new tourist spot of west bengal beri panchpota like alleppey, want to go their in this puja?

কলকাতার কাছেই আছে ‘বাংলার আলেপ্পি’- বেড়ি পাঁচপোতা, এই পুজোয় ঘুরে আসবেন নাকি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

বর্তমান সময়ে কেউ নিজের বাইক বা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন, আবার কেউ ট্রেন বা বাসে পৌঁছে যাচ্ছেন স্বল্পখ্যাত বা অজানা কোনও ডেস্টিনেশনে। এরকমই এক অখ্যাত, অথচ অনন্য সুন্দর এক জায়গার সন্ধান দেব আপনাদের। কেরলের অলেপ্পির নাম তো অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু জানেন কি এই বাংলাতেই আছে সেরকম এক জায়গা? হ্যাঁ, আজ আপনাদের শোনাবো সেই জায়গা সম্পর্কে।

স্থানীয় জনশ্রুতি, বহুকাল আগে এখানে একটি বন্দর বা পোতাশ্রয় ছিল। রাজা প্রতাপাদিত্য একসময় ইছামতী নদী ধরে এখানে এসেছিলেন। বেড়ি পাঁচপোতার বাওর ছাড়াও আশেপাশে রয়েছে ডুমোর বাওর, বলদেঘাটা বাওর, ঝাউডাঙা বাওর আর ইছামতী নদী। ওপারে বাংলাদেশ, এ পারে দাঁড়িয়ে দূর থেকে ও দেশের গাছ-গাছালি বাড়ি ঘর, হলুদে ভরা সর্ষে খেত দেখা যায়। রয়েছে প্রাচীন কালী মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মিশন মঠ। তাই একদিনে ঘোরার প্রচুর রসদ বেড়ি পাঁচপোতায়।

উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা, কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। শিয়ালদা বা দমদম থেকে লোকাল ট্রেনে কমবেশি এক ঘন্টা। এই গোবরডাঙার কাছেই আছে একটি অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ। ভারত-বাংলাদেশ-লাগোয়া বেড়ি পাঁচপোতা। যত দূর চোখ যায়, শুধুই সবুজের সমারোহ আর বিস্তৃর্ণ জলাভূমি। এক পলকেই চোখে জুড়িয়ে যায়। ওই অশ্বখুরাকৃতি একটি হ্রদটিকে স্থানীয়রা ডাকেন ‘বাওর’। দিগন্ত বিস্তৃত চপল জলরাশি।

এলাকার বয়স্ক মানুষেরা বলেন, অতীতে বাওরটি ইছামতীর অংশ ছিল। পরে নদী দিক পরিবর্তন করে বাংলাদেশের দিকে চলে যায়। কিন্তু বাওরটি আজও আগের মতোই রয়ে গিয়েছে অশ্বখুরাকৃতি বাঁক নিয়ে। এই বাওর ঘিরে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র যাতে হয়, এই দাবি দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীদের দাবি, শেষ পর্যন্ত মেনেছে জেলা প্রশাসন। অশ্বখুরাকৃতি এই হ্রদ ঘিরে ইকো ট্যুরিজম হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই করেকটি হোম স্টে তৈরি করে ফেলেছেন। আবার এক সংস্থা ওই বাওরের পাশে কয়েকটি কটেজ তৈরি করছে। ফলে আগামীদিনে এই বেড়ি পাঁচপোতাই ‘বাংলার অলেপ্পি’ নামে বড় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখা যাবে বলেই আশা এলাকাবাসীর।

যে দিকে তাকানো যায় জল আর সবুজের সমারোহ। শান্ত নির্জন পরিবেশে নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আপনাদের পৌঁছে দেবে অলেপ্পি বা ভেনিসে। ঘুরে দেখুন প্রাচীন কালী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন মঠটি। এই মঠের বহু আশ্রমিক আজ বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। তাঁরাই অর্থ সাহায্য করে সুন্দর করে সাজিয়েছেন রামকৃষ্ণ মঠটি। এখানে ঢোকার নির্দিষ্ট সময় আছে, তাই মাঝিদের কাছে জেনে নেবেন মঠ খোলা আছে কিনা। দিনভর নৌকা বিলাস করে দিনের শেষে স্থানীয় মানুষদের তৈরি লোভনীয় মাছের পদ চেখে বেলাশেষে ফিরে চলুন নিজের বাসায়। ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেড়ি পাঁচপোতার বাওর ইতিমধ্য়েই জনপ্রিয় হয়েছে। চাইলে সার্চ করে দেখে নিন।

সাড়ে সাত কিলোমিটার লম্বা বিল ও চারপাশের প্রান্তর দেখে মনে হবে যেন এক টুকরো কেরল। স্থানীয় লোকজন এই জলাশয়ে মাছ চাষ করেন। ফলে টাটকা মাছের স্বাদ চেটেপুটে উপভোগ করতে পারবেন। এখানে এসে দরদাম করে চেপে বসুন কোনও একজনের নৌকায়। তাঁরাই আপনাকে বাওরের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত ঘুরিয়ে দেখাবেন। নৌকাই এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। চাইলে ইছামতি নদী পর্যন্ত চলে যাওয়া যায় নৌকায় চেপে। তবে সঙ্গে অবশ্যই রাখবেন সচিত্র পরিচয়পত্র। কারণ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিএসএফ যখন তখন পরিচয়পত্র পরীক্ষা করতে পারে। আর পুজোর ছুটিতে একদিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুুন প্রিয় মানুষটির হাত ধরে। রোমান্টিক পরিবেশে নৌকা বিহার ও সবুজের সমারোহ আপনাকে নিরাশ করবে না।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest