উত্তরপ্রদেশ যেন নরক! হাথরসের পর বলরামপুর, ফের গণধর্ষণের জেরে মৃত্যু দলিত যুবতীর

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

হাথরাস ঘটনার পুনরাবৃত্তি উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরে। এখানে ধর্ষণ করে খুন করা হল ২২ বছরের এক দলিত কন্যাকে। বুধবার মারা যায় ধর্ষিতা ও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টমর্টেমের পর তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বলরামপুরের গোসরি থানার অন্তর্গত এলাকায় থাকতেন ওই যুবতী। কমার্স-এর ওই ছাত্র ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল দশটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন। তারপর শুরু হয় সেই যুবতীর খোঁজ। সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ রক্তাক্ত অবস্থায় সেই যুবতী রিকশায় চেপে বাড়ি ফিরে আসেন। কাউকে কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না সেই যুবতী। এরপর গ্রামেরই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তাররা তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন।

গ্রামের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ওই যুবতীকে ভাল কোনও হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই যুবতী।  তাঁর বাড়ির লোকের অভিযোগ, গ্রামেরই ৫-৬ জন যুবক তাঁকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। মাদক জাতীয় কোনও দ্রব্য সেই যুবতীকে খাওয়ায় ওই যুবকেরা। তারপর দুষ্কর্ম চলে। পীড়িতার মায়ের অভিযোগ, তাঁর মেয়ে যখন বাড়ি ফেরে তখন রক্তে সারা শরীর ভেসে যাচ্ছিল। তিনি আরো জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের কোমর ও দুটি পা ভেঙে রিকশায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাড়ি ফেরার পর সেই যুবতী কোন কথাই বলতে পারছিলেন না। শুধু বলেছিলেন, সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে। তিনি হয়তো আর বাঁচবেন না।

আরও পড়ুন: আজ থেকে দেশজুড়ে লাগু হচ্ছে ৪টি নতুন নিয়ম! জেনে নিন লেটেস্ট আপডেট…

মৃতার ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও হত্যার চার্জ এনেছে পুলিশ। তদন্ত চলছে এই ঘটনায় অন্য কেউ যুক্ত আছে কি না, সেটা দেখার জন্য। ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টে এই  মামলার বিচার হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

মেধাবী ছাত্রী হিসাবে গ্রামে ওই যুবতীর নামডাক ছিল। একটি সংস্থায় কমিউনিটি রিসার্চ পার্সন হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। পুলিস ওই যুবতীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছিল।  পোস্টমর্টেম রিপোর্টে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলির যুবতীর দেহে একাধিক আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। কিন্তু মেয়েটির হাত-পা ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে বলে যে বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল তা নস্যাৎ করা হয়েছে পুলিশের তরফে।

এনসিআরবি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, দেশের মধ্যে কী ভাবে বাড়ছে শিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনা। তথ্য বলছে, দেশে রোজ ৮৭ জন মহিলা ধর্ষণের শিকার হন। হাথরস নিয়ে যখন এত আলোচনা চলছে, তখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটছে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা। বুধবারই ২০ বছরের যুবক ধর্ষণ করেছে আট বছরের শিশুকে। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। অন্য একটি ঘটনায়, বুলন্দশহরে প্রতিবেশী যুবক ধর্ষণ করেছে ১৪ বছরের  নাবালিকাকে।

আরও পড়ুন: #HathrasHorror: গলাধাক্কা দিয়ে ফেলা হল রাস্তায়, শেষে রাহুলকে গ্রেফতার করল যোগীর পুলিশ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest