চাপের মুখে মাথা নোয়ালে চলবে না, বললেন সুপ্রিম কোর্টের এই বিচারপতি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

কর্তব্য পালন করতে গেলে ক্ষমতাশালীদের কাছ থেকে চাপ আসবেই। কিন্তু সেই চাপের সামনে মাথা নোয়ানো চলবে না। বরং নৈতিকতায় অটল থাকতে হবে। বিগত কয়েক বছরে সর্বোচ্চ আদালতের একের পর এক সিদ্ধান্তে দেশের বিচার ব্যবস্থা যখন প্রশ্নের মুখে, সেইসময় এমনই বার্তা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম অভিজ্ঞ বিচারপতি এনভি রমন।

তাঁর মতে, বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা হাতে ধরিয়ে দেওয়ার বস্তু নয়, তা অর্জন করতে হয়। এই বিচারপতি তাঁর সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে কিছুদিন আগে অভিযোগ করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি।

হাইকোর্টের কাজকর্মের উপর নজর রাখা নিয়ে সম্প্রতি বিচারপতি রমনের সঙ্গে বিরোধ বেধেছে অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএস জগন রেড্ডি সরকারের। সেই নিয়ে প্রধান বিচারপতি এসএ বোবডেকে চিঠি লিখেছেন জগন। তাঁর অভিযোগ, হাইকোর্টের কাজে প্রভাব খাটাচ্ছেন বিচারপতি রমন।

আরও পড়ুন : নিরাপদ নয় ব্যাঙ্কের লকারও, বর্ধমানে উধাও প্রায় ৭০ ভরি গয়না, নীরব কর্তৃপক্ষ

চাপের মুখে মাথা নত না করে, সমস্ত বাধা বিপত্তিকে প্রতিহতই করাই এক জন বিচারপতির কর্তব্য বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি রমন। তিনি বলেন, ‘‘নৈতিকতা বিসর্জন না দিয়ে নির্ভীক চিত্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিচারপতির কর্তব্য। সব ধরনের চাপ ও বাধা বিপত্তির সামনে সাহসে ভর করে মাথা তুলে দাঁড়ানোই এক জন বিচারপতির ধর্ম। নৈতিকতাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ, কোনও পরিস্থিতিতেই তা ভোলা উচিত নয়।’’শনিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এআর লক্ষণনের শোকসভায় এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি রমন।

সেই কোনকাল থেকে এদেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের ওপর থেকে মানুষের ভরসা উঠে গিয়েছে। সরকারের ওপর এদেশের জনগনের ভরসা রয়েছে একথা ভাবলে বিলক্ষণ ভুল হবে। কিন্তু নেতাদের দাপট এবং সরকার বাহাদুরের পুলিশকে ভয় পায় সকলে। কেবল এতদিন পর্যন্ত বিচারব্যবস্থার প্রতি কিছুটা শ্রদ্ধা বেঁচে ছিল। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি। কিন্তু রাজ্যসভায় যাবার আগে রঞ্জন গগৈ তার প্রতি কতটা সুবিচার করছেন, তা ইতিহাস বলবে।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিল কিছু ‘হিন্দু উন্মাদ।’ তাদের উৎসাহ দিয়েছিলো আজকের শাসক দল।সম্বোধনটা অনেকের কাছে খারাপ লাগতে পারে। তবে এটা ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদীর’ মতোই একটা সম্বোধন। সয়ে নিলেই ঝামেলা শেষ। বাবরি রায় দেবার পর দেশের সর্বোচ্চ আদালত তার পুরোনো গরিমা ভুলুন্ঠিত করে বলে মনে করেছিলেন বহু অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিও। ‘আস্থায়’ বিচার হতে এর আগে কেউ দেখেনি। তবে একথা মানতে হবে যে এই রায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু শেষ করে দেয়।

প্রথমত, বিজেপির মন্দির ইস্যু খতম হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, মসজিদ ভেঙে যে মন্দির হয়নি, সে কথা বলে গেরুয়া দাবিকেও নস্যাৎ করে দেয় আদালত। একই সঙ্গে বলা হয় মসজিদ ভাঙা অপরাধ ছিল। মসজিদে রামলালার মূর্তি লুকিয়ে ঢোকানো হয়েছিল। সবকিছুর পর, ‘আস্থায়’ রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। নিজেকে নামিয়ে এনেছিল বাবরি মসজিদের জায়গাতেই । বাবরি নামক ইমারতটি ভুলুন্ঠিত হয়েছিল সেই 1992 এ। আর ন্যায়প্রতিষ্টানটির ন্যায়পরায়ণতা ভুলুন্ঠিত হল 9 নভেম্বর 2019।  বাবরি মজসিদের স্থায়ী ঠিকানা হল ইতিহাসে। সুপ্রিম কোর্টকেও জবাব দিতে হবে ইতিহাসের কাছে। তবে আশার কথা সুপ্রিম কোর্ট চাইলে ফের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু …।

আরও পড়ুন : সুস্থ হচ্ছেন সৌমিত্র, কথা বলার চেষ্টা করছেন, আচ্ছন্ন ভাব কাটলেই মিলতে পারে ছুটি

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest