চিন নিয়ে যে প্রশ্নগুলি মোদী ও কেন্দ্র সরকারের মাথাব্যাথার কারণ হয়েছে, দেখে নিন চোখ চালিয়ে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

ওয়েব ডেস্ক: পূর্ব-লাদাখের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা সেনার অনুপ্রবেশের ঘটনা যে ভাবে ‘খারিজ’ করেছেন নরেন্দ্র মোদী, তাতে স্তম্ভিত-হতভম্ব দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক মহল।

মোদীর এই ‘খারিজ’ মন্তব্যে যে প্রশ্নগুলি স্বাভাবিক ভাবে ওঠে সেগুলি হল

1. চিনা ফৌজ যদি ভারতের এলাকায় না ঢুকে থাকে, তা হলে কেন শহিদ হতে হল ২০ জন ভারতীয় সেনাকে?

2.উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট, গলওয়ান উপত্যকায় ঢুকে এখনও ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। সোমবার রাতের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের দু’দিন পরে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, ‘‘এলএসি’র এ পারে ভারতীয় এলাকাতেই পুরো ঘটনা ঘটেছে।’’ প্রশ্ন উঠছে, গলওয়ান উপত্যকায় যে ভারতীয় ভূখণ্ড চিন দখল করে বসে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর, তাকে কি তবে চিনা এলাকা বলেই মেনে নিচ্ছে মোদী সরকার?

3. পূর্ব লাদাখের কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার ভূখণ্ডকে কি চিনের এলাকা বলে স্বীকার করে নেওয়ার এবং ভারতের মানচিত্র পরিবর্তনের পথে হাঁটতে শুরু করার ইঙ্গিত দিল প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য?

প্রাক্তন বিদেশসচিব এবং চিন-আমেরিকাতে নিযুক্ত প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নিরুপমা রাওয়ের ব্যাখ্যা, ‘‘আমার মনে হয়, চিনের সঙ্গে শক্তির ফারাকের কথা ভেবে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে, সরকার বাধ্য হয়েই এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুনর্গঠন প্রশ্নে চিন আগের চেয়ে অনেক কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গলওয়ান-সহ এলএসি-তে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টা শুরুর ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনায় এসেছে।’’

পাশাপাশি টুইটারে তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্যাংগং লেক এবং ডেপসামের ক্ষেত্রেও কি একই পথে হাঁটা হবে? সে ক্ষেত্রে কিন্তু এলএসি নিয়ে ভারতের এত দিনের অনড় অবস্থানের বদল ঘটতে দেখব আমরা।’’

আরও পড়ুন : কেসটা কী? চিন ঢোকেনি? মোদীর মন্তব্যে হতবাক দেশ, ড্যামেজ কন্ট্রোলে কেন্দ্র

প্রাক্তন সেনাকর্তাদের সূর অবশ্য অনেকটাই চড়া। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অজয় শুক্লের মন্তব্য, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কি তবে গলওয়ান নদীর উপত্যকা, প্যাগং লেকের ফিঙ্গার এরিয়া ৪ থেকে ৮-কে চিনের এলাকা বলে স্বীকার করে নিলেন!

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রকাশ মেননের কথায়, ‘‘মোদী বলছেন, কিছুই হয়নি (ভূখণ্ড হারানোর প্রশ্নে)। হায় ঈশ্বর! এ তো হুবহু চিনের কথার প্রতিধ্বনি শুনছি! আমাদের আইনি এবং সাংবিধানিক অবস্থানটা ঠিক কী জানতে চাই। কেউ সাহায্য করুন।’’ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল স্যান্ডি থাপারের আক্ষেপ, ‘‘বিহার রেজিমেন্টের ২০ জন বীর সেনানির বলিদান মুছে ফেলতে ভারত সরকার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা সময় নিল!’’ গলওয়ান সংঘর্ষের পরে বুধবার মোদীর ‘‘মারতে মারতে মরে হ্যায়’’ মন্তব্যকে নিশানা করে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল বীরেন্দ্র ধানোয়ার মন্তব্য, ‘‘জানতে চাই, আমাদের সেনারা কোথায় মারতে মারতে মৃত্যবরণ করলেন।’’

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ফেলেছে চিনও। চিনা সরকারের মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদক টুইটারে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “বিবৃতিই পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে (সংঘর্ষের) ঘটনাবলী ঘটেছিল চিনের মাটিতেই।” মোদীর মন্তব্যকে অস্ত্র করে চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ন শুক্রবারই বলেছিলেন, ‘‘আমরা তো বরাবরই বলছি, গলওয়ান উপত্যকার অবস্থান এলএসি-র পশ্চিমে। ওটা চিনেরই এলাকা।’’ যদিও বীরেন্দ্র ধানোয়ার মতো প্রাক্তন ভারতীয় সেনাকর্তা জানাচ্ছেন, ১৯৬২ সালের যুদ্ধে আকসাই চিন এলাকা পিপলস লিবারেশন আর্মির দখলে গেলেও, গলওয়ান ভারতেরই ছিল।

আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমসে এ দিন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মে ও জুন মাসে এলএসি পেরিয়ে এসে পূর্ব-লাদাখের অন্তত ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিন দখল করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএসি বরাবর ভারত দারবুক-শিয়োক-দৌলত বেগ ওল্ডি সড়ক নির্মাণ করায় ওই অঞ্চলে দ্বিপাক্ষিক সামরিক অসাম্য অনেকটাই কমে এসেছে। আর তাই চিনের এই বেপরোয়া পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন : টানা ১৪ দিন বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম, বাড়ছে চিন্তা, নেই প্রতিবাদ

Gmail 4
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest