জলে গেল ২৬৪ কোটি টাকা! নীতীশের উদ্বোধনের ২৯ দিনের মধ্যে ভেঙে পড়ল ব্রিজ

এক মাসও গেল না। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন করা সেতু জলের তোড়ে ভেঙে ভেসে গেল। বুধবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের গোপালগঞ্জে। যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ব্রিজ ভেঙে ভোটের মুখে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন ‘বরুণদেব’! এমনটাই বলছে ওয়াকিবহাল মহল। ব্রিজ ভাঙা কাণ্ডে নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) সরকারের মুণ্ডপাত করছে বিরোধী আরজেডি ও কংগ্রেস। বিজেপি অবশ্য মুখে কুলুপ দিয়ে রয়েছে। নীতিশ তাদের বন্ধু। সামনে ভোট। নীতীশকে সঙ্গে নিয়েই লড়বে তারা। অতএব স্পিকটি নট।

গত মাসের ১৬ জুন গোপালগঞ্জের গণ্ডক নদীর উপর এই সাত্তারঘাট সেতুটি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। কিন্তু বর্ষায় নদীর জলস্তর বেড়েছে। বিহারে একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি। তার মধ্যেই ২৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর একটা অংশ ভেঙে পড়ে নদীর জলে ভেসে যায়। গোপালগঞ্জের সঙ্গে পূর্ব চম্পারণ, সিওয়ান ও সরণ জেলার সংযোগ স্থাপনে এই সেতু নির্মিত হয়েছিল। যার সলিল সমাধি হয়ে গেল বুধবার।

আরও পড়ুন : আমেরিকা, ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের বিমান পরিষেবা শুরু আগামীকাল থেকে

এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav) নীতীশ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘উদ্বোধনের ২৯ দিনের মধ্যে একটা সেতু ভেঙে পড়ল। যেটা আট বছর ধরে তৈরি করা হচ্ছিল। নীতীশ কুমারের জমানায় ব্রিজ ভেসে যাওয়াটা রেওয়াজ হয়ে গিয়েছে। ভোটের রাজনীতির জন্য তড়িঘড়ি ব্রিজ উদ্বোধন করলেন, আর এই পরিণতি। সরকারের উচিত এখনই নির্মাণ সংস্থাকে ব্ল্যাক লিস্ট করা।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘কাহালগাঁওতে উদ্বোধনের দিনই বাঁধ ভেঙে পড়েছিল। ইঁদুর ব্রিজের অবস্থা বেহাল করে দেয়। এসবের টাকা আসে কোথা থেকে? মুখ্যমন্ত্রী গত ১৫ বছরে ৫৫টা দুর্নীতি করেছেন। নির্মাণ সংস্থার থেকে টাকা খেলে তো ব্রিজ ভাঙবেই!’ প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে গঙ্গার তীরে নদীবাঁধে ধস নামার সময় ইঁদুরের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে ছিল নীতীশ কুমার সরকার। এবার কাদের ঘাড়ে দোষ চাপায় সরকার, সেটাই দেখার বলছেন বিরোধীরা।

আরও পড়ুন : বিদ্বেষী, সন্দেহবাতিকদের থেকে দূরে থাকুন, হাসপাতাল থেকে ‘জীবনপাঠ’ বিগ বি-র