জাপানি লেখকের চরিত্র থেকে ‘অনুপ্রেরণা’, মা-দাদাকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা ১৪ বছরের কিশোরীর

নিজেদের বাংলোয় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেল রেল বোর্ডের এক এগজিকিউটিভ ডিরেক্টরের স্ত্রী ও ছেলের দেহ। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্তার নাবালিকা মেয়েই গুলি করে মেরেছে মা ও ভাইকে। খুনের কথা সে কবুল করেছে। উত্তরপ্রদেশের ডিজি এইচ সি অবস্থী জানান, মেয়েটি অবসাদগ্রস্ত। সে অপেশাদার শুটিং প্রতিযোগিতায় যোগ দিত। নিজের বন্দুক দিয়েই এই কাণ্ড ঘটায় সে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারি বাসভবনের কয়েক কিলোমিটার দূরে, অভিজাত গৌতমপল্লি এলাকায় বাজপেয়ী পরিবারের বাংলো। রেলের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর আর ডি বাজপেয়ীর স্ত্রী মালিনী (৪৫) ও ছেলে শরদ (২০)-এর খুনের খবর আজ দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ পায় পুলিশ। বাংলোর বেডরুমে দেহ দু’টি উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে মাঝপথেই ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক বন্ধ করে দেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান। বাড়ির কর্তা ছিলেন শহরের বাইরে। তিনি লখনউ রওনা হন।

আরও পড়ুন: অংশ নেবে চিন-পাকিস্তান, রাশিয়ায় সামরিক মহড়া থেকে সরে এল ভারত

লখনউয়ের পুলিশ কমিশনার সুজিত পাণ্ডে প্রথমেই বলেছিলেন, ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখছেন না তাঁরা। বাড়ির দরজাও ছিল ভিতর থেকে বন্ধ। মেয়েটির হাতে ব্যান্ডেজ ছিল। সেটি খুলে দেখা যায়, হাতে টাটকা ক্ষত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রেজ়রে হাত কেটে নিজের রক্ত দিয়ে বাথরুমের আয়নায় মেয়েটি লিখেছিল, ‘‘মানুষ হিসেবে আমি ডিসকোয়ালিফায়েড।’’ বন্দুকে পাঁচটি গুলি ভরার পরে প্রথম গুলি ওই আয়না লক্ষ্য করেই চালায় সে। একটি গুলিতে শরদের মাথা ফুঁড়ে দেয়। অন্যটিতে প্রাণ হারান মালিনী।
পুলিশের দাবি, জাপানি লেখক ওসামু দাজাইয়ের গল্পের একটি চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। আর সেই চরিত্রের দ্বারা ‘অনুপ্রাণিত’ হয়ে মা ও দাদাকে গুলি করে খুন করেছে মেয়েটি।মহিলা পুলিশকর্মী ও মনোবিদদের উপস্থিতিতে নিজেই সে কথা স্বীকার করেছে রেল মন্ত্রকের উচ্চপদস্থের আধিকারিকের মেয়ে। যে জাতীয় শুটিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। ওই পুলিশকর্তা বলেন, ‘দাজাইয়ের উপন্যাসে পরিবর্তন, মানিয়ে নেওয়া এবং উপযুক্ত হয়ে ওঠার চেষ্টা করত ওবা ইয়োজো নামে এক চরিত্র। কিন্তু মানুষ হতে সে ব্যর্থ হয়। মেয়েটি সেই চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পেরেছিল। নিজের খাতায় লিখেছিল, মানুষ হতে ব্যর্থ, মানুষ হিসেবে বাতিল। এটা দাজাইয়ের লংগার হিউম্যানের বইয়ের একটি অংশ।’
কিশোরী পুলিশকে জানিয়েছে, শনিবার মধ্যাহ্নভোজের পর তার দাদা ও মা ঘুমোতে চলে যান। সে বাথরুমে গিয়ে স্নান সেরে ফলের রস খায়। আয়নায় লেখে ‘আমি বাতিল মানুষ’। প্রথমে বাথরুমের আয়না লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তারপর মা ও দাদাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি খেলনা ‘খুলি’ পাওয়া গিয়েছে। আর যে পিস্তল থেকে গুলি চালিয়েছিল কিশোরী, তা তার বাবার নামে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। মেয়েটিকে জুভেনাইল হোমে পাঠানো হচ্ছে।