‘মুখর’ প্রধানমন্ত্রী হাতরাস কাণ্ডে এমন নীরব কেন, প্রশ্ন দেশ জুড়ে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

মাসুদ বিন আনোয়ার

গোটা দেশ হাথরসের ঘটনায় উত্তাল হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নীরব। সকাল থেকে মোহনদাস গাঁধী ও লালবাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এবং সন্ধেয় বিজ্ঞানীদের এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে দীর্ঘ বক্তৃতা করলেও, হাথরাস নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি সারা দিনে।

ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও কীভাবে সিলেকটিভ নিন্দা ও সমালোচনা করতে হয়, তা সংকীর্ণ ও নির্লজ্জ রাজনীতিবিদরা চাইলে তা শিখতে পারেন। আখলাক হত্যার সময়ও তিনি এমন করেই নীরব ছিলেন। অবিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটলে প্রধানমন্ত্রী বাবুর জন্মদিনে দিনভর সেই কাসুন্দিই গাইতেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চরিত্রটিই তাঁকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী করে রাখলো। অথচ দেশবাসীর প্রধানমন্ত্রী হবার তাঁর পূর্ণ সুযোগ ছিল। অবিজেপি শাসিত রাজ্যে পুলিশের এমন ব্যাবহার দেখলে প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বাজিমাত করে ফেলতেন। তা এতক্ষন নেটপাড়ায় ভাইরালও হয়ে যেত। কিন্তু তিনি তা করতে পারলেন না। মানুষের প্রধানমন্ত্রী হবার কোনও তাগিদ তাঁর মধ্যে নেই। এমনটাই বলছেন অনেকে।

কেউ বলতেই পারেন , প্রধানমন্ত্রী কেন সব বিষয়ে মুখ খুলবেন। তাদের উদ্দেশ্যে জানাই, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই ধারণা তৈরী করেছেন । প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডক্টর মনমোহন সিং তার মনের কথা লোককে শোনাতে চাইতেন না। তিনি জানাতেন সরকারের কথা। তিনি সমস্ত বিষয়ে কথা বলতেন না। তাই তাঁর কাছে থেকে মানুষ সব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চাইত না। কিন্তু বিজেপির ‘অঘোষিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মুখপাত্র’ প্রধানমন্ত্রী। ফলে তাঁকে তো মুখ খুলতেই হবে।

আরও পড়ুন : হাথরস কাণ্ডে অবশেষে চাপের মুখে সাসপেন্ড ডিএম, এসপি এবং দুই পুলিশকর্মী

সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরির কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বা কোথায়। দেশে সব চেয়ে বড় রাজ্যটি জুড়েই কেন ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে?”

এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি রাষ্ট্রপুঞ্জের নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনায় মহিলাদের ক্ষমতায়নে সরকারের ‘অবদান’ নিয়ে সরব হলেন। কংগ্রেস বলল, উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের উপর হামলার ঘটনায় নীরব স্মৃতি নির্বিকার ভাবে ভারতে মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বিশ্বকে বলে বেড়াচ্ছেন! এটা দ্বিচারিতা।

গোটা দেশ দেখছে। নির্লজ্জের মত যোগীর পুলিশ মিডিয়াকে ঢুকতে দিচ্ছেন। যোগী সরকার তা মেনে নিচ্ছে। সরকারের ইন্ধন না থাকলে ওই পুলিশদের কার ঘাড়ে কটা মাথা আছে যে এইভাবে মিডিয়ার পথ আটকায়? একটি মেয়েকে অবর্ণননীয় অত্যাচার করে মেরে ফেলা হল। তাঁর লাশ পর্যন্ত পরিবারের হাতে দেওয়া হল না। গভীর রাতে যোগীর পুলিশ সেই লাশ জ্বালিয়ে দিল। চুপ প্রধানমন্ত্রী। চুপ আরএসএস। চুপ বজরং দল। যিনি সর্বদায় পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কাতর সেই রাজ্যপালও নীরব। পশ্চিমবঙ্গ হলে তিনি এতক্ষন অন্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলতেন এখানকার সরকার ব্যর্থ। রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার শুরু হয়ে যেত।

বিজেপি যেহেতু এখন ওয়ান ম্যান টিম, তাই সকলে মোদির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তিনি এখনও ভাষণ সাজিয়ে উঠতে পারেনি। একটু সময় পেলেই পাকিস্তান কিংবা চীনকে মোক্ষম জবাব দেবেন তিনি। নাম না করে। আত্মনির্ভতার কথা বলবেন। পুতুল বানানোর গপ্পো শোনাবেন মন কি বাত অনুষ্ঠানে।

কোনও যুদ্ধাস্ত্রের গল্প বলে কিংবা পড়শী দেশকে সবক শেখানোর হুমকি দিয়ে ফের তিনি একবার নেটপাড়া জয় করে নেবেন।কিন্তু ওই দলিত পরিবারটির কী হবে। ওরা তো আর কাশ্মীরের বাসিন্দাও নয়। তাহলে হয়ত জঙ্গি-টঙ্গী কিছু একটা বলা যেত। গোটা দেশ হতবাক। একটা স্বাধীন দেশে পুলিশের এমন নৈরাজ্য দেখে ইন্ডিয়া টিভি পর্যন্ত হতবাক। তারাও উত্তেজিত। কিন্তু নিরুত্তাপ যোগী ও মোদী। মেয়েটি কী আজমল কাসভের মত ছিল? সে কারণেই কী তার লাশ পরিবারের হাতে দেওয়া গেলো না?

মেলেনি জবাব। মিলবে না জবাব। যতক্ষণ না অন্যায়কে, অপরাধকে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব অপরাধ বলে প্রকাশ্যে শিকার করতে না পারবে। যতদিন ধর্ষণ , খুনের মত ঘটনা নিয়ে রাজনীতি বন্ধ না হবে। যতদিন ধর্মকে-অধর্মের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে বিক্রি বন্ধ না হবে। যতদিন সমস্ত কিছু থেকে রাজনীতির ফায়দা তোলার নির্লজ্জ চেষ্টা বন্ধ না হবে, ততদিন কিছু বদলাবে না। কেবল ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ কিংবা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ভেসে বেড়াবে বাতাসে। একই সঙ্গে ভেসে বেড়াবে এমন হাজার ধর্ষিতা ও অত্যাচারিতার পরিবারের কান্না। সবকিছুর পর প্রাইম টাইমে চিৎকার করে কোনও সংবাদ সঞ্চালক শোনাবেন নিউ ইন্ডিয়ার গপ্পো। রামমন্দিরের গপ্পো। প্রধানমন্ত্রীর মাশরুম খাওয়ার গপ্পো।

আরও পড়ুন : হাথরাস–কাণ্ড এবং তৃণমূল সাংসদদের হেনস্থার প্রতিবাদ, আগামীকাল বিকেলে কলকাতায় মিছিল মুখ্যমন্ত্রী

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest