প্রয়োজনে যুদ্ধ হবে, লাদাখে চিনা কাঁটার মধ্যে ভারতকে হুমকি নেপালের

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest

ওয়েব ডেস্ক: লাদাখ সীমান্তে চিনের সঙ্গে ভারতের সঙ্ঘাত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তার তার মধ্যেই দীর্ঘদিনের বন্ধু নেপালকেও চটিয়ে ফেলেছে ভারত। ভারতীয় সেনাপ্রধান এমএম নরবণের একটি মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান এমএম নরবণের একটি মন্তব্যে চটেছে নেপাল । উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথের সঙ্গে মানস সরোবরের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তুলতে সড়কপথের উদ্বোধন করেছে ভারত। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছে নেপাল। চিনের মদতেই নেপাল এমন আচরণ করছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন নরবণে।

ভারতের সেনাপ্রধানের সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এ বার ভারতকে বিঁধলেন সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তথা উপ প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখরেল। এমন মন্তব্য করে ভারতীয় সেনাপ্রধান নেপালের গোর্খা সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছেন বলে দাবি করলেন তিনি।

আরও পড়ুন: যুদ্ধ কি আসন্ন? লাদাখে সাঁড়াশি চাপ বাড়াচ্ছে চিনা ফৌজ

পোখরেলের কথায়, ‘‘নেপালের ইতিহাস, সামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং স্বাধীনতা, সবকিছুকে উপেক্ষা করে এমন মন্তব্য করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এমন মন্তব্য করে নেপালের গোর্খা সম্প্রদায়ের জওয়ানদের আবেগেও আঘাত হেনেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান, ভারতের নিরাপত্তার জন্য যাঁরা প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেন।’’

বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমপক্ষে ৪০টি গোর্খা ব্যাটালিয়ন রয়েছে। তার মধ্যে নেপাল থেকে আসা জওয়ানের সংখ্যাই প্রায় ৩০ হাজার। নরবণের মন্তব্যের গোর্খা বাহিনীতে শামিল থাকা তাঁদের পক্ষে অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়াবে বলেও দাবি করেন তিনি।

পোখরেল আরও বলেন, ‘‘সেনাপ্রধান হিসেবে এই ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য কি আদৌ পেশাদারিত্বের পরিচয়? আমাদের এখানে এমন হয় না। নেপালি সেনা কখনও এই ধরনের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে না।’’ ভারতকে বন্ধু দেশ বলে উল্লেখ করলেও, যে সমস্ত এলাকা নেপালের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে আলোচনা চালিয়ে, তা পুনরুদ্ধার করতে হবে বলেও জানান পোখরেল।

উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথের সঙ্গে মানস সরোবরের যোগাযোগ গড়ে তুলতে গত ৮মে একটি নতুন সড়ক পথের উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সঙ্গে  সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় কাঠমান্ডু।

লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধুরাকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে নেপাল। ১৮১৬-র ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, ওই তিন এলাকা-সহ মহাকালী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত বাকি এলাকাও তাদের বলে দাবি করে কাঠমান্ডু । নেপালের এই দাবি ইতিমধ্যেই খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নেপাল একতরফা ভাবে এই মানচিত্র বানিয়েছে, যা ইতিহাসের তথ্যপ্রমাণের পরিপন্থী।

তবে হাল ছাড়তে নারাজ নেপাল সরকার। বরং দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি জানিয়ে দেন, লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধুরা, এই তিনটি এলাকাই নেপালের ভূখণ্ডের অংশ। যে কোনও মূল্যে সেখানে নেপালের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন তিনি। চিনের সঙ্গেও নতুন করে সখ্য বাড়ানোয় উদ্যোগী হয়েছে তাঁর সরকার। ২০১৯-এর অক্টোবরে চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের সফর চলাকালীন দু’দেশের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেই অনুযায়ী সোমবার থেকে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। তিব্বতের শিগাজি হয়ে নেপালে পণ্য ঢুকতে শুরু করেছে।

কূটনৈতিক মহলের অভিযোগ নয়াদিল্লি অযথা নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করছে। এতে আখেরে লাভবান হবে চিন। ভারতের সীমান্ত দেশগুলির সঙ্গে চীন ক্রমশ সম্পর্ক ভালো করছে। পাকিস্তান তো ছিলই। এবার দীর্ঘ দিনের বন্ধু নেপালও চিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। নয়া দিল্লির জন্য তা মোটেও ভালো খবর নয়। আরব মুলুকের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক ভালো রেখেছিল বহু যুগ । কিন্তু নিজামুদ্দিনের ঘটনার পর তারাও নয়া দিল্লির প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের খবর। অনেকের অভিযোগ কেন্দ্র সরকার সংঘের নকশায় চলতে চাইছে। তাতেই নেমে আসছে বিপদ।

নেপালের মেয়ে মণীষা নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে একটি বার্তা দেন। সেখানে নেপালের নতুন মানচিত্রকে স্বাগত জানান তিনি। চিনের ইশারাতেই নেপালের ওই কাজ, এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় ওই ঘটনায়। পাশাপাশি মণীষার ট্যুইটে চিনের অঙুলি বিষয়টি আরও প্রকাশ্যে আসে। অভিনেত্রীর ওই ট্যুইটের পর থেকে জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজস্থানের পর মহারাষ্ট্র, পঙ্গপালের দাপটে ক্ষতির মুখে কয়েক কোটির ফসল

Gmail 3
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
Share on email
Share on reddit
Share on pinterest