করোনা মোকাবিলায় ত্রাণ তহবিলে সাহায্য চাইলেন মমতা, অত্যাবশকীয় পণ্য আটকালে কড়া ব্যবস্থা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

কলকাতা: করোনাভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য এখনো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কোনও বরাদ্দ পায়নি পশ্চিমবঙ্গ। তাই মহামারি মোকাবিলায় রাজ্যের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে প্রবাসীদেরও এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবদান রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের একটা গ্লাভসও দেয়নি। তার মধ্যেই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তহবিল গঠন করা হয়েছে। সরকার ২ লক্ষ মাস্ক, ৪ লক্ষ জীবাণুরোধী পোশাক, ২০ হাজার থার্মাল গান, ৩০০ ভেন্টিলেটর মেশিন ও ৩টি একমো মেশিন অর্ডার দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: ‘ঘরে থাকুন’, করোনা সতর্কবার্তা এবার আকাশে লিখে দিলেন পাইলট!

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের আরও টাকা প্রয়োজন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মুক্ত হস্তে দান করার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে পারেন, বা যোগাযোগ করতে পারেন স্বাস্থ্য সচিব সঞ্জয় বনশলের সঙ্গে। 9051022000 নম্বরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া wbsacs@gmail.com –এ ইমেলে যোগাযোগ করা যাবে। সরাসরি টাকা পাঠাতে গেলে তা পাঠাতে হবে 628005501339 অ্যাকাউন্ট নম্বরে। IFSC ICIC0006280, IMCR 700229010.

দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। তারমধ্যে অত্যাবশকীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে আমজনতা। এমনকী জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দিতে যারা বের হচ্ছেন, তাঁদের অনেক সময় সমস্যায় পরতে হচ্ছে।আবার রেশন দোকানে জমায়েত করছেন বহু মানুষ। এবার সেই সমস্যা সমাধান করতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বম্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: করোনার জেরে পয়লা এপ্রিল থেকে শুরু হবে না NPR-এর কাজ

বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, জরুরি পরিষেবা ও খাবারের হোম ডেলিভারি আটকানো যাবে না। এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যাঁরা তাঁদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একটি পাস দেখেই সমস্ত থানা যাতায়াতের অনুমতি দেবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে দুটি টাস্ক ফোর্স গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৈরি করেছেন কন্ট্রোল রুমও। জানান, ১০৭০ ও ০৩৩২২১৪-৩৫২৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। মিলবে বিভিন্ন সাহায্যও। এমনকী ক্রেতা ও বিক্রেতারা কীভাবে দাঁড়াবেন তাও রীতিমতো গ্রাফিক চার্ট কর বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার রাজ্যে লকডাউনের তৃতীয় দিন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি জানান, সরকারের তরফে দু মাসের সামাজিক পেনশন (বিধবাভাতা, জহর পেনশন, জয় বাংলা প্রকল্প-সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্প) একলপ্তে দেওয়া হবে। আগেই আইসিডিএস, মিড ডে মিলের চাল, আলু একইসঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী জলের সমস্যা বলে সরকারি প্রাণধারা প্রকল্পের জলও বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ভবঘুরেদের জন্য নাইট শেল্টারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে অত্যাবশকীয় পণ্য পৌঁছে দিতে বেশকিছু যানবাহন চলাচল করছে। এমনকী, কাজে বের হতে হয়েছে খাবার, ওষুধ-সহ একাধিক হোম ডেলিভারি সংস্থার কর্মীদের। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে তাঁদেরও হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে। এবার তাঁদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন: করোনার থাবা ব্রিটেনের রাজপরিবারেও, আইসোলেশনে রয়েছেন আক্রান্ত প্রিন্স চার্লস

এদিকে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ারও বিশেষ ব্যবস্থা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি জানান, হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য হাসপাতালের আশপাশের হোটেল, বিয়েবাড়ি ভাড়া নেবে সরকার। এমনকী হাসপাতালে কর্মরত বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের (সাফাইকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী) খাওয়ার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতেও অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আর্থিক সাহা্য্য করবে রাজ্য সরকার।

দিন দুয়েক ধরেই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে খবর এসেছে, হাসপাতাল থেকে ফেরার পরে ডাক্তার ও নার্সদের সামাজিক অসম্মানের মুখে পড়তে হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িও ছেড়ে দিতে হয়েছে অল্প সময়ে। কোথাও আবার কাজ করে বাড়ি ফেরা কোনও জরুরি কর্মীকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত তিনি। ফলে স্থানীয়দের কাছে হেনস্থা হতে হয়েছে অনেককে।

এই সব খবর যে মুখ্যমন্ত্রীর অজানা নয়, তা বোঝা যায় বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকেই। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা মানে কাউকে একঘরে করে দেওয়া নয়। তাঁর কথায়, “কোনও ডাক্তার-নার্সকে কোনও বাড়িওয়ালা যেন উচ্ছেদ না করেন। সোশ্যাল বয়কট করা চলবে না কাউকে। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা যথেষ্ট সচেতন। ওঁদের নিজের কাজ করতে দিন। ওঁদের হেনস্তা করলে বরদাস্ত করব না। আমরা দানবিক মানুষ নই। মানবিক মানুষ।”

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest