‘‌চার্জশিটে নাম ছিল না, ছোট বোনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়’‌, পাল্টা ধনখড়‌‌

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

হাওয়ালা চার্জশিটে রাজ্যপালের নাম ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই তোলপাড় হয়ে গিয়েছে রাজ্য–রাজনীতি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, বাধ্য হয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে সাংবাদিক বৈঠক করে সাফাই দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌হাওয়ালা জৈন চার্জশিটে তাঁর নাম নেই। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি সত্য থেকে অনেক দূরে। হাওয়ালা জৈন মামলার কথা উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিক এই ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবেন, এটা প্রত্যাশা করিনি। উনি ভুল তথ্য দিচ্ছেন। এমন কোনও নথি নেই। এটা সত্য থেকে অনেক দূর। সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিভ্রান্তিকর তথ্য।’‌

আরও পড়ুন : ‘জঙ্গিদের থেকেও ভয়ংকর’ দেবাঞ্জন, কসবার ভুয়ো টিকা কাণ্ডে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি করতে করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। হাওয়ালা চার্জশিটে আমার নাম নেই। আমার বিরুদ্ধে কোনও তথ্য প্রমাণও নেই। মানুষের সামনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। এটা আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আশা করিনি।”

৯৯৬ সাল। কেন্দ্রে তখন নরসিমা রাওয়ের সরকার। সেই সময় হাওয়ালা কারবারের কথা প্রকাশ্যে আসে। দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। দেশের তাবড় নেতা মন্ত্রীর নাম জড়ায় এই কেলেঙ্কারিতে। সেই ঘটনায় উঠে এসেছিল তৎকালীন জনতা দলের সাংসদ জগদীপ ধনখড়ের নামও। যদিও এখনও অবধি অভিযুক্তের তালিকা দীর্ঘ হলেও দোষী প্রমাণিত হননি কেউই। তবে সোমবার নবান্নে আচমকাই রাজ্যপাল প্রসঙ্গ উঠতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করেন। মমতা বলেন, “হি ইজ আ কোরাপ্টেড ম্যান (উনি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ)। এই গভর্নরের নাম জৈন হাওয়ালা কেসেও ছিল। এখনও পিআইএল রয়েছে। এখনও এর চূড়ান্ত শুনানি হয়নি। আর কী জানার আছে!”

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই টুইটারে রাজ্যপাল লেখেন, তিনি রাজভবনে সাড়ে ৬টায় সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, চার্জশিটে তাঁর নাম থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। খনখড়ের বক্তব্য, “সেখানে অজিত পাঁজা, যশবন্ত সিনহার নাম ছিল। যদিও পরে তাঁরা দু’জনই মুক্ত হন।” বরং তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গ সফর সেরে ফেরার পরই তিনি বিধানসভা অধিবেশনের খসড়া হাতে পান। যা তাঁকে আগামী ২ জুলাই অধিবেশনের শুরুতে পড়তে হবে। তা নিয়ে তিনি দ্বিমত পোষণ করাতেই এই ধরনের কথা উঠছে।

পাল্টা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বলেন, ‘‌হাওয়ালা চার্জশিটে আমার নাম নেই। আমার বিরুদ্ধে কোনও তথ্য প্রমাণও নেই। মানুষের সামনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। এটা আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আশা করিনি।’‌ একইসঙ্গে মিডিয়ার দিকেও আঙুল তোলেন জগদীপ ধনখড়। তাঁর কথায়, ‘‌আমি কখনও ভাবিনি এ রাজ্যে মিডিয়া এতটা চুপ থাকবে। কেন প্রশ্ন করা হল না কোন চার্জশিটের কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন জানতে চাওয়া হল না ওই কেসে আদালত কী রায় দিয়েছে।’‌

যদি আপনার দাবি সত্যি হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী দাবি মিথ্যে হয়, তাহলে কোনও আইনি পদক্ষেপ করবেন?‌ উত্তরে জগদীপ ধনখড়ের আবেগতাড়িত উত্তর, ‘‌কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। কারণ আমি তাঁকে ছোট বোন মনে করি। শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। কিন্তু, তিনি যা বলেছেন তা সত্য নয়। চার্জশিটে নাম ছিল রাজনীতিবিদ যশবন্ত সিনহা ও অজিত পাঁজার। পরে তাঁরা অভিযোগ মুক্ত হন। কখনও আশা করিনি এমন ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করবেন মমতা। এই ধরণের মন্তব্য করার আগে যশবন্ত সিনহার মতো নেতার সঙ্গে শলা–পরামর্শ করা উচিত ছিল তাঁর। ছোট বোনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যায় না।’‌

আরও পড়ুন : বাংলায় Student Credit Card এর Online আবেদন, সহজেই জানুন সঠিক পদ্ধতি!

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest