3 Suspended students of Visva Bharati University can attend class, said kolkata High Court

হাই কোর্টে মোক্ষম ধাক্কা বিশ্বভারতীর, সাসপেন্ড হওয়া ৩ পড়ুয়াকে ক্লাসে ফেরানোর নির্দেশ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

কলকাতা হাই কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল বিশ্বভারতী (Visva Bharati) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাসপেন্ড হওয়া ৩ পড়ুয়ার শাস্তি প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাঁদের ক্লাসে ফেরাতে হবে। বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁরা যেন ক্লাস করতে পারে, তা দেখতে হবে। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta HC) বিচারপতি রাজশেখর মান্থা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে এসবই জানিয়েছেন। আরও বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি।  হাই কোর্টের এই নির্দেশে স্বভাবতই খুশি সাসপেন্ড হওয়া পড়ুয়ারা। তাঁরা ফলের রস খেয়ে অনশন ভেঙেছেন।

বুধবার হাই কোর্টের শুনানিতে উপাচার্য বিরোধী অধ্যাপকদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী অরুনাভ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘উপাচার্যের জন্য পৌষ মেলা বন্ধ হয়েছে। শান্তিনিকেতনের সাধারণ মানুষও তাঁকে সমর্থন করেন না। পচা আলুর বস্তা উনি।’’ হাই কোর্টে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, ‘‘কয়েক জন ছাত্রকে তিন বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী ছাত্ররা ভুল করলে ক্ষমা চাইবে এবং ক্লাসে যাবে। এটাই নিয়ম হওয়া উচিত। কিন্তু সাসপেন্ড কী ধরনের আচরণ?’’ এ প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, ‘‘যদি ধরে নিই উপাচার্য আচরণ খুব খারাপ। তাহলেও বলব উপাচার্যকে ঘেরাও না করে আদালতে আসতে পারতেন পড়ুয়ারা।’’ এর জবাবে বিকাশ বলেন, ‘‘মামলা লড়ার জন্য পড়ুয়ারা যে আদালতে আসবে অত টাকা কোথায় তাঁদের?’’

পড়ুয়াদের বিষয়টি নিয়ে আদালতে সুর চড়ান উপাচার্যের আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটির বৈঠকে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। উপাচার্যের একা সিদ্ধান্ত নেননি। তাছাড়া উপাচার্যের গাড়ি পরীক্ষা করে তল্লাশি করেছে পড়ুয়ারা। এটা ঠিক হয়েছে? এটা কি পড়ুয়াদের করা উচিত?’’ সব পক্ষের সওয়াল শুনে নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার। তিনি বলেছেন, ‘‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনও বিক্ষোভ, আন্দোলন করতে পারবেন না পড়ুয়ারা। প্রশাসন-সহ সকলকে বিষয়টি নিশ্চিত করবে হবে। তিন জন ছাত্রের বহিষ্কার আপাতত স্থগিত থাকল। আন্দোলনরত পড়ুয়ারা যোগ দিতে পারবেন ক্লাসে।’’

সমস্যার শুরু চলতি বছরের জানুয়ারিতে। অর্থনীতি এবং রাজনীতি বিভাগের লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভ, উপাচার্য ঘেরাওকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠলেও সহযোগিতা করছে না রাজ্য। এই অভিযোগে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ বিশ্বভারতী (Visva Bharati University)। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার ৩৮ পাতার রিট পিটিশন দাখিল করল আদালতে। আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার হতে পারে শুনানি। ফাল্গুনী পান, সোমনাথ সৌ এবং হিন্দুস্থানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিভাগের ছাত্রী রূপা চক্রবর্তীকে সাসপেন্ড (Suspend) করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিল, উপাচার্যের (VC) সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এঁরা। সেই কারণে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করেন উপাচার্য। এর প্রতিবাদে কলকাতা হাই কোর্টে পালটা মামলা করেন ছাত্রছাত্রীরা।রাজ্যের বিরুদ্ধে পালটা অসহযোগিতার অভিযোগেও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:  ভুয়ো অর্থলগ্নি সংস্থার মামলায় Partha Chatterjee -কে ফের তলব সিবিআইয়ের

এদিনের শুনানিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আচরণ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, ”আপনি নানা বিষয়ে যেসব মন্তব্য করছেন, তা করতে পারেন না। যদি মনে করেন যে আপনি আইনের ঊর্ধ্বে, তাহলে কিন্তু আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে।” উপাচার্যের উদ্দেশে তাঁর আরও পরামর্শ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের রাজনীতির মধ্যে টানবেন না। হাই কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশে স্বভাবতই খুশি সাসপেন্ড হওয়া ৩ পডুয়া।আন্দোলনে তাঁদের বড় জয় বলেই মনে করছেন।

আরও পড়ুন: ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির পর্যবেক্ষক অর্জুন সিং, প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে আজই

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest