আরব মুলুকের সঙ্গে এবার ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল মিছিল বাংলাদেশেও, ঘেরাও দূতাবাস

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

মহানবী (স)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং ইসলাম ধর্ম নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিরূপ মন্তেব্যের জেরে ক্ষোভ বাড়ছে মুসলিমদের মধ্যে। একারণে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ফরাসি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্স।

মঙ্গলবার ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিশেষ নির্দেশনায় বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক ও মৌরিতানিয়ায় অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের ব্যঙ্গচিত্র-বিরোধী বিক্ষোভ বা যেকোনও ধরনের জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।তুরস্কের ফরাসি দূতাবাসও নিজ দেশের নাগরিকদের একই ধরনের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুন : Bihar Assembly Polls 2020: উদ্ধার আইইডি, উত্তেজনার মধ্যেই প্রথম দফায় ভোটদান শুরু

মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর ফরাসি দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে একটি মিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা। মহানবী হজরত মহম্মদ–কে নিয়ে ফ্রান্সে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং তার রেশ ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ‘ইসলামবিদ্বেষী’ অবস্থানের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁর অন্যতম কঠোর সমালোচক। তিনি সরাসরি সবধরনের ফরাসি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।মঙ্গলবার ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বলেছেন, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের উচিত ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো।

এই মাসের শুরুতে ম্যাক্রোঁ ইসলামকে সঙ্কটাপন্ন ধর্ম হিসেবে মন্তব্য করেন এবং ফ্রান্সে ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন করতে ১৯০৫ সালের একটি আইনকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন বলে সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর।

ইতিমধ্যেই আঙ্কারায় নিযুক্ত ফরাসি অ্যাম্বাসেডরকে ডেকে পাঠিয়েছে প্যারিস। আর সোমবারই ফ্রান্সে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফেরত নেয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের প্রতিবাদে আরব উপসাগরীয় অঞ্চল–সহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। অনেক খ্যাতনামা চেইন শপ–সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফরাসি পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। ইসলামি আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে জমায়েত হন। তারপর মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়, বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর পৌঁছলে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয়। সেখানে দলের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন আমির। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রতিবাদে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনে একাত্মতা ঘোষণা করেন চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ মহম্মদ রেজাউল করিম।

ইরাকে রাবা আল্লাহ নামে একটি দল এক বিবৃতিতে বলেছে, ফ্রান্সের কর্মকাণ্ডে বিশ্বের দেড়শ’ কোটি মুসলিম অপমানিত হয়েছে। দলটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের সদস্যরা প্রয়োজনে যেকোনও সময় যেকোনও জায়গায় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার প্রতিবাদ জানিয়েছে মহানবী (স)-এর জন্মস্থান সৌদি আরব। নবী কারীম (স)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং ইসলামকে সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

আরও পড়ুন : বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত, ফাঁস হতেই পদ ছাড়লেন ফেসবুকের বিতর্কিত ‘পাবলিক পলিসি হেড’ আঁখি দাস

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest