ভীমা-কোরেগাঁও হিংসায় এবার গ্রেফতার ৮৩ বছরের মিশনারি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

মহারাষ্ট্রের ভীমা-কোরেগাঁও হিংসার ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পরেই মানবাধিকার সংগঠন ‘পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ’-এর কাছে চিঠি লিখে সেই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা মিলেও গেল। ঝাড়খণ্ডের ৮৩ বছরের জেসুইট মিশনারি স্টান স্বামীকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে এনআইএ।

সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে মাওবাদী যোগের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রের খবর, দিল্লি থেকে আসা এনআইএ-র একটি দল স্বামীকে তাঁর রাঁচির বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁরা বাড়িতে মিনিট কুড়ি ধরে তল্লাশিও চালান। এই নিয়ে ভীমা-কোরেগাঁও হিংসায় ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হল।

আরও পড়ুন : চিনের সাহায্যে অধিকৃত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বানাচ্ছে পাকিস্তান

ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ শুক্রবার স্বামীর গ্রেফতারি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন। তাঁর টুইট, ‘‘স্টান স্বামী আজীবন আদিবাসীদের অধিকারের লড়াই করেছেন। সেই কারণেই নরেন্দ্র মোদী সরকার নিপীড়ন করে তাঁর মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ, এই সরকারের আমলে আদিবাসীদের জীবন ও জীবিকার চেয়ে খনি সংস্থাগুলির মুনাফা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’’দুঁদে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও স্বামীর গ্রেফতারির জন্য এ দিন মোদী সরকারকে দুষে টুইটারে লিখেছেন, ‘‘বিজেপি সরকারের আমলে এনআইএ-র হিংসা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।’’

‘পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ’ এদিন জানিয়েছে, স্বামীকে দু’দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পরে ফের মুম্বইয়ের এনআইএ দফতরে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু বয়স এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি মুম্বইয়ে যেতে চাননি। চিঠিতে স্বামী লিখেছেন, ‘‘পুলিশ এবং এনআইএ-র সামনে প্রতিবারই দৃঢ় ভাবে মাওবাদী সংস্রবের কথা আমি আমি অস্বীকার করেছি।’’

এখন যে কটি কেন্দ্রীয় সংস্থা আছে তারা যা বলে তার বেশিরভাগই ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস।’ যার ওপর কিংবা যাদের ওপর শাসক দল বিরক্ত তাদের সবক শেখাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সিবিআই, এনআইএ কিংবা ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে। যারাই মানবাধিকার নিয়ে সরব তারাই বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসকদলের চাপে রয়েছে। কেন্দ্রীয় শাসক দল তাদের গেরুয়া ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদের অদ্ভুত একটি মিশ্রণ বানিয়ে দেশবাসীকে খাওয়াচ্ছে। এই মিশ্রণ গিলে ফেললেই মাথায় রং নম্বর ঢোকাতে অসুবিধা হয় না। কাজ না থাক। রুজি-রটির ব্যবস্থা না হোক, তবুও এরা মন্দির নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। গেরুয়ায় ধর্ম ছাড়া বাকিদের সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলবে। আর চিৎকার করে বলবে ‘ভারত মাতা কি জয়’ … ‘জয় শ্রী রাম।’

গত এপ্রিলে ভীমা কোরেগাঁও মামলায় শিক্ষাবিদ আনন্দ তেলতুম্বডে এবং সমাজকর্মী গৌতম নওলাখাকে গ্রেফতার করে এনআইএ। জুলাই মাসে প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় স্টান স্বামীকে। তার আগে গত বছর জুন মাসে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন বিজেপি-শিবসেনা জোট সরকারের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল তাঁকে।

তৃতীয় ইঙ্গ-মরাঠা যুদ্ধে পেশোয়াদের চূড়ান্ত পরাজয় উপলক্ষ্যে প্রতি বছর ১জানুয়ারি ভীমা-কোরেগাঁওয়ে জয় স্তম্ভে দলিত মানুষ জড়ো হন। ১৮১৮ সালে এই দিনেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পেশোয়া শক্তিকে পরাজিত করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সাহায্য করেছিল দলিত ‘মাহার’  জনগোষ্ঠী। তাই ওই দিনটিকে তাঁরা ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করেন তখন থেকেই। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর দলিতদের ‘এলগার পরিষদ’-এর এই অনুষ্ঠানের পর দিনই হিংসা ছড়িয়েছিল পুণে জেলার ভীমা-কোরেগাঁও এলাকায়। ২০১৮-র ১ এবং ২ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দলিত-মরাঠা সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন : উচ্চতা ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি!‌ ব্যাটসম্যানদের ঘুম কাড়তে আসছে পাকিস্তানের এই ফার্স্ট বোলার

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest