হতভাগা দেশ! ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু অন্তত ৪২ শ্রমিকের

নয়াদিল্লি: সঞ্চয়টুকু ফুরিয়েছে। কেউ দু’বেলা ভাত তুলে দেবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। উপায়ন্তর না দেখে হাটতে শুরু করেছিলেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। সংবাদ শিরোনাম হয়েছ পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার দু’একটি ঘটনা। তথ্য বলছে, লকডাউনে পথদুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয়েছে ৪২ জন শ্রমিকের।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে আচমকাই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত ২৪ মার্চ, ২০২০ থেকে তিন দফায় ১৭ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে বন্ধ সমস্ত যান চলাচল। পরিযায়ী শ্রমিকেরা নিজেদের বাড়ি ফিরতে না পারায় বিভিন্ন রাজ্যে অশান্তিও ছড়িয়েছে একাধিকবার। কিন্তু এরই মধ্যে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে সেভ লাইফ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা।

আরও পড়ুন: Covid-19: দেশে আক্রান্ত ছাড়াল ৫০ হাজার, মৃত ১৭৮৩

দেখা যাচ্ছে, অন্তত ৪২ জন পরিযায়ী শ্রমিক হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনার মারা গিয়েছেন। রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনায় দ্বিতীয় দফার লকডাউন পর্যন্ত মোট ১৪০ জন মারা গিয়েছেন। এদের ৩০ শতাংশই পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা হেঁটে বা কোনও যানবাহনে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। মৃতদের মধ্যে ৮ জন ট্রাকের ধাক্কায় বা কোনও দ্রুত গতিতে ছুটে আসা গাড়ির ধাক্কায় মারা গিয়েছেন।

দ্বিতীয় দফার লকডাউনে দেশজুড়ে মোট ৬০০টি পথ দুর্ঘটনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৪২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের পাশাপাশি আরও ১৭ জন জরুরি পরিষেবার কর্মীও মারা গিয়েছেন। সেভ লাইফ ফাউন্ডেশন সংস্থার সিইও পীযূষ তিওয়ারি জানিয়েছেন, ‘এই তথ্যগুলি বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি ন্যূনতম রিপোর্ট। বহু রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে সঠিক কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে কোনও মামলাও রুজু হয়নি।’

১৪০টি কেসের মধ্যে ১০০টি কেসের সন্ধান মিলেছে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, অসম, কেরালা, কর্নাটক, রাজস্থান, পঞ্জাব ও তামিলনাড়ু থেকে। পঞ্জাবে এই মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর পরে রয়েছে কেরালা, দিল্লি ও কর্নাটক।

আরও পড়ুন: স্মৃতির পাতায় রবীন্দ্রনাথ…

Gmail