‘মৈত্রী সেতু’ উদ্বোধন করলেন মোদী-হাসিনা, মানিককে ভোলেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে রামগড়- সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

আগামী ২৬ তারিখ বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে মঙ্গলবার নতুন সেতু মারফত যোগসূত্র তৈরি হল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের। ত্রিপুরায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ফেনি নদীর উপরে মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে। ভিডিয়ো-বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

ত্রিপুরার দক্ষিণ সাব্রুমের সঙ্গে এই সেতুর মাধ্যমে যুক্ত হল বাংলাদেশের রামগড় উপজেলা। এই সেতুর মাধ্যমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে সড়ক পথে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের যোগাযোগের সুবিধা বাড়বে বলেই দুই দেশের সরকারের দাবি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের উদ্বোধনী বক্তৃতায় স্মরণ করেছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে। বলেছেন, ‘‘দশ বছর আগের কথা। ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী (মানিক সরকার) আমার কাছে এই সেতু তৈরির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর অনুরোধের পরে আমরা ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প রূপায়ণের কাজ করেছি।’’

হাসিনার দাবি, ‘‘চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে পণ্য পরিবহণ আরও বাড়বে। বাংলাদেশ থেকেও পণ্য ফেনি-মৈত্রী সেতু দিয়ে ভারতে পাঠানো সহজ হবে।’’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের এটি পঞ্চাশতম বছর। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষও। এই আবহে আজ বঙ্গবন্ধু-কন্যা মনে করিয়েছেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার কথা। বলেছেন, ‘‘একাত্তরে ভারত বাংলাদেশের মানুষকে আশ্রয় এবং সাহায্য দিয়েছিল। আমরা তা ভুলিনি। আজ পুরো অঞ্চলের সমৃদ্ধির জন্য এই দু’দেশ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।’’

আরও পড়ুন: আস্থা ভোটে স্বস্তির জয়, সরকারের পতন রুখে দিলেন ‘কাপ্তান’ ইমরান খান

সেতু উদ্বোধনের পরে মোদী বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে কার্যত একটি বাণিজ্য করিডর তৈরি হল।’’ দশ বছর আগে ত্রিপুরার বাম সরকারের সেতু তৈরির প্রস্তাবের কথা অবশ্য মুখে আনেননি তিনি। বরং বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ সফরের সময়ে আমি এবং শেখ হাসিনা ত্রিপুরাকে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার জন্য এই সেতুর শিলান্যাস করেছিলাম। আজ ভারত ও বাংলাদেশের সংযোগ অনেকটা শক্তিশালী হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, এতে ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুরের মতো রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ বাড়বে।

ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েস অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল)-এর তত্ত্বাবধানে ৮২.৫৭ কোটি টাকা খরচে রামগড়ের মহামুনিতে ২৮৬ একর জমির ওপর ‘মৈত্রী সেতু’ নির্মিত হয়েছে।

গত ১৩ জানুয়ারি এই সেতুর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। এই সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ১২। এর মধ্যে বাংলাদেশে পড়বে ৮টি ও ভারতের অংশে ৪টি। সেতু থেকে ২৪০ মিটার এপ্রোচ রোড নির্মাণ করে রামগড়-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের সঙ্গে এবং ভারতের দিকে সেতু থেকে প্রায় ১২০০ মিটার রাস্তা নবীনপাড়া-ঠাকুরপল্লী হয়ে সাব্রুম-আগরতলা জাতীয় সড়কে যুক্ত হয়েছে।

২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে রামগড়- সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ‘ওদের ছেড়ে দাও, বদলে আমাকে মেরে ফেলো’, উত্তপ্ত মায়ানমারে সন্ন্যাসিনীর ছবি ভাইরাল

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest