ভারতের ভূ-খণ্ড নিয়ে সংসদে নয়া মানচিত্র বিল পেশ নেপালের, কলকাঠি কী চিনের?

কাঠমান্ডু: নয়া ভূ-মানচিত্রে ভারতীয় ভূ-খণ্ডকে যুক্ত করতে সংসদে একটি সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করল কাঠমান্ডু।দু’দেশের মধ্যে সঙ্ঘাতের আবহেই রবিবার নেপালের সংসদে পেশ হল ‘ম্যাপ আপডেট বিল’।সংসদে বিলটি পেশ করেন আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী শিব মায়া তুম্বাহাম্ফি। 

নয়া ম্যাপে ভারত-নেপাল সীমান্তের লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ-কে নেপালের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে বিরোধীরাও এই বিলে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে। ফলে বিল পাশ হওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। আর সেটা হলে অবধারিত ভাবেই নয়াদিল্লি-কাঠামান্ডু সঙ্ঘাত আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিকদের একাংশ।

আরও পড়ুন: ‘জি-৭ সেকেলে’, চিনকে চাপে রাখতেই ভারতকে বৈঠকে চান ট্রাম্প!

দিনদশেক আগেই ভূ-খণ্ডের লিমপিয়াধুর, লিপুলেখ এবং কালাপানিকে নেপালের মানচিত্র প্রকাশ করেছিল নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির প্রশাসন। প্রত্যাশামতোই  কড়া ভাষায় জবাব দেয় নয়াদিল্লি। 

ভারতের কড়া জবাবে অবশ্য পিছু হটেনি কাঠুমান্ডু। বরং সংবিধানের তিন নম্বর শিডিউলে অন্তর্ভুক্ত নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্রকে সংশোধন করার জন্য বিল পেশ করা হয়েছে। আপাতত বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে। সংসদের উভয় কক্ষে বিলটি পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। তাঁর অনুমতি পেলে তা আইনে পরিণত হবে এবং তারপর থেকে সেই নয়া মানচিত্র যাবতীয় সরকারি নথিতে ব্যবহার করা হবে

বিল পেশ হওয়ার কথা ছিল বুধবার। কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিলে দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন দরকার হয়। তাই সব দিক মেপে এগোতে চাইছিল কেপি শর্মা ওলি সরকার এবং তাঁর দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি। সেই কারণেই বিল পেশের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

 শনিবার নেপালের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর ম্যাপ আপডেট বিলকে সমর্থনের বার্তা দেয়। তার পরেই রবিবার সংসদের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এ এই বিল পেশ করেছেন নেপালের আইনমন্ত্রী শিব মায়া তুম্বাহাম্ফি।

লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ নিয়ে ভারত-নেপাল বিবাদ দীর্ঘদিনের। ভারতের দাবি, এই তিনটিই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় জেলার অন্তর্ভূক্ত। উল্টোদিকে নেপালও তাদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু সেই বিবাদ চরমে ওঠে সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের গাটিয়াবর্গ থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তার আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পর। নেপাল দাবি করে, এই রাস্তার অংশ নেপালের ভূখণ্ডের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ভারত অবশ্য সেই দাবি উড়িয়ে দেয়।

রাস্তা খুলে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই নেপালের ভূমি মন্ত্রক ব্যবস্থাপনা দেশের সংশোধিত নতুন ম্যাপ প্রকাশ করে। ম্যাপ প্রকাশের পরেই তীব্র বিরোধিতা করে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।বিদেশ মন্ত্রক জানায় ‘‘ কৃত্রিম ভাবে দেশের সীমান্ত এ ভাবে বাড়িয়ে দেওয়াকে ভারত কোনও ভাবেই মেনে নেবে না।”

কূটনৈতিকদের ব্যাখ্যা, নেপালের পিছনে রয়েছে চিনের সমর্থন। ভারতের তরফেও সেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই মানচিত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধু নেপালের সঙ্গে সঙ্ঘাত চরমে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

আরও পড়ুন: মোদীকে সিঙাড়া খাওয়ানোর ইচ্ছা অজি প্রধানমন্ত্রীর, রসিক জবাব নমোর

Gmail 3