কানের ভিতর বাজছে ঝিঁঝিঁ, জেনে নিন কারণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

এই ব্যস্ত জীবনে আমরা নানারকম শব্দ শুনতে পাই। গাছের পাতা নড়ার মৃদু শব্দ বা ট্রাকের হর্নের মতো কর্কশ শব্দ আমাদের মস্তিষ্ক বুঝতে পারে কানের সাহায্যে। যদিও বর্তমান যানজট ও দূষণের পৃথিবীতে অনেক বেশি জোরালো শব্দের ভিড়ে হালকা শব্দগুলো চাপা পড়ে যায়। কিন্তু এত শব্দের ভিড়ে মাঝে মাঝে আমাদের ভেতর থেকেই কেউ এমন এক শব্দের কথা বলে, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে কানে বাজতে থাকেই। অথচ সে শব্দের উৎপত্তি তার চারপাশের পরিবেশ থেকে নয়।

অনেকের মতে, তিনি শিস দেবার আওয়াজ বা কেটলিতে পানি বাষ্প হবার আওয়াজ শুনতে পান। আবার অনেকের মতে, হিসহিস বা রেলগাড়ি চলার মতো আওয়াজ। এছাড়াও,‌ ঝিঁঝি পোকা বা টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাবার পর যেমন শব্দ হয়, তেমন শব্দ শোনার কথাও উল্লেখ আছে।

AbAJpUnpOvbA2k6k tinnitus

আরও পড়ুন:  সব সময় হাই ওঠে? সাবধান, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে!

প্রাচীন চিকিৎসাব্যবস্থা বা সে সময়ের চিকিৎসকরা এ সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারেননি। এজন্য অনেক অদ্ভুত চিকিৎসার কথা শোনা যায়। অনেকের পরামর্শ ছিল, গোলাপজল তামার টিউব দিয়ে কানে ঢালতে। রোমান লেখক পিনলি দ্য এল্ডার বলেছিলেন, হাঁসের চর্বিতে কেঁচো সেদ্ধ করে কানে ঢালার জন্য। মধ্যযুগের ওয়েলশ চিকিৎসক মিডিফাই তার রোগীদের পরামর্শ দিতেন, বনরুটি যতটা সম্ভব গরম করে তা দুই কানে চেপে ধরতে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে দেবতাকে ডাকলে নাকি কানের অস্বাভাবিক শব্দ শোনা থেকে মুক্তি লাভ হবে।

চারিদিক নিস্তব্ধ থাকার পরও কানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনার সমস্যাকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান শনাক্ত করেছে। একে বলা হয় টিনিটাস। শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ইংরেজি শব্দ ‘টিনিয়ার’ থেকে, যার অর্থ হচ্ছে ঘণ্টার শব্দ।

টিনিটাস কেন হয়? এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করার আগে বলে রাখা ভালো, কানে এমন শব্দ শোনার জন্য কিন্তু দায়ী আমাদের মস্তিষ্ক। এবং অনেকেই বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন কারণে এই শব্দ কিছুটা হলেও শুনেছেন। হুট করে প্রচণ্ড শব্দে কোনোকিছু বিস্ফোরিত হবার পর বা জোরালো শব্দের কনসার্ট থেকে ফেরার পর অনেকেই হুট করে কানে এ শব্দ শুনতে পান। এছাড়াও, অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহার, অপর্যাপ্ত ঘুম বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা অস্থায়ী টিনিটাস তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে তা সেরে যায়।

টিনিটাস কোনো রোগ নয়, বরং রোগের লক্ষণ। সাধারণত টিনিটাসে ভুক্তভোগী ছাড়া দ্বিতীয় ব্যক্তি এ শব্দ শুনতে পান না। তবে অনেকসময় দেখা যায়, এ শব্দ ডাক্তার তার স্টেথোস্কোপ দিয়ে শুনতে পাচ্ছেন। আবার অনেকে কানে হার্টবিটের মতো শব্দ লক্ষ করেন, যা সাধারণত রাতে বেশি শোনা যায়। বয়স্কদের ভেতর বেশি দেখা যাওয়া টিনিটাসের এ প্রকৃতির নাম ‘পালসাটাইল টিনিটাস’।পালসাটাইল বা স্থায়ী টিনিটাস থাকলে অতি দ্রুত একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞকে দেখানো প্রয়োজন। কারণ এই দুই ধরনের টিনিটাসের কারণ টিউমার বা রক্তনালীর সংক্রমণও হতে পারে।

আরও পড়ুন: নিমেষে কমবে ওজন! ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন এই ৬টি পানীয়

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest