি সত্যি হয় তাহলে যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। বিমানটিতে মোট ৬২ জন যাত্রী ছিলেন। এঁদের মধ্যে ৪ জন শিশু। জাকার্তার সোকরানো-হাত্তা বিমানবন্দর থেকে পোনতিয়ানাক যেতে বিমানটির সময় লাগত ৯০ মিনিট। ইন্দোনেশিয়ার বর্নিয়ো দ্বীপের পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পোনতিয়ানাক।
আরও পড়ুন: হিংসার আবহেই জয়ের শংসাপত্র পেলেন বাইডেন -কমলা, অবশেষে পরাজয় স্বীকার ট্রাম্পের
শনিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে ল্যাংক্যান ও লাকি দ্বীপের মাঝে বীভৎস শব্দ শুনতে পান। তাঁদের কথায়, “মনে হচ্ছিল বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে কিংবা সুনামি। তবে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। আবহাওয়াও খুব খারাপ ছিল। তবে ভয়ঙ্কর শব্দের পাশাপাশি বড় তরঙ্গও আমরা সমুদ্রে দেখতে পাই।”
সে দেশের এয়ার চিফ মার্শাল জানিয়েছেন, সমুদ্রের জল স্বচ্ছ। বিমানের বেশ কিছু অংশ উদ্ধারে তাই বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। যেখানে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেই জায়গাও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে কেন এই বিমান দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।
বিবিসির এক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দশকের বেশি পুরনো বিমানও উড়ান নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়। শনিবার যে বিমানটি নিখোঁজ হয়ে যায় সেটিও ২৬ বছরের পুরনো বলেই বিবিসির দাবি।
আরও পড়ুন: মধ্যরাতের পর ব্ল্যাকআউট, গভীর অন্ধকারে ডুবে গেল পাকিস্তান