‘কখনও বলিনি এটাই আমার শেষ নির্বাচন’, চেনা ছন্দে ডিগবাজি নীতীশের !

নীতিশ কুমারকে লালুপুত্ররা ডাকেন ‘পাল্টু চাচা’ বলে। তাঁর মত তাৎক্ষণিক পাল্টি খেতে পারেন কম জনই। নির্বাচন জিতে উঠে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেরই বক্তব্যকে খণ্ডন করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তাঁর বক্তব্যের ‘ভুল ব্যাখ্যা’র দায় মিডিয়ার ঘাড়ে চাপিয়ে জেডি(ইউ) সুপ্রিমো উপস্থিত সকলকে বিস্মিত করে দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক অবসর’ নিয়ে তিনি কোনও কথাই বলেননি। সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘প্রতিবার শেষ নির্বাচনী জনসভায় তিনি যে কথা বলে থাকেন, এ বারও তাই বলেছিলেন। ‘অন্ত ভালা তো সব ভালা’ (শেষ ভালো তো সব ভালো)। আপনি যদি আমার বক্তব্য ফিরে শোনেন সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন : ঘুমন্ত ৪ জনকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে খুন জামুরিয়ায়, পুলিশের জালে অভিযুক্ত

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার পটনায় এটাই ছিল জনতা দল ইউনাইটেডের সভাপতি নীতীশ কুমারের প্রথম সাংবাদিক বৈঠক। নীতীশ যোগ করেন, ‘যদি আমায় ভবিষ্যতে ফের কাজ করতে হয়, একই রকম নিষ্ঠার সঙ্গে করব।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে নীতীশ বলেন, ‘আমার সম্পর্কে কিছু বলার আগে আপনারা এটা জেনে রাখুন, আমার ব্যক্তিগত কোনও পছন্দ নেই। কাজ যখন করতেই হয়, নিষ্ঠার সঙ্গেই তা করি। ভবিষ্যতেও সে ভাবে করব, এটা আপনারাও জানেন।’

নীতীশ এখন নিজের বক্তব্য নিয়ে ডিগবাজি খেলেও উনি পূর্ণিয়ার দমদহে নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, ‘ইয়ে মেরা অন্তিম চুনাও হ্যায়। অন্ত ভালা, তো সব ভালা। (এটাই আমার শেষ নির্বাচন। সব ভালো যার শেষ ভালো।)’

শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে নীতীশ কুমার বলেন, ‘বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ২৯ নভেম্বর। তার আগে শপথ নেওয়া মানে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিতে হয়। তা ছাড়া, নতুন করে শপথগ্রহণের আগে সে ক্ষেত্রে আমাকে ইস্তফাও দিতে হবে।’ ফলে, সোমবারই শপথগ্রহণ নাকি ২৯ নভেম্বরের পর, শুক্রবারের বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে।

সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশের জেডি(ইউ) ৪৩টি আসন পেয়েছে। ২০১৫ সালে নীতীশের দল পেয়েছিল ৭১টি আসন। সে বার অবশ্য আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি জোট বেঁধেছিলেন। অপর দিকে, বিজেপির আসন বেড়ে ৭৪ হয়েছে। তাই সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন ঠিকই। কিন্তু, আগের মতো কি আর স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন?

সরাসরি উত্তর না দিয়ে নীতীশ কুমার বলেন, ‘জীবনে তিনটে জিনিসের সঙ্গে কখনও কোনওরকম আপস করিনি। তা হল, অপরাধ, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতা। এখানে কোনও পরিবর্তন এ বারেও হবে না। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিহারে একটি দাঙ্গার ঘটনাও ঘটেনি।’

আরও পড়ুন : ভূয়সী প্রশংসা মনমোহনের, রাহুল গান্ধী ‘অগোছালো’ প্রকৃতির, ওবামার আত্মজীবনীতে নেই মোদী