কাশ্মীরে যাওয়ার আগে অজিত ডোভাল ও ‘র’ চিফের সঙ্গে বৈঠকে শাহ, আশঙ্কায় উপত্যকাবাসী

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

#নয়াদিল্লি: রবিবার ছুটির দিনেও রাইসিনা হিলে তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতোই। এ দিন বেলার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের প্রধান সামন্ত গোয়েল, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান অরবিন্দ কুমার এববং স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গৌবাকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।

গত এক সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীরকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মুড়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। ৩৫,০০০ আধা সেনা আনা হয়েছে রাজ্যে। গত শুক্রবার অমরনাথের তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের দ্রুত রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  এমন ঘোষণার পরে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানবাজার, ওষুধের দোকান এবং এটিএমের বাইরে বহু মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। আতঙ্কিত পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরা।  শনিবার বাতিল করা হয়েছে সব চিকিৎসকদের ছুটি। বন্ধ স্কুল-কলেজ। শ্রীনগর থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার যাত্রীকে। কাশ্মীরগামী ট্রেনের টিকিট বাতিল করলে দিতে হচ্ছে না বাড়তি জরিমানাও।

এসবকিছুকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি বা বড়সড় জঙ্গি দমন অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বর্ণনা করেছেন অনেকে। না জানি কী হয়? গোছের আতঙ্ক ভোগাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলিকেও। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আবার বেশ কয়েকটি গুজব এবং কিছু ঘটনা আরও চিন্তা বাড়িয়েছে। গুজবের মধ্যে প্রথমত রয়েছে সংবিধানের ৩৭০ ধারা, ৩৫এ ধারা খারিজ করে দিতে পারে কেন্দ্র আর রয়েছে কাশ্মীর ও জম্মুকে আলাদা আলাদা রাজ্য করে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হতে পারে। অর্থাৎ তিনভাগে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে বর্তমান জম্মু ও কাশ্মীরকে। সামগ্রিক প্রস্তুতি দেখে অনেকেই মনে করছেন, বড় কোনও অপারেশন শুরু হতে চলেছে কাশ্মীরে। রবিবারের বৈঠক তা নিয়ে কৌতূহলের পারা আরও চড়িয়ে দিয়েছে। উপরি কাল সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটিরও বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কেউ কেউ অবশ্য বলছেন আশঙ্কার কোনও কারণ নেই, আসলে ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাশ্মীরের লালচকে পতাকা উত্তোলন করবেন। সেকারণেই এত নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এসবের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর জল্পনা। ৭ আগস্ট সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই নাকি উপত্যকায় যাচ্ছেন অমিত শাহ। প্রথমে তিনি যাবেন জম্মু। পরে কাশ্মীরে। কয়েকটা দিন সেখানে কাটিয়ে আসতে পারেন বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতেই সফর ? নাকি অন্য কোনও পরিকল্পনা? সেটা ভেবেই নয়া আশঙ্কায় উপত্যকাবাসী।

অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আগামিকাল সংসদ যে উত্তপ্ত থাকবে, বিরোধীদের আগের থেকে প্রস্তুতিই বলে দিচ্ছে। সে রাজ্যে অতিরিক্ত আধাসেনা মোতায়েন বিষয়ে রাজ্যসভায় ‘জ়িরো আওয়ার নোটিস’ দিয়ে রাখলেন পিডিপি সাংসদ নাজ়ির আহমেদ লওয়া। ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদ্দুলা রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্যত হুঁশিয়ারি সুরে জানিয়ে দেন, সংসদে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির দাবি জানাবে তাঁদের সাংসদরা। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজ়াদও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতির দাবি জানান।

জানা যাচ্ছে, সোমবার ‘জম্মু-কাশ্মীর সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল’ পেশ করা হবে রাজ্যসভায়। ওই বিলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সীমান্তবর্তী কাশ্মীরিদের জন্য শিক্ষা এবং চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

 

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest