রাজস্থানে সিঁদুরে মেঘ দেখছে কং, ২৫ বিধায়ক-সহ দিল্লিতে ‘বিক্ষুব্ধ’ শচীন পাইলট

রাজস্থানে জমে উঠেছে রাজনৈতিক নাটক।গতকাল মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot) যখন বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনলেন, তখনও বিষয়টি ততটা গুরুত্ব দিতে চাননি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই মনে করছিলেন, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী স্রেফ দলের বিধায়কদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারপর গতকাল বিকেল থেকে এমন কিছু ঘটনা ঘটল যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মরুরাজ্যে সত্যিই সংকটে কংগ্রেস সরকার। মধ্যপ্রদেশের নাটকের পুনরাবৃত্তি হতে পারে রাজস্থানেও।

এদিকে, রাজস্থান কংগ্রেস সূত্রে খবর, দলের এই সমস্যা নিয়ে দিল্লির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শচীন পাইলট। তাঁর অভিযোগ, উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে এড়িয়ে চলছে দল। সংবাদমাধ্যমের খবর, রাজস্থানের দুই শীর্ষ নেতাকেই ডেকে পাঠাতে পারে হাইকমান্ড।

আরও পড়ুন : মৃদু উপসর্গ থাকলেও বিগ বি’র অবস্থা স্থিতিশীল, জানাল নানাবতী হাসপাতাল, জলসায় শুরু স্যানিটাইজেশনের কাজ

শনিবার অশোক গেহলট দলের একটি বৈঠকে ডেকেছিলেন নিজের বাসভবনে। সেই বৈঠকে যাননি শচীন পাইলট। এদিনই এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট অভিযোগ করেন, রাজস্থানে কংগ্রেস সরকাকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি।গেহলের দাবি, দেশ যখন করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কে কাঁটা সেইসময় রাজ্যের বিধায়কদের বিপুল টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করছে বিজেপি।  একজন বিধায়ককে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে না গিয়ে পাইলট সটান চলে গেলেন দিল্লিতে। সঙ্গে তাঁর অনুগামী অন্তত দু’ডজন বিধায়ক। রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে দেখা করতে চান। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী গেহলটের কাজে একেবারেই সন্তুষ্ট নন তিনি।

পাইলট ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। যে তিন নির্দল বিধায়কের বিরুদ্ধে গেহলট সরকার তদন্ত শুরু করেছে, তাঁরাও পাইলটের সঙ্গেই দিল্লিতে এসেছেন। সোনিয়ার সাক্ষাৎ না পেলে সরকারের উপর থেকে তাঁরা সমর্থন প্রত্যাহার করে নিতে পারেন বলে সূত্রের খবর।

অনেকে এর জন্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক নীতিকে দায়ী করেছেন। শচীন পাইলট এবং সিন্ধিয়াকে ভয় পেয়েছে কংগ্রেসের ‘বুড়োরা’। বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের থেকে তারা নিজেরা উদীয়মান এই দুই নেতার গতি আটকাতে চেষ্টা করেছে। সেই সুযোগটাই নিয়েছে বিজেপি।কংগ্রেসের হাইকমান্ড এই পক্ককেশ নেতাদের বেশি করেছে। এরা ইন্দিরা জমানার লোক। সনিয়া তাদের প্রতি ঝুকে পড়েন।

কিন্তু কংগ্রেসের  দরকার ছিল উদ্দীপনার। নতুন শক্তির রাহুলের দ্বারা সেটা হবে কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। তবে রাহুল এই তরুণ বিগ্রেডটাকে কাজে লাগাতে পারতেন। সে কাজটা শুরু হয়েছিল। তাতেই বিগড়ে গেল ‘বুড়োরা।’ স্বাভাবিকভাবেই মানুষ তার সমসাময়িক মানুজনের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তাদের ওপর আস্থা রাখেন। প্রজণ্মগত ব্যাবধান একটা দূরত্ব তৈরী করে দেয়। বিজেপি যে কৌশলে রাজনীতি করছে , তাতে কংগ্রেসের পুরনো রাজনীতি আর চলবে না। কেবল কুরসী ধরে রাখতে চাইলে আর হবে না। এখন কংগ্রেসকে উঠে আসা নতুন দলের মত ফাইট করতে হবে। তা না হলে প্রতিবারেই বাড়া ভাতে ছাই পড়বে।

আরও পড়ুন : এবার করোনা হানা অনুপম খেরের বাড়িতে, আক্রান্ত অভিনেতার মা,ভাইয়ের পরিবার