'Killing Raj' is going on in Uttar Pradesh, in Lakhimpur

‘কিলিং রাজ’ চলছে উত্তরপ্রদেশে, লখিমপুরে কৃষক হত্যা নিয়ে তোপ মমতার

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

ভবানীপুরে জয়ের হ্যাট্রিক করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গত তিনবারের রেকর্ড ভেঙে বিরাট ব্যবধানে জিতেছেন তিনি। রবিবারই ভোটের ফল ঘোষণা হয়েছে। তার পরের দিনই অর্থাৎ সোমবার ভবানীপুরের শীতলা মন্দির এবং গুরুদ্বারে পুজো দিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবংসুব্রত বক্সি। গুরুদ্বার থেকে বেরিয়েই উত্তরপ্রদেশের ঘটনা নিয়ে বিজেপিকে তুলোধনা করলেন তৃণমূল নেত্রী।

উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেড়ার (Uttar Pradesh Lakhimpur) ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “লখিমপুরে যা হয়েছে তা অমানবিক, দুর্ভাগ্যজনক। সেখানে নির্মমভাবে কৃষকদের হত্যা করা হয়েছে। নির্দয় অত্যাচার করা হয়েছে তাঁদের উপর।” খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করলেন মমতা। বললেন, “এই সরকার সব জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এরকম সরকারের জন্য জনসাধারণেরও ১৪৪ ধারা জারি করা উচিত। বাংলায় সবাই খুশি মতো চলে আসে। কিন্তু নিজেদের রাজ্যে কাউকে ঢুকতে দেয় না।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আকাশ মিশ্রর গাড়ির ধাক্কায় আন্দোলনরত কৃষকদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশ। রবিবার দুর্ঘটনার পরই টুইটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘লখিমপুর খেরির বর্ররোচিত ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করছি। কৃষকদের প্রতি বিজেপি-র উদাসীন মনোভাব আমাকে গভীর যন্ত্রণা দিয়েছে। আগামিকাল (সোমবার) তৃণমূলের পাঁচ সাংসদের দল আক্রান্ত কৃষক পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে। আমাদের কৃষকদের আমরা নিঃশর্ত সমর্থন করছি।’ মমতার ঘোষণা মতো সোমবার সকালেই উত্তরপ্রদেশের উদ্দেশে রওনা দেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। ওই দলে রয়েছেন, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, আবির রঞ্জন বিশ্বাস এবং সুস্মিতা দেব। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিমানে দিল্লির যান। সেখান থেকে লখিমপুর খেরির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা।
সোমবার দুপুরে প্রথমে শীতলা মন্দিরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। শঙ্খ বাজিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান এলাকাবাসীরা।  মন্দিরে পুজো দেন মমতা। দেবীকে শাড়ি উৎসর্গ করেন। করেন আরতিও। দেবীর পায়ে ফুল দেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সিও। তার পর সেখান থেকে হেঁটে গুরুদ্বারে আসেন মমতা। তাঁকে দেখতে রাস্তার দুধারে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। হাতজোড় করে তাঁদের প্রণামও সারেন তৃণমূলনেত্রী। এর পরই চলে আসেন গুরুদ্বারে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সেখানে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। চাদর উৎসর্গ করে প্রার্থনায় অংশ নেন মমতা। সেখানে প্রায় মিনিট সাতেক ছিলেন সেখানে।প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের শীতলা মন্দির এবং গুরুদ্বারে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী।
এরপর তিনি বলেন, ‘‌আজ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের ঘটনাস্থল পর্যন্ত যেতে দেয়নি যোগীর পুলিশ। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। এমনকী কথা বলতে পর্যন্ত যেতে দেয়নি। সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে। বিজেপি সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী।’‌
বাংলায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের পাঠানোর প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌বাংলায় শান্তির পরিবেশ আছে। তা সত্ত্বেও মানবাধিকার কমিশন পাঠিয়ে বাইরে বাংলার বদনাম করে। কিন্তু একজন মন্ত্রীর ছেলে কৃষকদের মেরে ফেলল তাতে শাস্তি হচ্ছে না। এটা লজ্জা! কৃষকদের নিশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে।’‌ এরই মধ্যে মৃতদের ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে যোগী আদিত্যনাথ। সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেই সব হয় না।’

এদিন উত্তরপ্রদেশের একের পর এক ঘটনা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উটে আসে। হাতরাস কাণ্ড, করোনা রোগীকে নদীতে ভাসিয়ে দেওযা এবং অসমে এনআরসি নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‌এরা রাম রাজ্যের কথা বলে। এটা রাম রাজ্য নয়, কিলিং রাজ্য। এদের কোনও মানবিকতা নেই। মানবিকতার সর্বনাশ।’‌

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest