বিকেলেই পৌঁছবে ৫টি রাফাল, অম্বালা ঘাঁটিতে জারি ১৪৪ ধারা, জেনে নিন এই যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা…

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

চুক্তি হয়েছিল চার বছর আগে। জলঘোলাও কম হয়নি। অবশেষে আজ অর্থাৎ ২৯ জুলাই ভারতে আসতে চলেছে রাফাল বিমান। হরিয়ানার আম্বালায় ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটিতে রাখা হবে এই বিমান।

বুধবার বিকেলে হরিয়ানার অম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে নামবে ওই পাঁচটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ‘অতিথি’দের ঘিরে এই মুহূর্তে সাজো সাজো রব পড়ে গিয়েছে অম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটি এবং সংলগ্ন এলাকায়। রাফাল এসে পৌঁছনোর আগে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে অম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটিকে। বায়ুসেনা ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। একসঙ্গে চার জনের বেশি মানুষ জমায়েত করতে পারবেন না সেখানে। ড্রোন ওড়ানো, ছবি তোলা এবং ভিডিয়ো রেকর্ড করার উপরও নিষেধাজ্ঞা বসানো হয়েছে।

পাক সীমান্ত থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এ দিন হাজির থাকছেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল রাকেশকুমার সিংহ ভাদৌরিয়া। ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। এ দিন সেখানে রাফাল যুদ্ধবিমানগুলিকে স্বাগত জানাবেন তিনি। তার জন্য আশেপাশের এলাকাগুলিকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। অম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটি সংলগ্ন ধুলকোট, বলদেব নগর, গরনালা এবং পঞ্জখোরা গ্রামেও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ছাদে উঠতে নিষেধ করা হয়েছে গ্রামবাসীদের। স্থানীয় এক বিধায়ক আবার গ্রামবসীদের মোমবাতি জ্বালিয়ে রাফাল যুদ্ধবিমানগুলিকে স্বাগত জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ১২ থেকে ৫ হচ্ছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা? বুধে বৈঠক মোদীর

আরও একবার জেনে নেওয়া যাক ঠিক কতটা শক্তিমান এই যু্দ্ধবিমান। চিন হোক বা পাকিস্তান, শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ে কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠতে চলেছে এই বিমান-

  • এতদিন ভারতের কাছে ছিল লং রেঞ্জ মিসাইল স্কাল্প যা ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত হানা দিতে পারে। কিন্তু রাফালের শক্তি এতটাই যে চিন হোক বা পাকিস্তান, শত্রুশিবিরে ৬০০ কিলোমিটার ঢুকে আঘাত হানার সক্ষমতা আছে তার।
  • রাফালের বিয়ন্ড ভিজুআল রেঞ্জ ১৫০ কিমির বেশি। পাকিস্তানের হাতে যেসব যুদ্ধবিমান আছে তার বিভিআর বড়জোড় ৫০ কিলোমিটার
  • এয়ার টু এয়ার মিসাইল রাফাল জেটগুলির অন্যতম ইউএসপি। এর ফলে ১৫০ কিলোমিটার দূরের টার্গেট বিদ্ধ করতে পারবে ভারতীয় বায়ুসেনা।
  • এছাড়াও রাফালে থাকে এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল। এই মিসাইল অন্তত ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম।
  • ১০০ কিলোমিটার জায়গার মধ্যে ৪৫ টি নিশানায় এক সঙ্গে আঘাত হানতে পারে রাফাল।
  • রাফালের এয়ারটু এযার এবং এয়ার টু সারফেস ফায়ারপাওয়ার ৩৭০০ কিলোমিটার।
  • পাকিস্তান এবং চিনের বায়ুসেনা যে জেএফ ১৭ এবং জে ২০ যুদ্ধবিমানগুলি ব্যবহার করছে, সেগুলি দিনে এবং রাতে উড়তে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই চালাতে সক্ষম৷ চিনের দাবি অনুযায়ী, জেএফ ১৭ ফোর্থ জেনারেশন এবং জে ২০ ফিফথ জেনারেশন এয়ারক্রাফট৷অন্যদিকে রাফালকে বলা হচ্ছে ৪.৫ জেনারেশন এয়ারক্রাফট৷ রাফালের নির্মাণকারী সংস্থা দাসল্ট-এর দাবি, এগুলি omnirole এয়ারক্রাফট৷ অর্থাৎ প্রত্যেকটি মিশনে এই যুদ্ধবিমানকে যে লক্ষ্যে কাজে লাগানো হয়, প্রয়োজনে রাফাল তার থেকেও অতিরিক্ত করার ক্ষমতা রাখে৷
  • তবে যুদ্ধবিমান যতই অত্যাধুনিক এবং ক্ষমতাসম্পন্ন হোক না কেন, তার সাফল্য নির্ভর করে অস্ত্রশস্ত্র এবং রাডারের উপর৷ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাফাল যে ধরনের মিসাইল এবং অস্ত্রশস্ত্র বহনে সক্ষম, তা পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সেরা এবং সর্বাধুনিক৷ রাফাল যে ধরনের METEOR এয়ার টু এয়ার লং রেঞ্জ মিসাইল ব্যবহার করে, তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আকাশে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি আমূল বদলে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

রাফাল যুদ্ধবিমান গেমচেঞ্জার। ফ্রান্স থেকে আসা বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী লড়াকু বিমান ভারতে অবতরণের দিনে এ ভাবেই দেশবাসীর কাছে রাফালের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়া। চিনের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও ভারত রাফালের কারণে অনেকটা এগিয়ে থাকবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায় চিনের পঞ্চম জেনারেশন J-20 কোনওভাবেই রাফালের সঙ্গে তুলনায় আসে না।

আরও পড়ুন:  প্রশান্ত ভূষণের মামলা প্রত্যাহারের আর্জি ১৩১ বিদ্বজ্জনের, সমালোচনা রোখার চেষ্টা শীর্ষ কোর্টের!

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest