যোগী রাজ্যে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইবাজদের হামলা, প্রাণ গেল দুর্গাপুরের মা-মেয়ের

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#লখনউ: রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল উত্তরপ্রদেশের মথুরায় চলন্ত ট্রেনের মধ্যে ঘটা অবিশ্বাস্য ঘটনা। মথুরারোডে স্টেশনের কাছাকাছি জায়গায় চলন্ত ট্রেনে ঘটে গেল দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনির বাসিন্দা মা-মেয়ের হত্যাকাণ্ড।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা মীনা দেবী, মনীষা এবং তাঁর ছেলে আকাশ। উত্তরপ্রদেশের মথুরার কাছে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন মা-মেয়ে। ছিনতাইকারীরা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে গেলে বাধা দেন মীনা দেবী। সে সময়েই তাঁকে ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ছিনতাইকারীরা। মাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন মেয়ে মনীষা কুমারী। তারপরেই সব শেষ। শনিবার মথুরা রোড স্টেশনের কাছে রেল লাইনে মীনা দেবীর দেহ উদ্ধার করে রেল পুলিস। এসপি (আগ্রা রেল পুলিশ) যোগেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিল মনীষা। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

তবে পুলিশ এই ঘটনা মানতে চায়নি। মা-মেয়ের চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা অস্বীকার করেছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, ছিনতাইকারীদের তাড়া করতে গিয়ে অন্য ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে মা ও মেয়ের। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত।

দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছর আঠেরোর মণীষা ডোমের বাবা গাড়িচালক, মা গৃহবধূ। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর জয়েন্ট এন্ট্রান্সে বসেছিলেন মণীষা। কিন্তু ব়্যাঙ্ক ভাল হয়নি। অন্য দিকে পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তবুও মেয়েকে ডাক্তার করে তোলার স্বপ্ন নিয়ে রাজস্থানের কোটায় ডাক্তারি পড়তে পাঠাচ্ছিল ওই পরিবার।  গত বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর থেকে পূর্বা এক্সপ্রেসে দিল্লির রওনা হন মা-মেয়ে। দিল্লি থেকে কোটা যাওয়ার পথে ট্রেনে দুষ্কৃতীদের হামলার প্রাণ গেল দু’জনেরই। স্বপ্ন তো অধরাও রইলই, প্রাণও খোয়াতে হল তাঁদের।

রবিবার বিকেলে সেই দু’জনের দেহ ফিরল দুর্গাপুরে৷ মা-মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের আবহ গোটা কলোনিতে৷ আজমের শরিফ-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসে দুপুর দেড়টা নাগাদ দুর্গাপুরে ফেরে মীনাদেবী, মনীষার দেহ৷ স্টেশনে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও ছিলেন রেল আধিকারিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব৷ আর্থিক সাহায্যের দাবিতে স্টেশন মাস্টারের ঘরেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়৷ রেল আধিকারিক, পরিবারের সদস্যরা মিলে স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের ডিআরএমের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানান৷

এরপর বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ দু’জনের দেহ পৌঁছায় রাঁচি কলোনিতে৷ ততক্ষণে সেখানে জমায়েত হয়েছেন বহু মানুষ৷ শোকাতুর প্রতিবেশীরা৷ সন্ধে ৭টা নাগাদ মীনাদেবী, মনীষার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়৷ স্ত্রী, মেয়ের দেহ দাহ করার পর একেবারে ভেঙে পড়া বাড়ির কর্তা দিলীপ ডোম শুধু একটা কথাই বলে চলেছেন, তাঁর তো সবই শেষ হয়ে গেল৷ দোষীরা যেন যথাযথ শাস্তি পায়৷ তাতেই তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে৷

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest