মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকে কলকাতার পোস্তা এলাকায় চালু হল ‘ভ্যাকসিনেশন অন হুইলস’। তবে এটা শুধু পোস্তা এলাকা নয়, গোটা কলকাতাতেই চলবে প্রক্রিয়া, শহর কলকাতায় টিকাকরণের উপর জোর দিতে ও দ্রুত টিকাকরণ প্রক্রিয়া সারতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিষেবার শুভ উদ্বোধনে হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম, পুরসভার কো-অর্ডিনেটর অতীন ঘোষ, নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী ড. শশী পাঁজা, বিধায়ক সীতানাথ ঘোষ। গতকালই এই বিশেষ পরিষেবা নিয়ে ববি হাকিম জানান, ‘সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত একটি বাসের মাধ্যমে হবে এই টিকাকরণের প্রোগ্রাম।’ যার আজ শুভ উদ্বোধন করেছেন তিনি।

পুরসভা সূত্রে খবর, ব্যাটারি চালিত একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস কলকাতার বড় বড় বাজারগুলিতে ঘুরবে। সেই বাসের মধ্যেই চলবে টিকাকরণ কর্মসূচি। সেই বাসে থাকবেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোনও ব্যক্তি টিকা নেওয়ার পর বাসের মধ্যে আধ ঘন্টা বসতে পারবেন। ওই সময় তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। টিকা নিয়ে কোনও অসুবিধা হলেই মিলবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা। এই কর্মসূচি চালুর অন্যতম কারণ হল টিকাকরণ কর্মসূচিকে আরও ত্বরান্বিত করা। এই কর্মসূচি নিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। কিন্তু ওই এলাকার অনেক মানুষ রয়েছেন বিশেষ করে বিক্রেতারা সময়মতো টিকা নিতে পারেননি। আবার জীবিকার জন্য তাঁদের দোকানও খুলতে হবে। তাঁদের কথা ভেবেই বিশেষ ধরণের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’’

আরও পড়ুন: মেডিকেল থেকে চুরি করোনার জীবনদায়ীর ইঞ্জেকশন, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাতানোর অভিযোগ

পোস্তা বাজার শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। যেখানে প্রত্যেক দিন প্রায় ২৫ হাজার মানুষের আসা-যাওয়া লেগে থাকে। সেখানকার মুটে, মজুর, দোকানদারদের পক্ষে কলকাতা কর্পোরেশনের পোর্টালে গিয়ে বা কো-উইন অ্যাপে গিয়ে, টিকা নেওয়ার জন্য নাম রেজিস্টার করা কার্যত অসম্ভব। এদিন টিকাকরণের সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে একটি বাস পৌঁছে যায় বাজারে। সেখানে ৩০০ জনকে দেওয়া হয় করোনার টিকা। পরবর্তী সময়ে শহরের অন্যান্য বড় বাজারগুলোতেও চলবে এই ভ্যাকসিনেশন ড্রাইভ।

কর্পোরেশনের এই নয়া উদ্যোগ সম্পর্কে প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম জানান, জোগান কম থাকায় এখনও সকলকে টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত টিকা পেলে সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, যাঁরা আজ টিকা নিতে আসেন তাঁরা প্রত্যেকেই আধার কার্ড নিয়ে আসেন। এর সাহায্যে কো-উইনে প্রত্যেকের নাম রেজিস্টার করে দেন কর্পোরেশনের কর্মীরা।

আরও পড়ুন: শুরুটা অভিষেকের ! এবার ফোন করে মুকুল-জায়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন খোদ মোদী

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *