শারীরিক সম্পর্কের সময় ও পরে যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন হন মেয়েরা…

যৌনতা নারী ও পুরুষ উভয়ের একত্রে উপভোগ করার বিষয়। একজনের কষ্ট হলে ব্যাপারটি কখনোই উপভোগ্য হয়ে উঠবে না।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

শারীরিক সম্পর্কের পরবর্তী সময়ে শরীরে অনেক সমস্যা হয় মেয়েদের। তবে বেশিরভাগ মহিলাই লজ্জায় এ ব্যাপারগুলো কাউকে বলেন না!

শারীরিক সম্পর্কের ফলে শরীর, হাত-পা, কোমর ও যৌনাঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যথা হতে পারে। তবে কম বয়সে যেসব নারীর বিয়ে হয়, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয় নয়। তবে অনেক নারী জানে না এটি একটি সমস্যা।

নারীর যৌনাঙ্গ দেহের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঙ্গ। যৌন সম্পর্ককালে এই অঙ্গে ব্যথা পাওয়া বা কষ্ট অনুভূত হলে অতি অবশ্যই বিষয়টির প্রতিকার করতে হবে। অন্যথায় স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়।

শারীরিক সমস্যার কথা মেয়েরা কিছুতেই তার সঙ্গীকে বলতে চান না। তারা মনে করেন, ছোটখাটো শারীরিক সমস্যার কথা সঙ্গীকে বললে, তাদের অকারণে বিব্রত করা হবে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক শারীরিক সম্পর্কের পরবর্তী সময়ে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারেঃ

১.যথেষ্ট উত্তেজিত হবার আগেই সেক্স

যৌনতার সময়ে যদি যৌনাঙ্গ যথেষ্ট পিচ্ছিল না হয়, তাহলে ভেতরে আঘাত পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে ছিলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে। প্রথমত, নারীদের শারীরিকভাবে উত্তেজিত হতে পুরুষের তুলনার অধিক সময়ের প্রয়োজন। ফলে ফোর প্লে যদি দীর্ঘায়িত না হয়, তাহলে অনেক নারীই যথেষ্ট পরিমাণ উত্তেজিত বোধ করেন না। অন্যদিকে শারীরিক কোন সমস্যার কারণেও যৌনাঙ্গ যথেষ্ট পিচ্ছিল হতে না পারে।

প্রতিকার: সেক্সের সময় যথেষ্ট পরিমাণে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। ওয়াটার বেজড লুব্রিকেন্ট হলে ভালো হয়।একই সাথে সেক্সের পর পরই নিজেকে পরিষ্কার করে ভেতরে লুব্রিকেন্ট বা ভালো ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। একই দিনে পুনরায় যৌন সম্পর্ক হতে বিরত থাকুন।

সঙ্গীর লিঙ্গের আকার

সঙ্গীর লিঙ্গের আকার যদি নারীর যৌনাঙ্গের তুলনায় অধিক বড় হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং এই ব্যথা বেশ তীব্র। অনেকটা পিরিয়ডের ব্যথার মতন অনুভুত হতে পারে। এছাড়াও ভেতরে ছিলে যাওয়া, কেটে যাওয়া, জ্বলুনি হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।

প্রতিকার: প্রথমত সঙ্গীর সাথে কথা বলুন, ব্যাপারটি নিয়ে দুজনের আলোচনা খুবই জরুরী। ফোর প্লে দীর্ঘায়িত করুন। নারীদেহের উত্তেজনা যত বাড়বে, ততই যৌনাঙ্গ ও যৌনাঙ্গের মুখ প্রসারিত হবে। ফলে সেক্স যথেষ্ট সহজ হয়ে আসবে। অন্যদিকে পজিশন বদল করলেও এই ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। এমন পজিশন বেছে নিন , যেখানে যৌন ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে থাকবে। ফলে আঘাত পাবার সম্ভাবনা থাকবে না। আর ব্যথা পেয়ে গেলে গরম সেঁক নিন বা গরম জল দিয়ে শাওয়ার সেরে নিন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। চিকিত্‍সকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারেন।

আরও পড়ুন: প্রেমিকাকে খুশি করতে পুরুষাঙ্গে এ কী করলেন যুবক? শুনলে চমকে উঠবেন…

যৌনতায় উন্মাদনা

খুব দ্রুত বা কামনায় অধীর হয়ে সেক্স করলে অনেক সময়েই ভ্যাজাইনায় আঘাত লাগতে পারে। অনেক বেশি সময় যৌনতার ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ভঙ্গাঙ্কুর আঘাত পেয়ে থাকে বেশি। পর্ন দেখে সেক্স করতে গেলেও এমনটা হয়ে থাকে।

প্রতিকার: প্রচুর পরিমাণে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন, এতে আঘাত পাবার সম্ভাবনা থাকবে না। আঘাত পেয়ে গেলে একটি পাতলা কাপড়ে বরফ নিয়ে ভগাঙ্কুরে চেপে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ পর পর। ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়েও নিতে পারেন। যৌনাঙ্গের ভেতরে বরফ প্রবেশ করাবেন না।

কনডমের ঘর্ষণ

কনডমের ঘর্ষণে যৌনাঙ্গের ভেতরে আঘাত পাওয়া, ছিলে যাওয়া, কেটে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। নারীরা এসব ক্ষেত্রে যৌনতা উপভোগও করতে পারেন না।

প্রতিকার: কনডমের ব্যান্ড পরিবর্তন করুন বা অন্য কোন জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা বেছে নিন। প্রচুর লুব্রিকেন্টে ব্যবহারেও ফল পাবেন।

ইনফেকশন

যৌনাঙ্গে কোনো ধরনের ইনফেকশন থাকলে সেক্সের সময়ে ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সাধারণ ইস্ট ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত কোনো ইনফেকশনের কারণে এমনটি হয়ে থাকে। চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক চিকিত্‍সা নিয়ে সুস্থ থাকুন। যৌনাঙ্গ সর্বদা পরিষ্কার রাখুন। নিজের যত্ন নিন।

শারীরিক সম্পর্কের কালে যৌনাঙ্গে কোন সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই সেটা চেপে রাখবেন না। নিজের সঙ্গীর সাথে কথা বলুন, চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন। যৌনতা নারী ও পুরুষ উভয়ের একত্রে উপভোগ করার বিষয়। একজনের কষ্ট হলে ব্যাপারটি কখনোই উপভোগ্য হয়ে উঠবে না।

আরও পড়ুন: বন্ধ সিনেমা হলে যৌনতা, ক্যামেরাবন্দি হল যুগলের কাণ্ড

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest